সৌদি আরবের একদিন পর কেন বাংলাদেশে ঈদ উদযাপন হয়?

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। তবে প্রায়ই দেখা যায়, সৌদি আরবে যখন ঈদ উদযাপিত হয়, তখন বাংলাদেশে তা একদিন পর পালন করা হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ পার্থক্য নিয়ে অনেক প্রশ্ন ও কৌতূহল দেখা যায়। এর মূল কারণ ভৌগোলিক অবস্থান, চাঁদ দেখার পদ্ধতি এবং শরিয়াহভিত্তিক সিদ্ধান্ত।
বিজ্ঞাপন
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী রমজান মাস শেষ হওয়ার প্রমাণ হলো নতুন চাঁদ দেখা। হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা শুরু করবে এবং চাঁদ দেখে রোজা শেষ করবে।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম) এই নির্দেশনার আলোকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের আকাশে চাঁদ দেখা অনুযায়ী ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে।
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে চাঁদ একসঙ্গে দেখা যায় না। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের পশ্চিমে অবস্থিত। ফলে সেখানে নতুন চাঁদ অনেক সময় আগে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: ঈদুল ফিতর কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে বাংলাদেশ পূর্ব দিকে হওয়ায় একই দিন চাঁদ দেখা নাও যেতে পারে। এই সময় পার্থক্য প্রায় ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা এবং চাঁদের পর্যাপ্ত কোণ তৈরি হতে প্রায় ১৮–২০ ঘন্টা সময় লাগে। এই কারণে সৌদি আরবের ঈদ ঘোষণা ও বাংলাদেশের চাঁদ দেখা মাঝে একদিনের ব্যবধান দেখা যায়।
বাংলাদেশে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে সরকারি সংস্থা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এই কমিটি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদ দেখার খবর সংগ্রহ করে এবং শরিয়াহ অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়। যদি বাংলাদেশের কোথাও নতুন চাঁদ দেখা যায়, তবে পরদিন ঈদ ঘোষণা করা হয়। না হলে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হয়।
অনেকেই প্রশ্ন করেন, সৌদি আরব ইসলামের পবিত্র ভূমি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ কেন তাদের ঘোষণা অনুসরণ করে না। ইসলামী ফিকহের অধিকাংশ আলেমের মতে, প্রত্যেক অঞ্চলের চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই ঈদের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। এক অঞ্চলে চাঁদ দেখা গেলেও অন্য অঞ্চলে তা দেখা নাও যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর কবে?
কিছু বছর বাংলাদেশ ও সৌদি আরব একই দিনে ঈদ উদযাপন করে, যদি আকাশ ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুকূলে থাকে। মুসলিম উম্মাহ চন্দ্র বর্ষ অনুযায়ী এই ধর্মীয় উৎসব পালন করে, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উদযাপনের মূল দিন এক হলেও টাইমজোনের পার্থক্যের কারণে কখনও সৌর সময় ও চন্দ্র সময় আপাতদৃষ্টিতে ভিন্ন মনে হয়।
বাংলাদেশে সৌদি আরবের একদিন পর ঈদ উদযাপনের মূল কারণ হলো চাঁদ দেখার বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় প্রক্রিয়ার মিলিত প্রভাব। ভৌগোলিক অবস্থান, স্থানীয় চাঁদ দেখা এবং শরিয়াহর নির্দেশনাকে প্রাধান্য দেওয়াই নিশ্চিত করে বাংলাদেশের মুসলমানরা সঠিকভাবে ঈদ পালন করছেন।








