Logo

শবে বরাতে বিশেষ নামাজ ও রোজা: শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫১
শবে বরাতে বিশেষ নামাজ ও রোজা: শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি
ছবি: সংগৃহীত

শাবান মাসের ১৫ তারিখকে ঘিরে মুসলমানদের একটি বড় অংশ বিশেষ নামাজ, নফল রোজা ও অতিরিক্ত ইবাদতে মনোযোগী হয়ে ওঠেন। তবে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে প্রচলিত কিছু আমল আদৌ ইসলামে প্রমাণিত কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইসলামি স্কলারদের মতে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে সহিহ হাদিসের মাধ্যমে শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত বা দিনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নামাজ, রোজা কিংবা নির্ধারিত ইবাদতের নির্দেশনা পাওয়া যায় না। অনেক এলাকায় যেভাবে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কিছু আমলকে সুন্নত বা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।

তবে শাবান মাসজুড়ে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার বিষয়টি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের অধিকাংশ দিনই রোজা রাখতেন।

বিজ্ঞাপন

হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন—শাবান মাসে এত বেশি রোজা রাখার কারণ কী? উত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, এটি এমন একটি মাস, যেটি রজব ও রমজানের মাঝখানে হওয়ায় মানুষ সাধারণত অবহেলা করে। অথচ এই মাসেই বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই আমি চাই, আমার আমল রোজাদার অবস্থায় পেশ হোক।

এই হাদিসের আলোকে আলেমরা বলেন, শাবান মাসে সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি নফল রোজা রাখা উত্তম। তবে পুরো মাস টানা রোজা রাখা শরিয়তসম্মত নয়।

এ ছাড়া আলেমরা শাবান মাসে বেশি বেশি দোয়া করার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে সুস্থতা কামনা, রমজান পর্যন্ত পৌঁছানোর তাওফিক চাওয়া এবং রমজানের রোজা ও ইবাদত সুন্দরভাবে আদায়ের জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

শাবান মাসের ১৫ তারিখের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ নামাজ বা রোজা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত না হলেও অনেক মুসলমান এই রাতে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় মগ্ন থাকেন। এতে বাধা নেই, যদি তা সাধারণ নফল ইবাদত হিসেবে আদায় করা হয়।

এছাড়া ১৪ শাবান দিবাগত রাতের পর ১৫ তারিখে আইয়ামে বীজের নফল রোজা রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “হে আবু যার! তুমি যখন মাসে তিন দিন রোজা রাখবে, তখন ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখবে।” (তিরমিজি, নাসাঈ, মিশকাত)

বিজ্ঞাপন

শবে বরাতে নফল নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রেও কোনো বিশেষ নিয়ম, রাকাত সংখ্যা বা আলাদা নিয়ত নির্ধারিত নেই। অন্যান্য দিনের মতো সাধারণ নিয়মেই নফল নামাজ আদায় করতে হবে। এ রাতের জন্য বিশেষ কোনো পদ্ধতি বা নিয়ত নির্ধারণ করলে তা বিদয়াত হিসেবে গণ্য হবে। কারণ, রাসুলুল্লাহ (সা.) শবে বরাতে নির্দিষ্ট কোনো নামাজের নিয়ম বর্ণনা করেননি।

জেবি/আরএক্স
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD