Logo

সঠিক সময়ে নামাজ আদায় কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৭
সঠিক সময়ে নামাজ আদায় কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
ছবি: সংগৃহীত

নামাজ কেবল একটি ইবাদত নয়; বরং এটি মুমিনের জীবনব্যবস্থার শৃঙ্খলা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্কের মূল ভিত্তি। কোরআন ও হাদিসে বারবার নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন—মুমিনদের জন্য নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইসলামী শরিয়তে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ১০৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও একাধিক হাদিসে সময়মতো নামাজ আদায়ের ফজিলত ও গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

নবীজি (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি যথাযথভাবে ও অবহেলা ছাড়া নামাজ আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আর যে ব্যক্তি নামাজে গাফিলতি করবে, তার ব্যাপারে আল্লাহর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত—তিনি চাইলে শাস্তি দেবেন, চাইলে ক্ষমা করবেন।

বিজ্ঞাপন

একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সামনে নামাজের গুরুত্ব বোঝাতে একটি উপমা দেন। তিনি বলেন, ধরো তোমাদের বাড়ির সামনে একটি স্বচ্ছ নদী রয়েছে, যেখানে তোমরা দিনে পাঁচবার গোসল করছো—তাহলে কি শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে? সাহাবিরা উত্তর দিলেন, না। তখন তিনি বললেন, ঠিক তেমনভাবেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষের গুনাহ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে দেয়।

আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষকে গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং পাপ মোচনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুনাফিক ও মুমিনের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে ফজর ও এশার নামাজে—কারণ এই দুই নামাজ মুনাফিকদের কাছে সবচেয়ে ভারী মনে হয়।

নামাজের মর্যাদা বোঝাতে হাদিসে এসেছে, আল্লাহর কাছে যদি নামাজের চেয়ে প্রিয় কোনো ইবাদত থাকত, তবে তা ফেরেশতাদের জন্য নির্ধারিত হতো। কিন্তু বাস্তবে ফেরেশতারা কেউ রুকুতে, কেউ সিজদায়, কেউ কিয়ামে—নামাজের বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়ে আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত থাকেন।

বিজ্ঞাপন

সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি উত্তমভাবে অজু করে নামাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়, সে প্রতিটি কদমে একটি নেকি লাভ করে এবং একটি গুনাহ মাফ হয়ে যায়। এ কারণেই দূর থেকে মসজিদে আগত ব্যক্তির সওয়াব বেশি।

হাদিসে আরও বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন মানুষের আমলনামা যাচাইয়ের সময় সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। নামাজ ঠিক থাকলে অন্যান্য আমলও গ্রহণযোগ্য হবে, আর নামাজে ঘাটতি থাকলে অন্য আমল গ্রহণের বিষয়েও শঙ্কা থেকে যাবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজকে একজন ব্যবসায়ীর পুঁজির সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেমন পুঁজি ছাড়া লাভ সম্ভব নয়, তেমনি ফরজ নামাজ আদায় ছাড়া নফল ইবাদতের পূর্ণ সওয়াবও অর্জন করা যায় না।

বিজ্ঞাপন

আরেক হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি যথাসময়ে নামাজ আদায় করে, সঠিকভাবে অজু করে, খুশু-খুজুর সঙ্গে রুকু ও সিজদা সম্পন্ন করে—তার নামাজ উজ্জ্বল আলো হয়ে উঠে বলে, “আল্লাহ তোমার যত্ন নিন, যেমন তুমি আমার যত্ন নিয়েছ।” আর যে ব্যক্তি অবহেলা করে নামাজ আদায় করে, তার নামাজ অন্ধকার হয়ে ফিরে এসে তাকে তিরস্কার করে।

নবীজি (সা.) আরও বলেন, একাকী নামাজের তুলনায় জামাতে নামাজ আদায়ের সওয়াব ২৭ গুণ বেশি। এশার নামাজ জামাতে আদায় করলে অর্ধরাত ইবাদতের সওয়াব এবং ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করলে পুরো রাত ইবাদতের মর্যাদা লাভ হয়।

বিজ্ঞাপন

সবশেষে বলা যায়, নির্ধারিত সময়ে ও জামাতে নামাজ আদায় মুমিনের ঈমানকে দৃঢ় করে, চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করে এবং ব্যক্তি ও সমাজ—উভয় জীবনকে আলোর পথে পরিচালিত করে।

জেবি/আরএক্স
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD