মাত্র ১১০ দিনেই কোরআনের হাফেজ ১২ বছরের দ্বীন ইসলাম

পটুয়াখালীতে মাত্র তিন মাস ২০ দিন, অর্থাৎ ১১০ দিনের মধ্যেই পবিত্র কোরআন হিফজ করে আলোচনায় এসেছে ১২ বছর বয়সী শিশু দ্বীন ইসলাম। সে সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার জামিয়া রহিমিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী। অল্প সময়ের মধ্যে কোরআন হিফজ সম্পন্ন করায় তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৮ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মো. আমির হামযা।
আরও পড়ুন: আজ ১৭ রমজান, ঐতিহাসিক বদর দিবস
তিনি বলেন, দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী একজন ছাত্র। মাত্র ১১০ দিনের মধ্যেই সে সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ হিফজ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য শিশুরা যখন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকত, তখন সে কোরআন নিয়ে পড়াশোনায় মন দিত। অনেক সময় একদিনেই ১০ পৃষ্ঠা এমনকি এক পারা পর্যন্ত মুখস্থ করত। শিক্ষক হিসেবে তার এই অগ্রগতি দেখে তিনি বিস্মিত ও আনন্দিত। তার মতে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নেয়ামত।
বিজ্ঞাপন
দ্বীন ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান। তার বাবা ইয়াকুব শিকদার পেশায় একজন রিকশাচালক। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য পরিবারটি সবসময় চেষ্টা চালিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প ছিল ইয়াকুব শিকদারের। সেই স্বপ্নেরই এক উজ্জ্বল প্রতিফলন দ্বীন ইসলামের এই অর্জন। দ্বীন ইসলাম এখন অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা।
স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষার্থী এবাদুল ইসলাম বলেন, আমিও পাশের মাদরাসায় ১ বছর ধরে পড়ছি। দ্বীন ইসলাম অল্প সময়েই কোরআনের হাফেজ হয়েছে, আমরাও তার মত হতে চাই।
বিজ্ঞাপন
দ্বীন ইসলামের দাদা মো. আবু বকর শিকদার বলেন, আমার নাতি খুব অল্প সময়ে হাফেজ হইছে। আমরা অনেক খুশি। ও যেন দ্বীনের খেদমত করতে পারে এজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।
দ্বীন ইসলামের মা সালমা বেগম বলেন, তিনি মানুষের বাসায় কাজ করেন এবং তার স্বামী রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। ছোটবেলা থেকেই তাদের ইচ্ছা ছিল ছেলেকে কোরআনের হাফেজ বানানোর। অনেক সময় কষ্ট করে, না খেয়ে থেকেও ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। আজ ছেলের এই সাফল্যে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি চান, দ্বীন ইসলাম বড় হয়ে একজন ভালো আলেম হোক এবং মানুষের উপকারে আসুক।
বিজ্ঞাপন
বাবা ইয়াকুব শিকদার বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন তিনি। সারাদিন রিকশা চালিয়ে উপার্জন করে সেই টাকা দিয়েই ছেলেকে পড়িয়েছেন। বর্তমানে সংসারে কিছুটা অভাব চলছে। তার রিকশার ব্যাটারিও নষ্ট হয়ে গেছে, টাকার অভাবে সেটি ঠিক করতে পারছেন না। তবে যত কষ্টই হোক, ছেলের পড়াশোনা কখনো বন্ধ করবেন না বলেও দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন তিনি।








