রমজান কারিম না রমজান মোবারক, কোনটি বলা উত্তম?

রমজান মাস এলে মুসলিমরা বন্ধু, সহকর্মী ও প্রতিবেশীদের শুভেচ্ছা জানান ‘রমজান কারীম’ ও ‘রমজান মুবারক’ বলে। অনেকেই মনে করেন—দুটি শব্দের মধ্যে কোনটি সঠিক? ভাষাবিদদের মতে, দুটিই শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য; তবে অর্থ ও আবহে রয়েছে সূক্ষ্ম পার্থক্য।
বিজ্ঞাপন
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Gulf News-কে দেওয়া এক ব্যাখ্যায় দুবাইয়ের ভাষাবিশেষজ্ঞ খালেদ বুদেমাগ বলেন, শুভেচ্ছা জানানোর ধরন দেশ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। যেমন ফ্রান্সে বলা হয় ‘বোঁ রমাদঁ’—অর্থাৎ শুভ রমজান। তবে আমিরাত ও বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত দুটি অভিব্যক্তির প্রত্যেকটিরই আলাদা অর্থ ও আবহ রয়েছে।
রমজান মোবারক অর্থ বরকতপূর্ণ রমজান। এই অভিবাদনের মাধ্যমে রোজাদারকে বরকত, রহমত, মাগফিরাত ও আত্মশুদ্ধির কামনা জানানো হয়। রমজানের শুরুতে শব্দটি বেশি বলা হলেও পুরো মাসজুড়েই শব্দটি ব্যবহার করা যায়।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে রমজান কারীম অর্থ দানশীল বা উদার রমজান। এর সুর কিছুটা হালকা ও আনন্দঘন। রমজানের দয়া ও উদারতার চেতনাকে সম্মান জানিয়ে এই শুভেচ্ছা বার্তাটি ব্যবহার করা হয়। অনেকের কাছে এটি হ্যাপি রমজানের সমার্থকবোধক। এই শব্দটিও রমজানের শুরুর দিকে ও পুরো রমজান ব্যবহার করেন মুসলিমরা।
রমজান শুরুর আগ থেকেই শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হলেও চাঁদ দেখার পর তা আরও বেড়ে যায়। পবিত্র রমজান-এর চাঁদ দেখার সন্ধ্যা থেকেই মূলত ‘রমজান মুবারক’ ও ‘রমজান কারীম’ বলার প্রচলন ব্যাপক হয়।
বিজ্ঞাপন
রমজান মাস শেষে আসে খুশির দিন ঈদুল ফিতর। তখন শুভেচ্ছা বদলে হয়ে যায় ‘ঈদ মোবারক’। অনেকেই এ সময় প্রার্থনা করেন—আগামী বছরটিও যেন কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে।
সূত্র : গালফ








