Logo

বেলায়েতে নবুয়ত ও কামালাতে নবুয়তের তুলনামূলক আলোচনা

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৫ জুলাই, ২০২৬, ১৯:২৭
বেলায়েতে নবুয়ত ও কামালাতে নবুয়তের তুলনামূলক আলোচনা
ছবি: জনবাণী।

খোদাপ্রাপ্তি জ্ঞানের আলোকে শাহ্সূফি হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কূঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত ‘বেলায়েতে নবুয়ত ও কামালাতে নবুয়ত بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ বেলায়েতে নবুয়ত ও কামালাতে নবুয়তের তুলনামূলক আলোচনাঃ

বিজ্ঞাপন

পবিত্র হাদীসে কুদসী হইতে জানা যায় যে, আল্লাহপাক বলেন,

لَا يَسْعُنِي أَرْضِي وَلَا سَمَاءِ وَلَكِنْ يَسْعُنِي قَلْبُ عَبْدِي الْمُؤْمِنِ.

অর্থাৎ-আসমান এবং জমীনের কোথাও আমার সংকলান হয় না মোমেন বান্দার দেল বা কালব ব্যতীত।

বিজ্ঞাপন

আর একটি হাদীস শরীফ হইতে জানা যায়, রাসূলে করীম (সাঃ) বলেন,

إِنَّ فِي جَسَدِ الْإِنْسَانِ لَمُضْغَةً وَ إِذَا صَلُحَتْ صَلْحَ الْجَسَدَ كُلُّهُ وَ إِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدَ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ

অর্থাৎ-মানুষের শরীরের মধ্যে এক টুকরা মাংসপিন্ড আছে যাহা সুস্থ হইলে সারা দেহ সুস্থ হয় এবং যাহা খারাপ হইলে সারাদেহ অসুস্থ হয়, এই মাংসপিন্ডটিই হইল কালব।

বিজ্ঞাপন

উপরোক্ত প্রথম হাদীস পাক যাহা বেলায়েতে ছোগরা স্তরের ছালেকের সহিত জড়িত। কিন্তু বর্ণিত দ্বিতীয় হাদীস শরীফ যাহা কামালাতে নবুয়তের মাকামে উন্নীত ছালেকের অবস্থার সহিত জড়িত। বেলায়েত ও নবুয়ত, বিশেষতঃ বেলায়েতে নবুয়ত ও কামালাতে নবুয়ত খোদাপ্রাপ্তির পথে উচ্চতর দুই মাকাম; যাহা আধ্যাত্মিক জগতের দুই সমুদ্র তুল্য। বেলায়েতে নবুয়ত প্রসংগে কিছু বলিবার পূর্বে বেলায়েতে আউলিয়া প্রসংগে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। বেলায়েত অর্থ খোদাতায়ালা ভিন্ন সমস্ত কিছু ভুলিয়া এক আল্লাহতেই নিমগ্ন থাকা বা তন্ময় থাকা। খোদাতালাশী ব্যক্তি খোদা প্রাপ্তির পথে আপন পীরের নির্দেশিত পথে চেষ্টা, সাধনা, কঠোর রেয়াযত এবং জেকের-আজকার করিতে করিতে ধীরে ধীরে দেহের সমস্ত লাতিফাতে স্পন্দন অনুভব করে। এই স্পন্দন আল্লাহ নামের স্পন্দন। এক পর্যায়ে ছালেক তাহার দেহের তেত্রিশ কোটি লতিফাতে এই জেকেরের স্পন্দন অনুভব করে। শুধু যে দেহের কোটি কোটি লতিফার জেকের সে শুনিতে পায় তাহা নহে বরং বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের অনু-পরমাণু হইতে যে আল্লাহ নামের জেকের হইতেছে তাহাও সে শুনিতে পায়। ইহা সুলতানুল আজকারের পর্যায় যাহা ছালেক দায়েরায়ে এমকানে বা খোদাপ্রাপ্তির পথে প্রথম দায়েরাতে উপলব্ধি করিতে পারে। ইহার পরই ছালেক তাহার দেহরূপ খাঁচা হইতে বাহির হইয়া যে নূরময় জগতে ছায়ের করে তাহাই বেলায়েতে ছোগরা। ইহা আল্লাহ পাকের আসমা ও সিফাতের প্রতিবিম্বের জগত। এখানে মনোমুগ্ধকর বহু নূর বা জ্যোতি বিদ্যমান। এই দায়েরাতে ছালেক খোদা ভিন্ন সব কিছুই ভুলিয়া যাইতে সক্ষম হয়। এখানে সিফাতে হাকীকী ও সিফাতে এজাফিয়া একত্রে মিলিয়া নূরের এক বিশাল সমুদ্র তৈরী করে, যে সমুদ্রের মধ্যে ছালেকের দৃষ্টিতে খোদাতায়ালার নূর ভিন্ন আর কিছুই দৃষ্ট হয় না। নূরের সেই বিশাল সমুদ্রে ছালেক নিজেকে এবং সমস্ত বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকে নিমজ্জিত দেখে। এই তেজস্কর নূরে ছালেকের কখনও কখনও মতিভ্রম হয়, বুদ্ধি বৈকল্য দেখা দেয়। ভাবউন্মত্তাহেতু অনেক সময়ই ছালেক শরীয়ত বিরোধী অনেক কথা বলিয়া ফেলে। প্রতিবিম্বের দায়েরা হেতু এই মাকামে ছালেক খোদাতায়ালার প্রকৃত সান্নিধ্য লাভ করিতে পারে না। খোদাতায়ালার সত্যিকারের সান্নিধ্য হাছিল হয় পরবর্তী দায়েরা বেলায়েতে নবুয়তে, যাহা আকরাবিয়াত হইতে শুরু।।

এই বেলায়েতে ছোগরার দায়েরাতে ছালেক আল্লাহপাকের আসমা ও সিফাতের প্রতিবিম্বের নূরে বিলীন হয় বা ফানা লাভ করে এবং তাহার কালব হইতে খোদাতায়ালা ভিন্ন সবই দূরীভূত হয়। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহপাক বলেন যে, আসমান জমীন কোথাও আমার সংকুলান হয় না। আমার সংকুলান হয় একমাত্র মোমেন বান্দার দেলে। এখানে যে মোমেনের কালবে আল্লাহর সংকুলানের কথা বলা হইয়াছে, তাহা হইল ছোগরাস্থিত ছালেকের দেল; যে দেলে খোদাভিন্ন সবই অনুপস্থিত। এই দায়েরাতে ছালেকের দেল পবিত্র হয় কিন্তু দেহ পবিত্র হয় না। রাসূলে করীম (সাঃ) দেহের যে মাংসপিন্ড বা কালবের কথা উল্লেখ করিয়াছেন, যাহা পরিস্কার হইলে সারা দেহ পরিস্কার হয় এবং যাহা অপরিস্কার থাকিলে সারা দেহ অপরিস্কার থাকে, সেই কালব বেলায়েতে আউলিয়া বা ছোগরাস্থিত ছালেকের কালব নয়। এই কালব আরও ঊর্ধ্বে, বহু ঊর্ধ্বে কামালাতে নবুয়তের দায়েরাতে উন্নীত ছালেকের কালব। যেখানে ছালেকের শুধু কালব নয়, সমস্ত দেহ তথা দেহের সকল উপাদান আল্লাহতায়ালার দায়েমী তাজাল্লীতে পাক হয়। এই স্তরের কালবকে মোদ্গা বলা হয়। আসলে আম্বিয়া (আঃ) গণের দেলকে মোদগা বলে। আর ওলী-আল্লাহদের দেলকে কালব বলে। তবে নবী করীম (সাঃ) এর অনুসরণের মাধ্যমে কিছু কিছু কামেল ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে কালবের এক উন্নত অবস্থা প্রাপ্ত হন যাহা মোদগাতুল্য।

বেলায়েতে আউলিয়ার যেখানে শেষ সেখান হইতেই বেলায়েতে নবুয়তের শুরু। বেলায়েতে নবুয়তের যেখানে শেষ, সেখান হইতেই কামালাতে নবুয়তের শুরু। বেলায়েতে নবুয়ত, বেলায়েতে কোবরা নামেও পরিচিত। ইহা আকরাবিয়াত হইতে শুরু করিয়া মহব্বতে আওয়াল, মহব্বতে ছানী ও অর্ধ দায়েরা কাওছ-এই সাড়ে তিন অধ্যায়ে বিভক্ত। আকরাবিয়াত-যাহা প্রেমের বা মহব্বতের সিংহ দরজা বলিয়া পরিচিত। এখানে ছালেকের রূহ পীরের রূহের সহিত বিলুপ্ত হয় এবং পীরের রূহু পূর্বেই রাসূলে করীম (সাঃ) রূহে বিলুপ্ত থাকে। ফলে ছালেকের রূহ, মোর্শেদে কামেলের রূহ এবং রাসূলে পাক (সাঃ) এর রূহ একাকার হইয়া নদীর স্রোতে পতিত কাষ্ঠখন্ডের মত ফয়েজে বর্কীর ধাক্কায় আল্লাহপাকের জাতপাকের সমুদ্রে ফানা প্রাপ্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

এখান হইতে সামনে যাহা অগ্রসর হয় তাহা হইল মুরীদের আত্মার কায়া বা রূহে বেমেছালীর ছুরত। যাহা পূর্বেই আপন পীরে কামেলের রূহে বেমেছালি ছুরতের সহিত বিলুপ্ত থাকে এবং পীরের রূহে বেমেছালি ছুরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর ছুরতে রূহে বেমেছালির সহিত বিলুপ্ত থাকে। তবে আকরাবিয়াতের অধ্যায়ে খোদাতায়ালার আসমা ও সিফাতের নূর ছালেকের রূহ হইয়া নাফস তথা সারা শরীরে পড়ে। এই অধ্যায়ে মুরীদের রূহ আল্লাহপাকের সিফাতে এরাদতে বিলুপ্ত হয়। আকরাবিয়াতের অধ্যায়ে ছালেকের মনে হয় যে আসমা ও সিফাতের নূরের ফয়েজান এক ইষৎ নীল বর্ণের পর্দা হইতে বাহির হইয়া আল্লাহপাকের সমুদয় জাতকে বেষ্টন করিয়া সমস্ত সৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করিয়া রহিয়াছে।

মহব্বতে আওয়ালের অধ্যায়ে ছালেকের আত্ম-প্রতিকৃতি বা আত্মার কায়া বা রূহে বেমেছালি ছুরত উপরে কথিত নীল পর্দা ভেদ করিয়া আরও সম্মুখে এক অনাদী অনন্ত সীমাহীন জ্যোতির্ময় প্রান্তরের মধ্যে প্রবেশ করে। এই প্রান্তরের প্রথম ভাগই মহব্বতে আওয়াল। এইখানে সদাই এক অবর্ণনীয় নূরের তুফান প্রবাহিত হইতেছে। যাহার কোন উপমা নাই। এই অধ্যায়ে ছালেক খোদাতায়ালার প্রেমে এমনিই মাতোয়ারা হয় যে, সদা সর্বদা খোদাতায়ালার এই প্রেম সমুদ্রে সে সাঁতার কাটিতে থাকে। দুনিয়ার দিকে তাহার আর কোন খেয়াল থাকে না। ছালেক আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হইয়া মোলহেমার পর্যায়ে উন্নীত হয়। তৎপর মহব্বতে ছানীর অধ্যায়ে ছালেক যে ফয়েযান প্রাপ্ত হয় তাহা তাহার নিকট পূর্বের ফয়েজান হইতে অধিক স্বচ্ছ এবং আনন্দদায়ক মনে হয়। (উল্লেখ্য যে, নসিহতসমূহের ৭ম খন্ডে 'মাকাম-মঞ্জিল' অধ্যায়ে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হইয়াছে। কিন্তু প্রাসংগিক বিধায় এখানেও কিছু আলোচনা করা হইতেছে।)

তৎপর কাওছ বা বেলায়েতে নবুয়তের শেষ দায়েরাতে ছালেকের আত্মার কায়া বা আত্ম-প্রতিকৃতি বিদ্যুতের বেগে আল্লাহর জাতে বিলুপ্ত হয়। ইহার পরে এই মাকামে ছালেক তাহার নিজ শরীরের মত একটি কায়া আল্লাহতায়ালার নূরে নিমগ্ন দেখে। এই শরীরকে খোদাদত্ত শরীর বা 'ওজুদ মাওহুব লাহু' বলা হয়। এখান হইতে ঊর্ধ্বে যাহা ছায়ের করে, তাহা ছালেকের ওজুদ মাওহুব লাহু। এখান হইতে কামালাতের দায়েরাসমূহ, হকিকতে এলাহিয়া ও হকিকতে আম্বিয়ার দায়েরাসমূহে ছায়ের করিয়া ছালেকের ওজুদ মাওহুব লাহু বা খোদাদত্ত শরীর তাইনে আওয়ালের প্রান্ত রেখায় পৌছাইয়া পবিত্র জাত মোজাররাদার দর্শনকারী হিসেবে দাঁড়াইয়া থাকে।

বিজ্ঞাপন

এ নসিহতের আলোচ্য বিষয় মূলতঃ বেলায়েতে নবুয়ত ও কামালাতে নবুয়তের তুলনামুলক আলোচনা এবং খোদা প্রাপ্তির পথে এই দুই উচ্চতর মাকামের গুরুত্ব, মাহাত্য ও অপরিহার্যতা বর্ণনা করা। আলোচনার শুরুতে এতক্ষণ বেলায়েতে আউলিয়া ও বেলায়েতে নবুয়তের এক সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলিয়া ধরা হইল। বেলায়েতে নবুয়তের পরবর্তী

দায়েরাকে বলা হয় বেলায়েতে উলিয়া: যাহা ফেরেশতাদের খাস বেলায়েত। এই দায়েরাতে ছালেকের উপর পতিত নূরের দ্বারা ছালেকের দেহের আগুন, পানি ও বাতাসের স্তর পাক হয়। মাটির স্তর পাক হয় পরবর্তী দায়েরা যাহাকে কামালাতে নবুয়তের দায়েরা বলে। সৃষ্টি জগতের মধ্যে আল্লাহপাক মাটির তৈরী মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা প্রদান করিয়াছেন। সর্বশ্রেষ্ঠ মানব নবী করীম (সাঃ) এবং অন্যান্য সকল নবী (আঃ) গণও মাটির দেহধারী ছিলেন। কালেব বা মানব শরীর যতক্ষণ না পাক হইবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোন মানব নবী হওয়ার যোগ্যতা প্রাপ্ত হন না। সকল নবী (আঃ) গণ মানব সমাজকে খোদাতায়ালার দিকে আহবান করিয়াছেন। নবুয়ত শেষ হওয়ার কারণে কোন নবী দুনিয়ায় আর আসিবেন না। নবুয়তের উপাধী বা পদবী আল্লাহপাক তুলিয়া লইলেও নবুয়তের কামালাতকে দুনিয়ায় জারী রাখিয়াছেন। রাসূলে করীম (সাঃ) এর উম্মতের মধ্যে কিছু কিছু উম্মত অনুসরণ ও উত্তরাধিকার হিসাবে নবুয়তের কামালাতের জ্ঞান প্রাপ্ত হন। আসলে আল্লাহপাক কিছু কিছু লোককে খাস করিয়া লন সাধারণ লোকদের হেদায়েত করিবার জন্য। যাহাদিগকে খাছ করিয়া লওয়া হয়, তাহাদেরকেই এই অপূর্ব জ্ঞান দান করা হয়। এই জ্ঞান প্রাপ্ত হইয়া ছালেক দুনিয়ায় আসিয়া সাধারণ মানুষকে খোদাতায়ালার দিকে আহবান করে।

বেলেয়েতের হিসেবে খাস ফেরেশতা খাস মানব হইতে শ্রেষ্ঠ। কারণ বেলায়েতে উলিয়া যাহা ফেরেশতাদের খাস মাকাম তাহা বেলায়েতে নবুয়তের চেয়ে উর্ধ্বে অবস্থিত। কিন্তু মানুষই আশরাফুল মাখলুকাত কারণ নবুয়তের কামালাতের রাস্তায় মানুষ ফেরেশতাদের মাকাম থেকে বহু, বহু ঊর্ধ্বে আল্লাহতায়ালার নাম গুণ, শান ও শয়ুনাতের শেষ প্রান্তে প্রেমসাগরের গভীরতম প্রদেশ হোব্বে ছেরফার মাকামে উন্নীত হইয়া খোদাতায়ালার সন্দর্শনে বিমল আনন্দ লাভ করে। সেখান হইতে ওজুদ মাওহুব লাহুর কুওতে নজরীয়ার ছায়ের দ্বারা জাত মোজাররাদার জ্ঞানও মানুষ লাভ করিতে সক্ষম। এই সকল উচ্চতর মাকামসমূহের সন্ধান লাভের কোন ক্ষমতাই ফেরেশতাদের নাই। মেরাজের ঘটনায় দেখা যায়, সিদরাতুল মোন্তাহায় জিব্রাইল ফেরেশতাকে রাখিয়া নবী করীম (সাঃ) খোদাতায়ালার দিকে একাকীই যাত্রা করিয়াছেন। কাজেই নবুয়তের বিচারে মানুষ ফেরেশতাদের চেয়ে বহুগুণে শ্রেষ্ঠ।

বিজ্ঞাপন

বেলায়েতে ছোগরাস্থিত ওলী আল্লাহদের অনেকে ভাব উন্মত্তার কারণে বেলায়েতে নবুয়তকে কামালাতে নবুয়তের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। আসলে মনোমুগ্ধকর নূরের চমকে তাহারা এই বিরাট তথ্য বুঝিতে ভুল করিয়াছেন। কামালাতে নবুয়ত বেলায়েতে নবুয়ত হইতে শত গুণে শ্রেষ্ঠ। বেলায়েতে নবুয়তের দায়েরায় ছালেকের হৃদয় সংকীর্ণ থাকে। তাই এই মাকামে ছালেকের সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি ফিরানোর কোন ক্ষমতাই থাকে না। কিন্তু কামালাতে নবুয়তের দায়েরায় বা তঊর্ধ্বের দায়েরাতে ছালেকের হৃদয় এমনই প্রশস্ত হয় যে, একাধারে সৃষ্টি এবং স্রষ্টার দিকে খেয়াল রাখিতে তাহার কোন অসুবিধা হয় না।

জ্ঞানের তারতম্য হেতু আলেম সমাজকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হইয়াছে।

ওলামায়ে জহেরগণ-

বিজ্ঞাপন

যাহারা জাহেরা শরীয়তের জ্ঞান অর্জন করিয়া নিজেদের আকায়েদ ঠিক করিয়া নাফসের বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও জাহেরা শরীয়তের নির্দেশিত পথে চলেন এবং আমল করেন।

সূফীগণ-

যাহারা শরীয়তের নির্দেশিত পথে আমল করিয়া এবং তরিকতের রাস্তায় চেষ্টা সাধনা ও কঠিন রেয়াযত করিয়া বেলায়েতস্থিত মারেফাত ও হালসমূহ হাছিল করেন।

বিজ্ঞাপন

ওলামায়ে রাসেখগণ-

যাহারা জাহেরা শরীয়ত ও বাতেনী শরীয়তের জ্ঞান আহরণপূর্বক খোদাতায়ালা কর্তৃক জ্ঞানের এমন এক দরজায় উন্নীত হন, যাহা কোন ভাষায় বর্ণনা করা যায় না, ইশারায়ও বুঝানো সম্ভব নয়। এই সকল আলেম আম্বিয়াদের উত্তরাধিকারী। রাসূলে করীম (সাঃ) বলেন,

عُلَمَاءُ أُمَّتِي كَأَنْبِيَاءِ بَنِي إِسْرَائِيلَ.

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ- আমার উম্মতদের আলেমগণ বনী ইস্রাইলদিগের নবীগণের ন্যায়।

এই ওলামায়ে রাসেখগণ কামালাতে নবুয়তের সাজে সজ্জিত হইয়া হেদায়েতের দায়িত্বের বোঝা মাথায় করিয়া দুনিয়ায় আগমনপূর্বক মানুষদেরকে নবীদের মতই আল্লাহর দিকে আহবান করেন। বেলায়েতে আউলিয়া ও বেলায়েতে নবুয়তের মাকামে ছালেক মানুষকে আল্লাহ মুখী করিবার এই ক্ষমতা প্রাপ্ত হন না। শুধু নিজেই আল্লাহতে বিলীন অবস্থায় প্রেমসুধা পানে রত থাকেন।

একীনের তিনটি স্তর। যথাঃ এলমুল একীন, আইনুল একীন ও হক্কুল একীন।

বিজ্ঞাপন

এলমুল একীন-

শরীয়তের ছুরত হইতে অর্জিত জ্ঞান। বেলায়েতে ছোগরা পর্যন্ত ছায়েরে আফাক ও ছায়েরে আনফুসীর মাধ্যমে যত রকমের নিদর্শনাবলী দৃষ্ট হয়, তাহা এলমুল একীনের অন্তর্গত। এই একীন ছালেককে খোদাতায়ালার দিকে আগাইয়া নেয়। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলেন, "বান্দা হইতে আল্লাহতায়ালা পর্যন্ত আকরাবিয়াতের অধ্যায়ের দিকে আরও একটি ছায়ের আছে। সীমাবদ্ধ এই তৃতীয় ছায়েরও এলমুল একীনের অন্তর্গত। একীনের উচ্চতর ও উচ্চতম স্তর হইল আইনুল একীন ও হক্কুল একীন। আইনুল একীন ও হক্কুল একীনের জ্ঞান যাহা কামালাতে নবুয়তের দায়েরায় অনুসরণ ও উত্তরাধিকার হিসেবে কামেল আরেফদের প্রদান করা হয়। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলেন, "জাহেরা ওলামাদের ন্যায় বেলায়েতের অধিকারীগণও আইনুল একীন ও হক্কুল একীন বুঝিতে অক্ষম।"

হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বেলায়েতে নবুয়ত ও কামালাতে নবুয়তের পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তাহার জীবনে নবুয়তের প্রভাব পূর্ণমাত্রায় ছিল। যাহাদের উপর বেলায়েতের চেয়ে নবুয়তের প্রভাব বেশী থাকে, তাহারা দুনিয়ায় নিজেদের যাবতীয় কর্মকান্ড সাধারণ মানুষের মত পরিচালনা করেন। যেমন হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) মাঝে মাঝে মা আয়েশার (রাঃ) ঘরে নামাজ পড়িবার কালে মা আয়েশার পদ মোবারককে সম্মুখে সরাইয়া সেই স্থানে সেজদা দিতেন এবং সেজদা হইতে তিনি যখন মাথা তুলিতেন, হযরত আয়েশা (রাঃ) এর পদ যুগল আবার পূর্বস্থলে চলিয়া আসিত। কিন্তু হযরত আলী (রাঃ) নামাজরত অবস্থায় তাহার পা হইতে তীর খোলা হইল; অথচ তিনি তাহা অনুভব করিতে পারেন নাই। ইহার মূল কারণ হযরত আলী (রাঃ) এর উপর কামালাতে নবুয়তে তুলনায় বেলায়েতে নবুয়তের প্রভাব বেশী ছিল।

হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) দুনিয়াতে একজন সহজ সরল সাধারণ মানুষের মত চলিতেন। তাঁহার এই সাধারণ অবস্থা দেখিয়া ইহুদী নাছারাগণ বলিত, "তিনি আবার কেমন নবী যিনি আমাদের মতই খাদ্য গ্রহণ করেন, নিদ্রা যান, শয়ন করেন, বাজারে যান ইত্যাদি।" আসলে ইহা কামালাতে নবুয়তের একটা হাল। আমার পীর কেবলাজান জামানার মুজাদ্দেদ, হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেব কামালাতে নবুয়তের মর্যাদা ও দায়িতপ্রাপ্ত উচুস্তরের একজন ওলী হওয়া সত্ত্বেও খুবই সাদাসিধা অবস্থায় দিনাতিপাত করিয়াছেন। খুব অল্প সংখ্যক লোকই তাহাকে চিনিতে পারিয়াছিলেন।

দুনিয়ায় অধিকাংশ মানুষ বিশেষ করিয় জাহেরাওলামাগণ ওলীয়ে কামেলগণের অবস্থা সঠিক ভাবে বুঝিতে না পারিয়া তাহাদেরকে নিজেদের মত আলেম কিংবা নিজেদের চেয়েও নিকৃষ্ট মনে করিয়াছে।

হযরত আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে শাহরিয়ার গাযরানী (রঃ) তরিকত ও হকিকত পন্থীদের ইমাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একদিন তিনি হাজার হাজার শ্রোতৃমন্ডলীর মজলিসে তরিকত ও হকিকত প্রসংগে ওয়াজ করিতেছিলেন। এমন সময় সেই ওয়াজের মজলিসে খোরাসানের এক আলেম উপস্থিত হইয়া হযরতের ওয়াজ শুনিতে লাগিল। সেই আলেম লক্ষ্য করিল যে শায়খের ওয়াজের তাছিরে শ্রোতৃমন্ডলীর মধ্যে এক আশ্চর্য ভাব আবেগের সৃষ্টি হইয়াছে। সকলেই প্রাণ ভরিয়া তাহার ওয়াজ শুনিতেছে এবং কেহ কেহ অঝর নয়নে কাঁদিতেছে। এই অবস্থা দৃষ্টে বিস্ময়াবিষ্ট হইয়া মনে মনে ভাবিতে লাগিল, "আমি খোরাসানের একজন শ্রেষ্ঠ আলেম ও মুফাসসের। আমার এলেম ওয়াজকারক শায়খের চেয়ে বেশী। তবে এই শায়খের মজলিসে কত লোকের আগমন হয়, অথচ আমার মজলিসে খুব অল্প সংখ্যক লোকের আগমন হয়। এই শায়খ শ্রোতৃমন্ডলীর নিকট যেমন মান্য ও বরেণ্য, আমি তেমন নই কেন? শায়খের মজলিসে শ্রোতৃমন্ডলীর মধ্যে যে ভাবাবেগের সৃষ্টি হয়, আমার মজলিসে শ্রোতাদের মধ্যে সে ভাবের সৃষ্টি হয় না কেন? আলেমের মনের এই কথা আল্লাহপাক হযরত আবু এছাহাক (রঃ) কে জানাইয়া দিলেন। তখনই হযরত আবু এছাহাক ইব্রাহীম ইবনে শাহরিয়ার (রঃ) মিম্বর হইতে মসজিদের ফানুসগুলোর দিকে দৃষ্টি করিয়া বলিলেন, "হে শ্রোতৃমন্ডলী! ঐ দেখ পানি ফানুসগুলোর ভিতরের তেলের সংগে কিভাবে ঝগড়া করিতেছে। পানি তেলকে বলিতেছে, "আমি তোমার চেয়ে অধিক মর্যাদাশালী। আমার অপর নাম জীবন। সমগ্র সৃষ্টির জীবন আমার সহিত সংশ্লিষ্ট। এতদসত্ত্বেও তুই আমার সহিত এমন বে-আদবী করিতেছিস্ যে আমার মাথার উপর চড়িয়া বসিয়াছিস?" পানির এহেন প্রশ্নবানে অতিষ্ঠ হইয়া তেল জবাব দেয়, ইহার কারণ এই যে, আমি নানা প্রকারের দুঃখ-কষ্ট ভোগ করিয়াছি, একটু চিন্তা করিয়াই দেখ, প্রথমে আমাকে বপন করা হইয়াছে, অতঃপর কাটা হইয়াছে, অতঃপর পিসিয়া ফেলা হইয়াছে, তারপর কুলুর ঘানিতে আমাকে মথিত করিয়া তেল বাহির করা হইয়াছে। ইহার পরেও আবার দেখ, নিজেকে পোড়াইয়া আমি অপরকে আলো প্রদান করিতেছি। এই কারণেই আমি তোমার উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করিয়াছি।" হযরত শায়খ আবু ইছাহাক ইব্রাহিম ইবনে শাহরিয়ার (রঃ) ছাহেব মিম্বর হইতে নীচে নামিয়া আসিলে সেই খোরাসানী আলেম তাহার নিকটে আসিয়া তওবা করিলেন এবং খুব কাকুতি মিনতির সহিত ক্ষমা প্রার্থনা করিলেন। উপরোক্ত ঐ ঘটনার মধ্যে পানি ও তেলের বাকযুদ্ধের রূপকে ওলামায়ে জাহের ও ওলীয়ে কামেলের সত্যিকারের অবস্থা পরিস্কার ভাবে ফুটিয়া উঠিয়াছে।

বেলায়েতে নবুয়তের প্রথম মাকাম আকরাবিয়াতের অধ্যায়ে ছালেক সিফাতে হাকীকীর সহিত পরিচিত হয়। এই অধ্যায়ে ছালেক স্পষ্ট বুঝিতে পারে যে তাহার দর্শন, চিন্তন, বর্ণন, শ্রবণ ইত্যাদি গুণাবলী সমস্তই মহান খোদাতায়ালা হইতে ধার করা। তাহার নিজের কোনো গুণাগুণ নাই। তাহার ভিতরে যে সব গুণাবলী বর্তমান বলিয়া মনে হয় তাহা খোদাতায়ালার গুণাবলীর প্রতিবিম্ব। এই সমস্ত ভাবিয়া ছালেক খোদাতায়ালাতে আরও অধিক নিমগ্ন হয়।

বেলায়েতে নবুয়তের সবগুলো অধ্যায়ই মহব্বত বা প্রেমের অধ্যায়। প্রেম আল্লাহপাকের একটি গুণ। মানুষের ভিতর যতটুকু প্রেম পরিলক্ষিত হয় তাহা খোদাতায়ালার প্রেমের প্রতিবিম্ব। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহপাক ফরমান,

كُنْتُ كَنْزًا مَخْفِيًا فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَعْرَفَ فَخَلَقْتُ

الْخَلْقَ لأَعْرَفَ.

অর্থাৎ- আমি গুপ্ত ধন ভান্ডার ছিলাম। অতঃপর পরিচিত হইতে ভালবাসিলাম। তাই সৃষ্ট জগতকে সৃষ্টি করিলাম।

সুতরাং দেখা যাইতেছে, প্রেম বা মহব্বত আল্লাহপাকের জাত পাকের মধ্যে প্রথম উদ্ভুত হয়। এই প্রেম উদ্ভুত হওয়ার উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহপাকের নিজ পরিচিতি দান করা। এই পরিচিতি দানের উদ্দেশ্যে খোদাতায়ালা যুগে যুগে নবী-রাসুল প্রেরণ করিয়া শরীয়তের বিধান চালু করিয়াছেন এবং তাহার পরিচয় যাহাতে মানব সমাজ সহজে পাইতে পারে তাহার সু-ব্যবস্থা শরীয়তের বিধানে থরে থরে সাজাইয়া রাখিয়াছেন।

মহান খোদাতায়ালা তাহার সৃষ্ট এই মানব সমাজকে কি পরিমান ভালবাসিতেন তাহার একটা নমুনা এখানে বর্ণনা করিতেছি। হযরত নূহ (আঃ) কে আল্লাহপাক নবুয়তী দান করিয়া মানব সমাজকে হেদায়েতের দায়িত্ব দিয়া দুনিয়ায় পাঠাইয়াছিলেন। দীর্ঘ সাড়ে নয়শত বছর তিনি আল্লাহর সত্য ধর্ম প্রচার করিলেন। কিন্তু অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত কেহই তাহার উপর ঈমান আনিল না এবং তাহারা আল্লাহর নবী হযরত নূহ (আঃ) এর উপর নানাবিধ অত্যাচার, নির্যাতন চালাইতে লাগিল। তাহাদের অত্যাচারে হযরত নূহ (আঃ) অতিষ্ঠ হইয়া মহান খোদাতায়ালার দরবারে অত্যাচারীদের ধ্বংস কামনা করিয়া প্রার্থনা করিলেন। আল্লাহপাক তাহার প্রার্থনা কবুল করিলেন। প্লাবন শুরু হইল। নদী-নালা, খাল-বিল ভরিয়া পনির উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়িতে লাগিল। সেই মহা প্লাবনে মুষ্টিমেয় কয়েকজন ঈমানদার ব্যতীত সকলেই ধ্বংস হইল। প্লাবন শেষে হযরত নূহ (আঃ) বেকার হইয়া পড়িলেন। খোদাতায়ালাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, এখন তিনি কি করিবেন। আল্লাহপাক তাহাকে মাটির হাঁড়ি, পাতিল, কলসী ইত্যাদি তৈরী করিয়া, রৌদ্রে শুকাইয়া, আগুনে পুড়াইয়া সেইগুলিকে সুন্দর ভাবে সাজাইতে আদেশ দিলেন। হযরত নূহ (আঃ) আল্লাহর আদেশ যথাযথ পালন করিয়া পুনরায় জানিতে চাহিলেন, এখন তিনি কি করিবেন? আল্লাহপাক তাহাকে একটি লাঠি হাতে লইয়া ধীরে ধীরে একের পর এক হাড়ি, পাতিল, কলসী সবই ভাংগিয়া ফেলিতে বলিলেন। আদেশ পাইয়া হাড়ি ভাংগা শুরু করিলেন, লাঠির আঘাতে এক একটি হাড়ি ভাংগিয়া চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়, সাথে সাথে হযরত নূহ (আঃ) এর মনও বেদনায় ভরিয়া যায়। কত যত্ন করিয়া, রৌদ্রে শুকাইয়া, আগুনে পুড়াইয়া তিনি হাড়ি-পাতিল বানাইয়া থরে বিথরে সাজাইয়া রাখিয়াছেন, অথচ আজ তাহা ভাংগিয়া ফেলিতে হইতেছে। ভাংগন কাজের শেষের দিকে আসিয়া হযরত নূহ (আঃ) অবশিষ্ট হাড়িগুলিকে ভাংগিতে বিলম্ব করিলেন। আল্লাহপাক হযরত নূহ (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করিলেন, "হে নূহ! তুমি পাত্রগুলি ভাংগিতে বিলম্ব করিতেছ কেন? তাড়াতাড়ি ভাংগিয়া ফেল।" হযরত নূহ (আঃ) বলিলেন, হে খোদাতায়ালা! কত যত্ন করিয়া, সুন্দর করিয়া এই হাড়ি পাতিলগুলি তৈরী করিয়াছি। এইগুলি ভাংগিতে আমার খুবই কষ্ট হইতেছে। তাই বিলম্ব করিয়া ফেলিয়াছি। তখন আল্লাহপাক বলিলেন, "হে নূহ! এখন তুমি চিন্তা কর। এই নির্জীব মাটির পাত্র ভাংগিতে তোমার মায়া হইতেছে কিন্তু তোমার একটি মাত্র কথায় আমি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব জাতিকে ধ্বংস করিয়া দিলাম। অথচ তুমি একটুও চিন্তা করিলে না যে, এই জীবন্ত মানব সমাজকে ধ্বংস করিয়া ফেলিতে আমার কিরূপ কষ্ট হয়! আমি যে মানব সমাজকে কত ভালবাসি, কত মহব্বত করি তাহা তুমি একবারও চিন্তা করিয়া দেখিলে না।" এই ঘটনাটির মধ্যে মানুষের প্রতি খোদাতায়ালার প্রেম বা হোব্ব পরিস্কার ভাবে ফুটিয়া উঠিয়াছে।

দায়েরায়ে বেলায়েতে নবুয়তের বিভিন্ন অধ্যায়ে ছালেক খোদাতায়ালার সেই মহব্বতকে সত্যিকার ভাবে উপলব্ধি করিয়া খোদাতায়ালার প্রেম সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়। সেই সমুদ্র হইতে তাহারা আর ভাসিয়া উঠেন না। তবে যাহাদের দ্বারা মহান খোদাতায়ালা হেদায়েত কার্য চালাইতে চান, তাহাদেরকে উল্লিখিত প্রেম সমুদ্র থেকে উঠাইয়া কামালাতে নবুয়তের মর্যাদা দিয়া দুনিয়ায় প্রেরণ করেন।

কামালাতে নবুয়তের মর্যাদা প্রাপ্ত ওলীয়ে কামেলদের হৃদয়কে আল্লাহপাক এমনই প্রশস্ত করিয়া দেন যে, তাহাদের উপর যতই বিপদ আপদ, বালা-মছিবত চাপানো হোক না কেন, তাহারা নির্দ্বিধায় তাহা মাথা পাতিয়া লন। তাহাদেরকে কাটিয়া যদি টুকরা টুকরাও করা হয়, তবুও টু শব্দটি পর্যন্ত তাহারা করেন না, বরং সর্বদাই হাসিমুখে খোদাতায়ালার যাবতীয় কর্মকান্ডের উপর নির্ভর করেন। তাহারা খোদাপ্রদত্ত বালা মুছিবতকে খোদাতায়ালার নেয়ামত মনে করিয়া ধৈর্য ধারণ করেন। হযরত শেখ সাদী (রঃ) ছাহেব বলেন,

"বন্ধুর তরফ থেকে আসুক যত নিষ্ঠুর আচরণ

ভাবিও সেটাই বন্ধুর সত্যিকারের স্মরণ।"

ইহাই আল্লাহওয়ালাদের কথা। তোমরা যদি খোদাতায়ালার সান্নিধ্য লাভ করিতে চাও, বেলায়েতে নবুয়ত ও কামালাতে নবুয়তের সাজে যদি নিজেদেরকে সজ্জিত করিতে চাও, তবে দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ, বালা-মুছিবত এবং দরিদ্রতার জন্য প্রস্তুত থাক। খোদাপ্রাপ্তির এই পথে বিপদ-আপদের কন্টক বিছানো। সেই সকল কাঁটার আঘাতে তোমাদের পদযুগল ক্ষত বিক্ষত হইবে কিন্তু ধৈর্যহারা হইলে চলিবে না। তুমি যতই ধন সম্পদের মালিক হও না কেন, তুমি যত বড় বাদশাই হও না কেন, উক্ত দুই মাকাম তয় করিতে হইলে দরিদ্রতার মালা তোমাকে গলায় পরিতে হইবে। ইহা এই পথের আবশ্যকীয় শর্ত অতীতের ওলীআল্লাহদের ইতিহাস ঘাটিয়া দেখ, তাহা হইলে ইহা ভাল ভাবেই বুঝিতে পারিবে।

হযরত ইব্রাহিম আদহাম (রঃ) ছাহেব বলখের এক প্রতাপশালী বাদশাহ ছিলেন। এক বিশাল রাজ্য ছিল তাহার শাসনাধীন। তিনি যখন ভ্রমণে বাহির হইতেন চল্লিশ জন করিয়া স্বর্ণের ঢাল ও রৌপ্যের গুর্জধারী সৈন্য তাহার অগ্রে ও পশ্চাতে দেহরক্ষীরূপে মোতায়েন থাকিত। অথচ খোদাপ্রাপ্তির এই রাস্তায় আসিয়া খোদাতায়ালার রেজামন্দি লাভ করিতে যাইয়া শান শওকতময় বাদশাহী ছাড়িয়া চরম দরিদ্রতার কষাঘাতে নিজেকে জর্জরিত করিয়া খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্ব হাছিল করিলেন এবং খোদাতালাশী ব্যক্তিদের জন্য এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত তৈরী করিয়া গেলেন।

একদিন হযরত ইব্রাহিম আদহাম (রঃ) ছাহেব দজলা নদীর তীরে বসিয়া নিজের ছেড়া কাপড় সেলাই করিতেছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল, আপনি বলখের বাদশাহী ত্যাগ করিয়া কি লাভকরিয়াছেন? তিনি তখন তখনই তাহার হাতের সূচটি নদীতে ফেলিয়া দিলেন এবং নদীর দিকে অংগুলী দ্বারা ইশারা করিলেন। তখনই নদীর হাজার হাজার মাছ এক একটি স্বর্ণের সূচ মুখে লইয়া সেখানে ভাসিয়া উঠিল। হযরত ইব্রাহিম আদহাম (রঃ) ছাহেব বলিলেন, আমি স্বর্ণের সূচ চাই না, আমার নিজের সূচটি চাই। এ কথা বলা মাত্র একটি ক্ষুদ্র ও দুর্বল মাছ তাহার সূচটি মুখে করিয়া আনিয়া তাহার সম্মুখে রাখিয়া দিল। হযরত ইব্রাহিম আদহাম (রঃ) ছাহেব বলিলেন, বলখের বাদশাহী ত্যাগ করিয়া খোদাপ্রাপ্তির এই পথে যাহা কিছু লাভ করিয়াছি তাহার মধ্যে এইটিই সর্ব নিকৃষ্ট।

আমার জীবনটাও দুঃখে গড়া। অতি শৈশবে মাতৃহারা হই। মায়ের স্নেহ আদর থেকে বঞ্চিত হই। তখন থেকে আমার জীবন সমুদ্রে যে দুঃখের ঘুর্ণিঝড় শুরু হইয়াছিল, আজও জীবনের শেষ প্রান্তে আসিয়াও তাহা থামে নাই। আমার বাবা জাকজমকপূর্ণ জীবন যাপন করিতেন। হাতী ছাড়া তিনি চলিতেন না। ছোট বেলায় আমরাও হাতির পিঠে চড়িয়া ঘুরিয়া বেড়াইতাম। সেই আড়ম্বরপূর্ণ জীবন আমাদের কপালে বেশী দিন সইল না। আমার দশ বছর বয়সে আমি আমার বাবার সাথে প্রথম এনায়েতপুর দরবার শরীফে যাই। তখন রাত ১২ টা বাজে। সেই রাত অভুক্তই থাকি। পরদিন সকালে পীর কেবলাজান আমাদেরকে ফলি মাছের তরকারি দিয়া ভাত খাওয়াইলেন। আজও তাহা স্মৃতিপটে ভাসিয়া উঠে। প্রথম সাক্ষাতের সেই দিনটি হইতেই খোদাপ্রাপ্তির এই রাস্তায় আমার যাত্রা শুরু।

আমার জীবনের প্রত্যেকটি কর্মকান্ডই দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদের মধ্য দিয়া অতিবাহিত হয়। ছোট্ট বেলায় মাকে হারাইলাম। তৎপর খোদা প্রাপ্তির এই দুর্গম পথে যাত্রা শুরু করিয়া পীরের ইশারায় জমি-জমা, সহায়-সম্বল বিক্রয় করিয়া প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ পীরের কদমে প্রদান করিয়া নিজে একেবারেই নিঃস্ব হইলাম। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সবই হারাইলাম। দরিদ্রতার কঠিন ছোবলে আক্রান্ত হইলাম। পেটে ভাত ছিল না। পরনে কাপড় ছিল না। এই ভাবে কাটিয়াছে জীবনের অনেকগুলো বছর। পীরের দরবারে খেদমতরত অবস্থায় কত যে কঠিন পরীক্ষার মোকাবেলা করিতে হইয়াছে; তাহার কোন ইয়ত্তা নাই। পীর কেবলাজান আমাকে অন্যান্য জাকের ভাইদের মত পেট ভরিয়া খাইতে দিতেন না। দিনের প্রথম ভাগে অর্ধচামচ ভাত এবং তদসংগে অতি সামান্য পরিমান তরকারী দিয়া বলিতেন, "আর চাইতে পারিবে না বরং কিয়দাংশ তরকারি বাঁচাইয়া তাহা সবশেষে খাইবে।" আমি তাহাই করিতাম। এই অল্প পরিমান খাবার কখনও দিনে একবারই দিতেন। কখনও বা সকাল-বিকাল দুইবার দিতেন। এই সামান্য পরিমান খাদ্যগ্রহণে পেটের ক্ষুধা পেটেই থাকিয়া যাইত, ক্ষুন্নিবৃত্তি হইত না। আমার শরীর ধীরে ধীরে তাই দুর্বল ও ক্ষীণ হইতে লাগিল। এই অবস্থাতেই পীর কেবলাজান আমাকে বিভিন্ন ধরণের কঠিন খেদমতের হুকুম দিতেন। একবারের একটি ঘটনা তোমাদের বলি। তখন ছিল বৈশাখ মাস। প্রচন্ড খরা। যেন লু হাওয়া বহিতেছিল। গাছ-পালা, পত্র-পল্লব বিবর্ণ রূপ ধারণ করিয়াছিল। ইহার ভিতরে আমাদেরকে সকাল ১১টা পর্যন্ত মাটি কাটিতে হইত। সে দিন সকালে সকলেই মাটি কাটিতে গিয়াছে। ক্ষুধা পেটে দুর্বল শরীরে আমিও মাটি কাটিবার জন্য রওয়ানা হইলাম। যথা স্থানে পৌঁছাইবার পর আমার শরীরের এই দুর্বলাবস্থা দেখিয়া জাকের ভাইয়েরা মাটি কাটা হইতে আমাকে বিরত রাখিলেন এবং পার্শ্বেই একটা চাদর বিছাইয়া তাহার উপর বিশ্রাম করিতে বলিলেন। আমি তাহাই করিলাম। বেলা ১১টা বাজিল। মাটি কাটা বন্ধ করিয়া সকলেই সকালের খাবার গ্রহণের জন্য দরবারে আসিল। আমিও আসিলাম। কিন্তু আমার মনে সর্বদাই একটা চিন্তার উদ্রেক হইতে লাগিল যে আমি তো কাজ করি নাই, খাদ্য গ্রহণ করা কি আমার ঠিক হইবে? এই চিন্তা, এই দ্বিধাদ্বন্দের মধ্যে আমি সকালের খাবার খাইলাম বটে কিন্তু সর্বদাই হৃদয় রাজ্যে পীরকে ফাঁকি দেওয়ার এক তিক্ত যন্ত্রণা অনুভব করিলাম।

খাওয়া দাওয়া শেষে আমরা সকলেই পীর কেবলাজানের নিকটে গেলাম। পীর কেবলাজান একটা শেওরা গাছের নীচে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি কাহাকেও বা গাছের নীচে, কাহাকেও বা অন্যত্র বিশ্রাম গ্রহণ করিতে নির্দেশ দিলেন কিন্তু আমাকে কাছেই দন্ডায়মান রাখিলেন। তৎপর পীর কেবলাজান আমাকে হাতে একটি লাঠি লইয়া পার্শ্বেই রক্ষিত ছোলার স্তুুপে আঘাতপূর্বক ছোলাগুলোকে পৃথক করিতে নির্দেশ দিলেন।

উত্তপ্ত বায়ু প্রবাহিত হইতেছিল। প্রচন্ড রৌদ্রতাপ। ইহার মধ্যেই দীর্ঘ দুই ঘন্টা একটানা বসিয়া পীরের হুকুম পালন করিলাম। মনে মনে নিজেকে বলিলাম, "হে মন মাটিও কাটিতে, তাহা হইলে তোমাকে এই কঠিন শাস্তি ভোগ করিতে মন! কর্মে ফাঁকি না দিয়া তখন যদি দুই ঝাকা হইত না।" হযরত খাজা এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেব এমনই এক মহা ওলী ছিলেন যে তাহার সুতীক্ষ্ণ অন্তর দৃষ্টিকে ফাঁকি দিবে, এমন সাধ্য কাহারও ছিল না। দীর্ঘ দুই ঘন্টা পর মুক্তি পাইলাম ঠিকই কিন্তু আমার শরীর সূর্যের প্রচন্ড তাপে রক্তবর্ণ ধারণ করিয়াছিল।

হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেব কাশফে বা অন্তরদৃষ্টির সাহায্যে মুরীদের ভিতর বাহির দর্শন করিয়া প্রেমের রশি দিয়া টানিয়া তাহাকে খোদাতায়ালার দিকে লইয়া যাইতেন। ভাগ্যগুণে আমরা হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেবকে পাইয়াছিলাম। তোমরা নিবেদিত প্রাণে খাজাবাবার তরিকার রজ্জু ধরিয়া চল। কঠিন খেদমত করিতে থাক। খোদা প্রাপ্তির এই পথে চলিতে তোমাদের সহায়ক হইবে চিন্তা করিয়া আমি আমার জীবনের দুই একটি ঘটনা বর্ণনা করিতেছি।

জীবনের আরও একটি ছোট্ট কাহিনী তোমাদের শুনাই। একবার বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহে এনায়েতপুর শরীফে গেলাম। চার/পাঁচ দিন গত হইলে, পীর কেবলাজান আমাকে বলিলেন, "বাবা, তুমি কি বাড়ী যাইতে চাও?" আমি না সূচক জবাব দিলাম। পীর কেবলাজান আমাকে দরবারের সবচেয়ে বড় খাসীটার দিকে অংগুলী নির্দেশপূর্বক বলিলেন, "ত্র খাসীটা জবাই করিব। মাংস খাইয়া তারপর তুমি বাড়ী যাইবে। পীর কেবলাজান আমাকে খাবার এতই কম দিতেন যে সাত/আট দিনে আমার চেহারা চেনা যাইত না। ৭/৮ দিন পরে আমি মনে মনে ভাবিলাম, পীর কেবলাজান যদি আমাকে বিদায় দিতেন, তাহা হইলে বাড়ী যাইতাম। কিন্তু খাসী আর জবাই হয় না। আমার বিদায়ও হয় না। একদিন, দুইদিন করিতে করিতে এক সপ্তাহ গেল, দুই সপ্তাহ গেল। অবশেষে বৈশাখ মাসও চলিয়া গেল। সেই খাসী ৩-রা জৈষ্ঠ জবাই করা হইল। সেইদিন সকালবেলাই পীর কেবলাজান আমাকে অর্ধচামচ বাসী ভাত এবং তিন দিনের বাসী কুমড়া তরকারী (যাহা প্রতিদিন সকালে পানি দিয়ে গরম করা হইত) খাওয়ার নির্দেশ দিলেন। আমি সেই ভাত তরকারী খাইলাম আর মনে মনে ভাবিলাম সেই খাসীর কথা, যাহার মাংস খাওয়ার জন্য আজ প্রায় মাস খানেক অপেক্ষা করিতেছি। খাসী জবাই হইল। পাক সম্পন্ন হইল। ভিতর থেকে পাক করা মাংস আনা হইল। পীর কেবলাজান আমাকে ব্যতীত সকলকেই সারিবদ্ধভাবে বসিতে বলিলেন। সর্ব প্রথমেই আমাকে বলিলেন, বাবা! তুমি পাত্র থেকে এক টুকরা মাংস উঠাও। আমি ভাবিলাম, পীর কেবলাজান হয়তো তরকারীর স্বাদ পরীক্ষা করিবার জন্য এমন বলিতেছেন। মাংসের বড় এক টুকরা উঠানোর ইচ্ছা থাকিলেও পীর কেবলাজানের সম্মুখে কাজটি লজ্জাকর মনে করিয়া তছবিহের দানার মত ছোট্ট এক টুকরা উত্তোলনপূর্বক মুখে পুড়িলাম। আর তখনই পীর কেবলাজান আমাকে বলিলেন, "যাও, তোমাকে বিদায় দিলাম।" বিদায়ের কথা শুনিয়াই আমি বড় ব্যথিত হইলাম। ভাবিলাম, যে খাসী খাওয়ানোর জন্য দীর্ঘ এক মাস পর্যন্ত আমাকে অপেক্ষায় রাখা হইল; আজ সে খাসীর মাংসের স্বাদ বুঝিবার অবকাশ না দিয়েই বিদায় দেওয়া হইল। এ কেমন নির্দয়তা, এ কেমন নিষ্ঠুরতা। গৃহাভিমুখে রওয়ানা হইলাম। পথিমধ্যে পীর কেবলাজানের এহেন নিষ্ঠুর আচরণে আমার হৃদয়রাজ্যে ঝড় উঠিল। বারংবারই আমার মনে হইতে লাগিল, আপন পীরের উদ্দেশ্যে হযরত মাওলানা রূমী (রঃ) ছাহেবের রচিত কবিতার একটি অংশ-

"জালিম, জালাইয়াছ রূপের একি বহ্নিশিখা

উদ্ধত এ চিত্তগুলি করিতে বিজীত।

দাহন তব প্রণয় নীতি

দাহ মোদের ভাগ্য লেখা;

দাও বেদনা যত খুশী

পেতেছি এ নগ্ন চিত।"

উক্তরূপ কঠিন খেদমতের ভিতর দিয়া আমার জীবন অতিবাহিত হইয়াছে। পীরের কঠিন খেদমত বিনা খোদাপ্রাপ্তিতত্ত হাছিল করা মোটেই সম্ভব নয়।

কাজেই তোমরা যদি খোদাতায়ালাকে পাইতে চাও, দুনিয়াতে থাকিয়াই যদি খোদাদর্শনের অনাবিল তৃপ্তি লাভ করিতে চাও; তাহা হইলে দুঃখ-কষ্ট, জ্বালা-যন্ত্রণা, বিপদ-আপদকে বক্ষে ধারণ পূর্বক ধৈর্য সহকারে পীরের কঠিন খেদমত করিতে থাক। পীর যদি দয়া করেন, তাহা হইলে তোমরা তৌহিদে ওজুদী নামক কোটি কোটি নূরের বাল্ব প্রজ্জলিত এক বিশেষ দেহের সন্ধান পাইবে। পীরের নিকট চার প্রকারের অস্ত্র রহিয়াছে। যথাঃ তাওয়াজ্জুয়ে এনেকাছি, তাওয়াজ্জুয়ে এলকায়ী, তাওয়াজ্জুয়ে এছলাহী এবং তাওয়াজ্জুয়ে এত্তেহাদী। সর্বশ্রেষ্ঠ তাওয়াজ্জুহ-তাওয়াজ্জুয়ে এত্তেহাদীর প্রয়োগে তিনি তোমার ভিতরের সমস্ত গোনাহের ময়লা, গোনাহের পাহাড়, গোনাহের তাছির, গোনাহের অন্ধকার, গোনাহের জুলমত সমস্তই ঝারিয়া ফেলিয়া তৌহিদে ওজুদী ও তৌহিদে শুহুদীর আকাশে উড্ডয়নের সু-ব্যবস্থা করিয়া দিবেন। আমি দু'আ করি, আল্লাহপাক যেন এই কঠিন রাস্তায় চলিবার মত ধৈর্য ও সাহস তোমাদের প্রদান করেন। আমীন!

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD