এবার কোন দেশে কত ঘন্টা রোজা

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য আবারও ফিরে আসছে সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস রমজান। ২০২৬ সালে এই পবিত্র মাস শুরু হতে পারে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রমজান ২৯ অথবা ৩০ দিন স্থায়ী হবে। এই সময় মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থাকবেন। ভৌগোলিক অবস্থানভেদে রোজার দৈর্ঘ্য ১২ ঘণ্টা থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও ১৬ ঘণ্টারও বেশি হতে পারে।
কবে শুরু হতে পারে রমজান : জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলে ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রমজান শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। সে অনুযায়ী চাঁদ দেখা গেলে ২০ মার্চ (শুক্রবার) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে রমজান শুরু হচ্ছে উত্তর গোলার্ধে শীতের শেষভাগ ও বসন্তের শুরুতে। ফলে দিনের দৈর্ঘ্য তুলনামূলক কম থাকবে, যা রোজা পালনের ক্ষেত্রে অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। মাসের শুরুতে রোজার সময় কম হলেও ধীরে ধীরে শেষের দিকে তা কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।
মধ্যপ্রাচ্যে রোজার সময় : আরব বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ২০২৬ সালের রমজানে প্রতিদিন রোজার সময় হবে গড়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা। সাম্প্রতিক কয়েক বছরের তুলনায় এই সময়কে মাঝামাঝি ও সহনীয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞাপন
মিসরের রাজধানী কায়রোতে রমজানের শুরুতে রোজার সময় হতে পারে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, যা মাসের শেষদিকে গিয়ে ১৩ ঘণ্টার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। শীতল আবহাওয়া থাকায় রোজা পালনে বাড়তি কষ্টের আশঙ্কা কম।
একই ধরনের সময়সূচি দেখা যাবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে। শহরভেদে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে সামান্য পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে এসব দেশে রোজার সময় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
লেভান্ট ও উত্তর আফ্রিকার পরিস্থিতি: লেভান্ট অঞ্চল—যার মধ্যে রয়েছে জর্ডান, ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়া—এবং ইরাকেও রোজার সময় প্রায় একই রকম থাকবে। উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো যেমন মরক্কো, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ায় সূর্যাস্তের সময় ও দ্রাঘিমার কারণে কিছুটা তারতম্য দেখা গেলেও রোজার দৈর্ঘ্য মোটামুটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছাকাছিই থাকবে।
বিজ্ঞাপন
ইউরোপ ও আমেরিকায় রোজা কত দীর্ঘ: আরব বিশ্বের তুলনায় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কিছু অঞ্চলে রোজার সময় কিছুটা বেশি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে রমজানের শুরুতে রোজার সময় হতে পারে প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টা, যা মার্চের শুরুতে গিয়ে ১৩ ঘণ্টা বা তার কিছু বেশি হতে পারে।
যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে উচ্চ অক্ষাংশের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য আরও বেশি হওয়ায় রোজার সময় মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় দীর্ঘ হবে। তবে ২০২৬ সালে তা খুব চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞাপন
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে রোজার সময় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। আর উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড কিংবা আইসল্যান্ডের মতো অঞ্চলে কোনো কোনো বছরে রোজা রাখতে হয়েছে ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময়। আবার কখনো কখনো দিনের দৈর্ঘ্য খুব কম হয়ে যাওয়ায় রোজার সময় অস্বাভাবিকভাবে ছোটও হয়েছে।
চরম পরিস্থিতিতে কীভাবে রোজা রাখা হয়: যেসব এলাকায় দিনের দৈর্ঘ্য অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত হয়, সেখানে অনেক মুসলমান ইসলামি আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী নিকটবর্তী কোনো মাঝামাঝি অঞ্চলের সময়সূচি অথবা মক্কার সময় অনুসরণ করে রোজা পালন করেন।
ভারসাম্যপূর্ণ এক রমজানের প্রত্যাশা: সব দিক বিবেচনায় বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৬ সালের রমজান বিশ্বের অধিকাংশ মুসলমানের জন্য তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ হবে। রোজার সময় মাঝারি হওয়া এবং আবহাওয়া সহনীয় থাকায় ইবাদত-বন্দেগি সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








