ঝগড়ার সময় মনে মনে তালাক বললে কি তালাক হবে?

দাম্পত্য জীবনে নানা কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ ও টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে। কখনো সেই বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কোনোভাবেই তা সমাধান করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ইসলামে বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি রাখা হয়েছে। তবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি ইসলামে পছন্দনীয় নয়; বরং সম্ভব হলে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার এবং বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে কোরআন ও হাদিসে।
বিজ্ঞাপন
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধ আশঙ্কা করলে তার (স্বামীর) পরিবার থেকে একজন ও তার (স্ত্রী) পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ে নিষ্পত্তি চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মিমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবিশেষ অবহিত।’ (সূরা আন নিসা, আয়াত : ৩৫)
ইসলামে তালাকের বিধান রাখা হলেও দাম্পত্য বিচ্ছেদের এই প্রক্রিয়া অবলম্বনে সবসময় নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। হাদিসে তালাকের বিষয়টিকে ‘সর্বনিকৃষ্ট হালাল’ বলা হয়েছে। হজরত মুআররিফ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে হালাল বিষয়ের মধ্যে তালাকের চেয়ে অধিকতর ঘৃণিত আর কিছু নেই।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৭৭)।
মনে মনে তালাক বললে কি তালাক হবে?
বিজ্ঞাপন
মুখে উচ্চারণ না করে শুধু মনে মনে তালাক দিলে তা কার্যকর হয় না। তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য লিখা বা মুখে উচ্চারণ করা জরুরি। রাসুল (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের ভেতর যে কুমন্ত্রণা বা ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি হয়, তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা সে অনুযায়ী কাজ করে বা মুখে উচ্চারণ করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫২৮)
তালাকের ক্ষেত্রেও মুখে উচ্চারণ না করে শুধু মনে মনে তালাকের কথা চিন্তা করলে বা তালাকের বাক্য মনে মনে আওড়ালে তালাক কার্যকর হবে না। বিখ্যাত ফকীহ ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করে তাকে তিনটি পাথর দিল এবং এর দ্বারা তালাকের নিয়ত করল। কিন্তু তালাকের কোনো স্পষ্ট বা ইঙ্গিতবহ শব্দ উচ্চারণ করল না, তাহলে এর মাধ্যমে তালাক সংঘটিত হবে না।
মুখে তালাকের কোনো শব্দ উচ্চারণ না করে শুধু মনে মনে ‘আমি তোমাকে তালাক দিলাম’ কথাটি বারবার মনে হওয়ার কারণে স্ত্রীর ওপর কোনো তালাক কার্যকর হবে না। বরং দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল থাকবে।
বিজ্ঞাপন
কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষার দোয়া
এ ধরনের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেতে নিচের দোয়াটি বেশি বেশি পড়ুন:
رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ
বিজ্ঞাপন
উচ্চারণ : রাব্বি, আয়ুযুবিকা মিন হামাঝাতিশ-শায়াতিন, ওয়া আয়ুযুবিকা রাব্বি আই-ইয়াহদ্বুরুন।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই, যাতে তারা আমার কাছে উপস্থিত না হয়। (সুরা আল-মুমিনূন, আয়াত : ৯৭-৯৮)







