রমজানের প্রথম জুমা আজ, ফজিলতময় এই দিনের করণীয় আমল

পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম জুমা আজ (২০ ফেব্রুয়ারি)। রহমতের দশকের দ্বিতীয় রোজায় পড়েছে এই বরকতময় জুমা, যা মুসলমানদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বিজ্ঞাপন
ইসলামে জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পবিত্র কোরআনে ‘সুরা জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জুমার দিন নামাজের আহ্বান জানানো হলে আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ধাবিত হতে এবং কেনাবেচা বন্ধ রাখতে। (আয়াত: ৯-১০)
অন্যদিকে রমজান মাস ইসলামের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাস শুধু রোজা পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইবাদত, তাওবা ও আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ সুযোগ। হাদিসে বর্ণিত আছে, রমজানে একটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব ৭০টি ফরজের সমান এবং একটি নফল ইবাদতের সওয়াব একটি ফরজের সমান হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান—মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মোচন করে, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৩)
আরেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে, উত্তম পোশাক পরিধান করে, মসজিদে গিয়ে কাউকে কষ্ট না দিয়ে নামাজ আদায় করে এবং খুতবার সময় নীরব থাকে—তার এ জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯১০)
হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন বান্দা যা দোয়া করে আল্লাহ তা কবুল করেন। এই সময়টি আছরের পরের শেষাংশে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। (আবু দাউদ, নাসাঈ)
বিজ্ঞাপন
রমজানের ফজিলত প্রসঙ্গে হাদিসে আরও এসেছে, এ মাসে ইবাদতের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই রমজানের জুমা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল:
১. পরিচ্ছন্নতা ও প্রস্তুতি: গোসল, মিসওয়াক বা দাঁত পরিষ্কার করা, সুগন্ধি ব্যবহার ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা।
বিজ্ঞাপন
২. আগেভাগে মসজিদে উপস্থিতি: খুতবার আগে মসজিদে পৌঁছানোর চেষ্টা করা এবং ইমামের নিকটে বসা। তবে অন্যদের ডিঙ্গিয়ে সামনে না যাওয়া।
৩. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা: খুতবার সময় কথা না বলা এবং মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা।
৪. দোয়া ও ইবাদতে মনোযোগ: আছরের পর বিশেষ সময় দোয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং বেশি বেশি জিকির করা।
বিজ্ঞাপন
রমজানের প্রথম জুমা মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। যথাযথ আমলের মাধ্যমে এ দিনের ফজিলত অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।








