Logo

‘ওজুদ মাওহুব লাহু’ খোদাদত্ত শরীর লাভ করেন, সেই বিষয়ে আলোচনা

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৫৮
‘ওজুদ মাওহুব লাহু’ খোদাদত্ত শরীর লাভ করেন, সেই বিষয়ে আলোচনা
ছবি: সংগৃহীত

হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কূঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত ‘ফানা ও বাকা’ بسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ "ওজুদ মাওহুব লাহু" বা সূফীসাধকগণ সাধনার উচ্চস্তরে যে খোদাদত্ত শরীর লাভ করেন, সেই বিষয়ে আলোচনাঃ

বিজ্ঞাপন

আল্লাহপাক পবিত্র কুরআন মজীদে বলিতেছেন,

وَ لَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى

অর্থাৎ-“এবং আল্লাহতায়ালার জন্য অতি উচ্চ মাছাল আছে।" (সূরা রুমঃ ২৭) আবার এই কথাও বলা আছে,

বিজ্ঞাপন

فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالِ

অর্থাৎ-"তাই আল্লাহতায়ালা সম্পর্কে বলিতে গিয়া কোন মাছালকে শেষ বলিয়া গ্রহণ করিও না।" (সূরা নাহলঃ ৭৪) কুরআন মজীদে আল্লাহপাক আবার বলিতেছেন,

لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ- 'আল্লাহকে সৃষ্টি বুঝিতে পারিবে না।' (সূরা আন'আমঃ ১০৩)

আবার তিনিই বলিতেছেন,

وَ فِي أَنْفُسِكُمْ طَ أَفَلَا تُبْصِرُونَ

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ-'আমার নিদর্শনতো তোমাদের ভেতরেই আছে, দেখ না কেন?' (সূরা জারিয়াতঃ ২১) হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলিতেছেন,

كُنْتُ كَنزًا مَّخْفِيًا فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَعْرَفَ فَخَلَقْتُ الْخَلْقَ لِأَعْرَفَ

অর্থাৎ-'আমি গুপ্ত ধন ভান্ডার ছিলাম। অতঃপর আমি প্রকাশিত হইতে চাহিলাম। তাই বিশ্ব জগৎ সৃষ্টি করিলাম।' শরীয়তে ইহাও বলা আছে যে,

বিজ্ঞাপন

سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ الْقَمَرَ لَيْلَةَ الْبَدْرِ

অর্থাৎ-'তোমরা শীঘ্রই আল্লাহপাককে পূর্ণিমা চন্দ্রের ন্যায় দেখিবে।'

উল্লিখিত আয়াতসমূহ ও হাদীসের বর্ণনা আপাতঃদৃষ্টিতে পরস্পর বিরোধী মনে হইলেও মূলতঃ তাহা পরস্পর বিরোধী নহে।

বিজ্ঞাপন

আল্লাহতায়ালা যখন বলিতেছেন যে আল্লাহতায়ালার মাছাল প্রসংগে শেষ কথা নাই। ইহার অর্থ হইল যিনি আল্লাহপাককে যত নিকট হইতে দেখিবেন, তিনি তত নিখুঁত রূপে দেখিবেন। দেখিবার পর্যায় বা স্তরের দূরত্ব অধিক হইলে, আল্লাহতায়ালা সম্পর্কে ধারণা যে স্বচ্ছ হইবে না, ইহাইতো স্বাভাবিক। যাহারা সাধনার উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাইয়াছেন, তাহারা কেবল আল্লাহতায়ালার উচ্চ মাছাল সম্পর্কে অবগত হইবেন অর্থাৎ পূর্ণিমা চন্দ্রের মত দেখিবেন, ইহাই স্বাভাবিক। আল্লাহতায়ালার জাতপাকের সহিত যদি মানুষ পরিচিত হইতে নাই পারিত, তাহা হইলে আল্লাহতায়ালা বলিতেন না যে,

إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً

অর্থাৎ-'নিশ্চয়ই পৃথিবীতে (আমার) খলীফা সৃষ্টি করিব।' (সূরা বাকারাহঃ ৩০) আর একথাও তিনি বলিতেন না যে,

বিজ্ঞাপন

إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ آدَمَ عَلَى صُورَتِهِ

অর্থাৎ-“নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে আপন ছুরাতে সৃষ্টি করিয়াছেন।" এই খানে ছুরাত অর্থ আল্লাহতায়ালার গুণ। আল্লাহতায়ালার এই উচ্চ মাছাল মানুষ কিভাবে দর্শন করিতে পারে?

হযরত রাসূলে করীম (সঃ) বলেন, "যতক্ষণ না মানুষ দ্বিতীয়বার জন্মগ্রহণ করে, ততক্ষণ আসমানী জ্ঞান বা আল্লাহতায়ালার জ্ঞান মানুষ লাভ করিতে পারে না।” এই দ্বিতীয়বার জন্ম অর্থ দ্বিতীয় জন্ম নয়, ইহা হইল "ওজুদ মাওহুব লাহু” নামক এক নূরের শরীর প্রাপ্ত হওয়া।

বিজ্ঞাপন

হযরত গউসপাক (রঃ) ছাহেব তদীয় 'ফাতহুর রাব্বানী' নামক গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন, "নাফসের বিরোধিতা করিলেই নাফসের মৃত্যু হয়। ফলে অতি সহজেই উহার মঙ্গল হয়। আমি ধৈর্য ধারণ করিয়া পরিণতি ভাল পাইয়াছি। আমি মৃত্যু বরণ করিয়াছিলাম। ইহার পর আল্লাহ আমাকে পুনরুজ্জীবিত করিয়াছেন। অতঃপর আল্লাহ আমাকে ফানার মৃত্যু দান করিয়াছেন। আমি অস্তিত্বহীন হওয়ার পর জ্ঞান আমাকে পুনঃ অস্তিত্ব দান করিয়াছে। আমি তাহার সম্মুখে সম্বলহীন হইয়াছি। তিনি আমাকে বাদশাহ করিয়াছেন।"

হাদীস শরীফে প্রকাশ,

الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ-"যে যাহাকে ভালবাসে, সে তাহারই সংগে।"

এই বিধান অনুযায়ী খোদাতায়ালার প্রিয়পাত্রগণ সর্বদাই তাহার সংগে। দৈহিক সংগ আল্লাহপাকের সংগ লাভের পথে একপ্রকার প্রতিবন্ধক বটে। এই অন্ধকারময় দেহের কাঠামো হইতে অর্থাৎ দেহের আকর্ষণ হইতে মুক্তি লাভের পর সবই যেন সম্ভব। সবই যেন নিকটতর মিলন। কারণ "মৃত্যু সেতু তুল্য, বন্ধুর সহিত বন্ধুকে সম্মিলিত করিয়া দেয়।" হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব দুনিয়ার প্রেমে অন্ধ ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে আফসোস করিয়া বলিতেছেন,

"সকলের শেষে হল মানব সৃজন

বিজ্ঞাপন

তাই সে বেগানা হয়ে রইল আজীবন।

সে যদি স্বদেশে ফিরে যেতে নাহি চায়,

অভাগা তাহার মত কে আছে এ ধরায়?"

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব এই পত্রেরই একাংশে আবার বলিতেছেন, মানব জাতি হৃদয়ের শান্তি চায়। আবার পার্থিব শান্তি চায়। মানব জাতির মধ্যে মানব শ্রেষ্ঠ হযরত রাসূলে করীম (সঃ) এর আবির্ভাব হইয়াছে। আবার আবু জেহেলেরও আবির্ভাব হইয়াছে। হযরত রাসূলে করীম (সঃ) বলিয়াছেন,

موْتُوا قَبْلَ أَنْ تَمُوْتُوا

অর্থাৎ-"মৃত্যুর পূর্বেই মরিয়া যাও।" তিনি আবার বলিয়াছেন,

لا يَلِجُ مَلَكُوتَ السَّمَوَاتِ مَنْ لَّمْ يَلِدْ مَرَّتَيْنِ

অর্থাৎ-"যাহার দ্বিতীয়বার জন্ম হয় নাই, সেই ব্যক্তি আসমানী জগতের খবর পায় নাই।" দয়াল নবী (সঃ) এর আর একটি হাদীস হইল, "মৃত্যু হইল সেতু-যাহা বন্ধুর সহিত বন্ধুর সম্মিলন করাইয়া দেয়।"

হযরত গউসপাকও বলিতেছেন, মৃত্যুর পূর্বেই মৃত্যু সম্ভব। সেই মৃত্যু অর্থ প্রাণ ত্যাগ নয়। সেই মৃত্যু দৈহিক প্রবণতা ও রিপুর তাড়না হইতে মুক্তি। পার্থিব জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার খোলস হইতে মুক্তি লাভ। এই মৃত্যুবরণ অর্থ হইল মানুষের মূলে প্রত্যাগমন অর্থাৎ যে স্তরে আল্লাহপাক সকল রূহুকে বলিয়াছিলেন, "আমি কি তোমাদের প্রভু নই"? উত্তরে সকল রূহই বলিয়াছিল "বালা” অর্থাৎ বেশখ, আপনিই আমাদের প্রভু।"-সেখানে প্রত্যাবর্তন।

মানুষ এই পৃথিবীতে থাকিয়াই যে ঐ সকল গুণ অর্জন করিতে পারে, তাহা কুরআন মজীদের বাণী, হযরত রাসূলে করীম (সঃ)-এর হাদীসপাক সমূহ, হযরত গউসপাক (রঃ) ছাহেব ও হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রঃ) ছাহেবের বাণী হইতে বোঝা যায়। ঐ স্তরে পৌঁছাইতে হইলে যে গুণ অর্জন করিতে হইবে তাহা আল্লাহতায়ালার হাকীকী গুণের প্রতিবিম্ব। এই গুণ সমূহ প্রসংগে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রঃ) ছাহেব তদীয় মকতুবাত শরীফে বলিতেছেন, "আপন নাফসকে পরিপূর্ণ কাতেল করিতে হইবে। নাফসকে যদি অস্বীকার না করা হয়, তাহাকে সচেতন ভাবে চালিত না করা যায়, তাহা হইলে নাফসই মানুষকে চালিত করে।" এই গুণ যিনি অর্জন করেন, তিনি আল্লাহতায়ালার মালিক নামের গুণ অর্জন করেন। যিনি অর্জন করিতে পারেন না, তিনি দুনিয়াপরস্ত হইয়া যান। ঐ হাকীকী পর্যায়ে পৌঁছাইতে হইলে আল্লাহতায়ালার "বাছারাত" বা দর্শনকারী গুণ হইতে এমন গুণ নিজের মধ্যে সৃষ্টি করিতে হয় যেন হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। আপন অন্তরের হাল ও নাফসের অবস্থা দেখিবার গুণ লাভ করিতে হইবে। আপন কালবে আগত আল্লাহতায়ালার বাণী শুনিতে পারার গুণ লাভ অর্থাৎ আল্লাহর 'ছামাওয়াত' গুণের প্রতিবিম্ব লাভকরিতে হইবে। এই গুণ যিনি অর্জন করেন, তিনি আল্লাহতায়ালার সামী নামের গুণ অর্জন করেন। ইহার ঊর্ধ্বে সাধককে আল্লাহতায়ালার জীবনদাতা নামের গুণ অর্জন করিতে হয়। এই গুণ ব্যাখ্যা করিয়া হযরত মুজাদ্দেদী আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিতেছেন, রাসূলে করীম (সঃ) এর সুন্নত নিজ জীবনে পুনরুজ্জীবিত করিতে হয়। আল্লাহতায়ালার মৃত্যুদাতা নামের গুণ অর্জন করিতে হয় অর্থাৎ “বেদাত” অর্থাৎ যাহা রাসূলে করীম (সঃ) এর সুন্নাহর সহিত নীতিগত ভাবে সংগত নয়, তাহা ত্যাগ করিতে হয়। এই স্তরে মানুষের সত্ত্বা যে গুণ লাভ করে বা নাফস যে স্তরে পৌঁছায়, তাহা হইল নাফসে মোলহেমা; যে নাফস আল্লাহতায়ালার বাণী বা এলহাম সরাসরি শুনিতে পায়। যিনি এই ভাবে আল্লাহতায়ালাকে পাইবার জন্য, তাহার দর্শনের জন্য, নিজের দৈহিক সত্ত্বা ও অর্জন সাপেক্ষ জ্ঞান আল্লাহতায়ালার স্বার্থে বিসর্জন দিতে পারেন, তাহা হইলে তিনি সেই সকল গুণ নিজের মধ্যে ফিরিয়া পান, যাহা আল্লাহতায়ালা তাহার পরিচিতি দানের জন্য মানুষকে প্রদান করিয়াছেন। এই মাকাম লাভ করা সম্ভব কেবল মাত্র মোর্শেদে কামেলের তত্ত্বাবধানে থাকিয়া আল্লাহতায়ালার অনুসন্ধানে নিবেদিত থাকিলে। মোর্শেদে কামেল নাফী এজবাত জেকের ছালেকের দেহের সকল লতিফায় সংযোজিত করিয়া, তাহাকে পার্থিব আকর্ষণ ও জ্ঞান মুক্ত করান। সাধনার এই স্তরকে তরিকতের ভাষায় আকরাবিয়াত বা তাহার উপরের মাকামের স্তর বলিয়া চিহ্নিত করা হয়। এই স্তরে আল্লাহতায়ালা তাহাকে তাহার হাকীকী পরিচিতি পাইবার সৌভাগ্য দান করেন। এই স্তরে ছালেকের দৈহিক অস্তিত্ব থাকে, কিন্তু তাহার দৈহিক প্রবণতার প্রাধান্য থাকে না। যাহার প্রাধান্য থাকে, তাহা হইল সেইসব গুণ, যাহা দিয়া আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন। ইহা আল্লাহতায়ালার ফজল, তিনি যাহাকে ইচ্ছা ইহা দান করেন। জালিকা ফাদ্বলুল্লাহে ইয়্যুতীহি মাই ইয়াশায়ু (সূরা হাদীদঃ২১) ইহা তপস্যা বা সাধনা সাপেক্ষ নয়। হযরত গউসপাক (রঃ) ছাহেব ছালেক বা সাধকের এই হকীকী ছুরাতকে বলিয়াছেন "তেফলুল মায়ানী" অর্থাৎ আল্লাহ প্রেমের নবজাত শিশু। মানুষ তখন পার্থিব আকর্ষণ ও জ্ঞান উভয় হইতেই মুক্ত হইয়া নিজ হাকীকী ছুরাতকে শিশুর আকারে দেখেন। আবার হযরত রাসূলে করীম (সঃ) ইহা দেখিয়াছেন নূরের তৈরী পূর্ণাংগ যুবকের ছুরাতে। গউসপাক

বলিয়াছেন এই তেফলুল মায়ানীকে বা হাকীকী ছুরাতকে পূর্ণাংগভাবে বর্ধন করিবার জন্য "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্"-এই কলেমা শরীফের জেকের করিতে হয়। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব এই হাকীকী ছুরাতকেই "ওজুদ মাওহুব লাহু" বা খোদাদত্ত শরীর বলিয়াছেন। ওজুদ মাওহুব লাহু দ্বারাই ছালেক আল্লাহতায়ালার হাকীকী গুণ সমূহের ও জাত মোজাররাদার জ্ঞান লাভ করিতে পারে। ইহার পূর্বে বেলায়েতে ছোগরায় আসমা ও সিফাতের প্রতিবিম্বে যে ছায়ের যাহাকে "ছায়েরে আফাকী ও আনফুসি" নামে বা "ছায়েরে ফিল্লাহ" বলিয়া পূর্ববর্তী সূফীগণ অভিহিত করিয়াছেন, তাহা প্রকৃত প্রস্তাবে আল্লাহতায়ালার গুণের প্রতিবিম্বে ছায়ের হয়। কারণ কালবে মূলতঃ মহাকাল্বস্থিত আল্লাহতায়ালার গুণের প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হইতে থাকে। কালব নিজে আল্লাহতায়ালার হাকীকী সিফাতে ভ্রমণ করিতে পারে না।

কিন্তু বেলায়েতে কোবরার ঊর্ধ্বে মানুষের পার্থিব জ্ঞান ও আকর্ষণ মুক্ত যে সত্ত্বা, তাহা আল্লাহতায়ালা তাহার খাছ করিয়া লওয়া বান্দাগণকে দান করেন। এই হাকীকী সত্ত্বা বা "ওজুদ মাওহুব লাহু" বা খোদাদত্ত শরীর আল্লাহতায়ালার হাকীকী সিফাতসমূহে ও তাহার জাত মোজাররাদায় ভ্রমণ করে। ছালেক এই খোদাদত্ত শরীর বা "ওজুদ মাওহুব লাহু” লাভ করে বেলায়েতে কোবরার শেষ অধ্যায়ে কাওছের মাকামে। তিনি বলিতেছেন, এই মাকামে ছালেক নিজের শরীরের মতন একটি কায়া আল্লাহতায়ালার নূরে নিমজ্জিত দেখিয়া থাকে। উহাই ওজুদ মাওহুব লাহু বা খোদাদত্ত শরীর। এই ওজুদ মাওহুব লাহুর গতি বিদ্যুতের চেয়ে বহুগুণ বেশী। তরিকতের পীরানে পীরগণ বলিতেছেন, ইহার গতি বিদ্যুতের চেয়েও লক্ষ গুণ বেশী।

এই ওজুদ মাওহুব লাহুর গতিতেই হযরত রাসূলে করীম (সঃ) পবিত্র মেরাজ শরীফে আল্লাহতায়ালার সহিত সাক্ষাৎ করিয়াছিলেন এবং বেহেশত, দোযখ পরিভ্রমণ করিয়াছিলেন। আলোর গতিতে ভ্রমণ করিলেও যে দূরত্ব হযরত রাসূলে করীম (সঃ) ভ্রমণ করিয়াছিলেন তাহা অতিক্রম করিতে দুনিয়াবী সময়ের ২৭ বৎসর লাগিত। কিন্তু রাসূলে করীম (সঃ) ঐ দূরত্ব অতিক্রম করিয়াছিলেন মাত্র কয়েক নিমিষে। তিনি আল্লাহতায়ালার সহিত সাক্ষাৎ করিয়া, বেহেশত দোযখ-দেখিয়া, নিজ গৃহে ফিরিয়া আসিয়া দেখিলেন, তাহার ওজুর পানি তখনও গড়াইয়া যাইতেছে।

এই 'ওজুদ মাওহুব লাহু' ছালেক লাভ করে তাহার এই বিনাশী শরীরের প্রবণতা ধ্বংসের পরবর্তী অবস্থায়। এই দ্বিতীয় শরীর লাভ করাকেই রাসুলে করীম (সঃ) দ্বিতীয়বার জন্ম গ্রহণ করা বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। এই "ওজুদ মাওহুব লাহু" সাধকের সম্মুখে অনেকটা তাহারই ছুরাত লইয়া দেখা যায়। কুওতে নজরীয়ার বরকতে এই "ওজুদ মাওহুব লাহু" মহান আল্লাহতায়ালার জাতপাকের দিকে দর্শনকারী হিসেবে দাঁড়াইয়া থাকে; ভিতরে অর্থাৎ জাত পাকের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারে না।

পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা যখন তাহার প্রেমাস্পদ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিজের দিকে আহবান করিয়াছিলেন, তখন হুজুর (সাঃ), হযরত জীব্রাইল (আঃ) কে রাখিয়া সামনে অগ্রসর হইয়া তাইনে আওয়াল'-এর শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর সাথে সাথে তাহাকে বলা হইয়াছিল,

قفْ يَا مُحَمَّدُ

অর্থাৎ-“হে মুহাম্মদ! আপনি থামুন।" কারণ জাত মোজাররাদায় কাহারও প্রবেশাধিকার নাই।

আল্লাহপাক তাহার অপার করুণাতেই হযরত রাসূলে করীম (সঃ) কে তাহার সহিত সাক্ষাৎ দান করিয়াছিলেন। ইতেবারাত'-এর সমস্ত পর্দা হযরত রাসূলে করীম (সঃ) এর সম্মুখ হইতে তুলিয়া লওয়া হইলেও নিছক জাত মোজাররাদায় তিনিও পদার্পণ করেন নাই। তাহার শেষ অবস্থার কথা বলিতে যাইয়া হযরত রাসূলে করীম (সঃ) বলিতেছেন "আল্লাহতায়ালার যে নৈকট্য আমি লাভ করিয়াছি, তাহা অন্য কোন নবী বা ফেরেশতা লাভ করেন নাই।"

এই ওজুদ মাওহুব লাহুর দ্বারাই আল্লাহতায়ালার জাত এবং জাহেরী ও বাতেনী সিফাতে ছালেকের ছায়েরে আনফুসি সম্পন্ন হয়। ঐ ওজুদ মাওহুব লাহুর দ্বারা আল্লাহতায়ালার জাত ও তাহার জাহেরী ও বাতেনী সিফাতের রাজ্যে ছায়ের করার ফলে ওজুদ মাওহুব লাহুর সহিত আল্লাহতায়ালার জাতের ও তাহার জাহেরী-বাতেনী সিফাতের এক নূরের সংযোগ সৃষ্টি হয়। একই ভাবে আল্লাহতায়ালার জাহেরী ও বাতেনী সিফাতের মাধ্যমে সৃষ্ট সকল বস্তু অর্থাৎ সমগ্র বিশ্ব জগৎ ও সমগ্র সৃষ্টির সহিত নূরের সংযোগ হয়। এই নূরের সংযোগ সৃষ্টি হইবার কারণে আল্লাহতায়ালার জাত, সিফাত, সৃষ্টিজগতস্থিত সকল ব্যক্তি ও বস্তুর সহিত সাধকের স্থায়ী সংযোগ সকল সময় বিদ্যমান থাকে। আলমে মেছালে সৃষ্টির সকল কিছুরই ছরাত রহিয়াছে। সেই আলমে আল্লামের সহিতও ওজুদ মাওহুব লাহুর নূরের সংযোগ থাকিয়া যায়। তাই ঐ স্তরের সাধক সৃষ্টির আদি অন্ত অর্থাৎ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের জ্ঞান লাভ করেন। তাহার নিকট তখন বিশ্ব জগতের সকল ব্যক্তি, বস্তু ও তাহাদের হাকীকী জ্ঞান আসিতে থাকে। অর্থাৎ সকল বস্তু ও ব্যক্তির ক্রিয়া কর্মের ভাল মন্দ জানিতে পারে। তাহাদের জ্ঞানের পরিধি কেয়ামতের পর বেহেশত, দোযখের অনন্তকাল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তাই হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব, তাহাদের মাকামকে সকলের ঊর্ধ্বে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। ঐ স্তরের সাধক সময়ের সহিত নয়, সময়ের মালিকের সহিত সম্বন্ধযুক্ত বলিয়া তিনি উল্লেখ করিয়াছেন। ওজুদ মাওহুব লাহু দ্বারা এই রূপে আল্লাহতায়ালার সহিত সাধকের স্থায়ী ফানা ও বাকা লাভ হয়। যাহাকে হযরত মুজাদ্দেদ ছাহেব প্রকৃত ফানা বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন।

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিতেছেন, "বেলায়েতে ছোগরার মাকামে বা জেল্লীর মাকামে যে ফানা তাহা প্রকৃত ফানা নয়। কারণ তাহা হইল আল্লাহতায়ালার সিফাত সমূহের জেল্লীর সহিত ফানা। আর ছালেক ঐ স্তরে পার্থিব আকর্ষণ হইতে নিজেকে প্রত্যাহার করিয়া লইলেও পার্থিব জ্ঞান হইতে মুক্ত হয় না। যতক্ষণ ছালেকের পার্থিব বিচার বুদ্ধি জ্ঞান অবশিষ্ট থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ছালেকের মধ্যে আল্লাহতায়ালার অসীম ও হাকীকী জ্ঞান আসিতে পারে না।

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব তাই বলিতেছেন, "ওজুদ মাওহুব লাহু লাভ করিবার পর আল্লাহর সহিত সাধকের ওজুদ মাওহুব লাহুর দ্বারা যে ফানা লাভ হয়, তাহাই প্রকৃত ফানা।” তিনি বলিতেছেন যে, “হযরত শায়খ বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব যাহাকে ওজুদে আদম বলিতেছেন, তাহা আল্লাহতায়ালার জাতে আসা যাওয়া করে। কিন্তু সেই ওজুদে আদম দ্বারা প্রকৃত ফানা লাভ হয় না। কিন্তু যাহারা ওজুদ মাওহুব লাহু বা খোদাদত্ত শরীর প্রাপ্ত হন, তহাদের অবস্থা সর্বদা এক ভাবাপন্ন থাকে। তাহাদের জ্ঞান সর্বদাই সময় ও অবস্থা ভেদের ঊর্ধ্বে থাকে। তাহারা সময় ও অবস্থার মালিকের সহিত ফানা প্রাপ্ত বা সম্মিলিত থাকেন। তাহাদের জ্ঞান আল্লাহতায়ালার নিকট হইতেই আসিতে থাকে। তাহারা আর সৃষ্টি জগতের জ্ঞান দ্বারা পরিচালিত হন না। তাহাদের জ্ঞান ও অনুভূতি সকল কিছুই সময় ও অবস্থা অতিক্রম করিয়া যায়। তরিকতের পীরানে পীরগণ উল্লেখ করিতেছেন, সুফীসাধকের "জাত মাওহুব” যখন জেকেরের দ্বারা পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়, তখন এই খোদাদত্ত শরীরের সহিত সিফাতস্থিত সৃষ্টির হকিকত সহঅবস্থান করে। যেমন আল্লাহতায়ালার সহিত তাহার আসমা ও সিফাত বর্তমান আছে, সেই রূপ আরেফের সিফাতে হাকীকীস্থিত হকিকত তদীয় জাত মৌহুবের সহিত অবস্থান করে। খোদাদত্ত এই নূরের শরীরকে কোন কোন সাধক আল্লাহতায়ালার প্রতিবিম্ব বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন কিন্তু তাহা শরীয়তের খেলাফ। কারণ শরীয়তে বলা আছে, আল্লাহতায়ালার কোন ছুরাত নাই। তাই ছুরাত সাদৃশ্য ওজুদ মাওহুব লাহুকে আল্লাহতায়ালার প্রতিবিম্ব বলা শরীয়ত সিদ্ধ হইবে না। ইহা আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ ও দান বলাই শরীয়ত সিদ্ধ ও যথাযথ।

এই খোদাদত্ত শরীর লাভের পূর্বের স্তর সমূহে সাধকের সহিত আল্লাহতায়ালার সিফাতের প্রতিবিম্বের যে সম্পর্ক ছিল তাহা এবং ওজুদ মাওহুব লাহু পাইবার পরের সম্পর্ক, সকলই একত্রে মিলিত হইয়া আল্লাহ ও তাহার দয়া ও মহব্বত প্রাপ্ত সাধকের মধ্যে এক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হয়। এই নতুন অবস্থায় আল্লাহতায়ালার সিফাতের জেল্লীয়াত' হইতে সৃষ্ট সকল কিছুর সহিতই আরেফের জাতের এক নিবিড় সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় সাধকের অনুভূতি যাহা তাহা প্রকাশ করা যায় না। তিনি সৃষ্টি জগতের যে কোন প্রান্তেই থাকুন না কেন, মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত সৃষ্টির অন্তরের অনুভূতিকে বুঝিতে পারেন। সৃষ্টির সকল স্থানের সকল কিছুর দৃশ্য তখন তাহার নজরে ওজুদ মাওহুব লাহু হইয়া আসিতে থাকে। তিনি সৃষ্টির প্রথম হইতে অনন্ত সময় পর্যন্ত জ্ঞান লাভ করেন। এই অবস্থায় তাহার মধ্যে সৃষ্টির সকল কিছুর প্রতি আল্লাহতায়ালার যে অনুভূতি, সেই অনুভূতিই প্রতিফলিত হয়। তিনি তখন সৃষ্টির রক্ষক ও সকল শুভ সমূহের প্রতীক ও প্রতিভূ ও সকল অশুভের বিরুদ্ধে সত্যের প্রতিভূ হইয়া দাঁড়ান। তিনি তখন হন সমগ্র সৃষ্টির আশ্রয় স্থান। আল্লাহতায়ালা ঐ স্তরের সাধকদের নিকটই সৃষ্টিকে হেদায়েত, হেফাযত ও সৃষ্টির সার্বিক কল্যাণের ভার দিয়া থাকেন।

আল্লাহতায়ালার নিরানব্বই (৯৯) নামের ঝলক খোদাদত্ত শরীর বা ওজুদ মাওহুব লাহু হইয়া হায়াতে ওহাদানীতে আসে। তৎপর হায়াতে ওহাদানী হইতে ছুরাতে রূহে বেমেছালীর মাধ্যমে রূহের উপরে পড়ে, তথা হইতে নাফসের উপর পতিত হয়। তৎপর এই তাজাল্লা বা নূরের ঝলক ৭০,০০০ হাজার লতিফায় অর্থাৎ দেহের সমস্ত লতিফার উপর পড়ে। মাথার চান্দি হইতে পায়ের তলা পর্যন্ত দেহের সমস্ত লতিফায় যত রকমের ফয়েজ ওয়ারেদ হয়, তাহা 'ওজুদ মাওহুব লাহু' হইয়া আসিতে থাকে।

'ওজুদ মাওহুব লাহু' প্রাপ্ত সাধক দুনিয়াতে খুবই কম আগমন করেন। কোটি কোটি তারকার মধ্যে যেমন একটি মাত্র চন্দ্র-যাহা সমস্ত তারকা রাজ্যকে আলোকিত করে এবং পৃথিবীকেও সেই গুণে গুণান্বিত করে। তেমনি ধরণের ওলী, যিনি 'ওজুদ মাওহুব লাহু' প্রাপ্ত হন।

'ওজুদ মাওহুব লাহু' প্রাপ্ত সাধকের মধ্যে আল্লাহর নিরানব্বই নামের ঝলক সদা সর্বদা পতিত হইতে থাকে। সে তখন আল্লাহর চরিত্রে চরিত্রবান হয়, আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হয়। পূর্ববর্তী ওলী আল্লাহ সকল বেলায়েতে ছোগরার ভিতরে সাধনা শেষ করিয়াছেন। বেলায়েতে ছোগরার মধ্য হইতেই তাহারা তৌহিদে ওজুদী ও তৌহিদে শহুদী-এই দুই গুণ লাভ করিয়া পরিপূর্ণ ওলীর দরজায় পৌঁছাইয়াছেন। কিন্তু হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বেলায়েতে ছোগরার উপরে ১৯/২০ টি মাকাম পার হইয়া হোব্বে সেরফা ও মাবুদিয়াতে সেরফা পর্যন্ত গমন করেন। এই পর্যন্ত যিনি গমন করেন, তিনি আল্লাহপাকের হাকীকী গুণে গুণান্বিত হন। তাই হযরত শেখ সাদী (রঃ) বলিতেছেন যে, একটা পতঙ্গ আগুনে সম্পূর্ণ পুড়িয়া যখন আগুনের রং-এ রংগীন হয় তখন সে দুনিয়াবাসীদেরকে ডাকিয়া বলে, "হে দুনিয়ার মানুষ! তোমরা তাকাইয়া দেখ, আজ আমি আর আমার মাশুক এক হইয়া গিয়াছি।" তাই এই জগতে 'ওজুদ মাওহুব লাহু' প্রাপ্ত সাধক, যিনি এই দরজায় পৌঁছান, তিনি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর চরিত্রে চরিত্রবান হন, আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হন।

তাই বলি, হে জাকেরগণ! তোমরা যদি আল্লাহতায়ালার প্রেমিক হইতে চাও, তাহা হইলে আল্লাহতায়ালার প্রেমাগ্নিতে তোমাদের সমস্ত শরীর এবং নাক্সকে ভস্মীভূত কর। তখন তোমার নিজের বলিয়া কিছুই থাকিবে না, প্রেমাগ্নিতে পুড়িয়া তোমার সমস্ত কিছু ভস্ম হইয়া যাইবে। তুমি খালি বা শূন্য হইয়া আল্লাহতায়ালার প্রেমিক হইবে। তৎপর আল্লাহ তোমাকে পূর্ণ করিয়া দিবেন। আল্লাহপাক যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে এই নেয়ামত দান করেন। ইহা আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ।

এই ভাবে নাফসকে পাক করিয়া আল্লাহর গুণে গুণান্বিত করিয়া নাফসে মোলহেমা এবং নাফসে মোহাদ্দেসার পর্যায়ে উন্নীত করিতে পারিলে কবরবাসীরাও কবর হইতে তখন ছালাম জানায়। এই ধরণের ওলী পথিবীতে খুব কম আসে। এই উচ্চ মাকামের ওলী ছিলেন হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব। তাহার এই বিশাল দফতরে তোমরা লক্ষ লক্ষ মুরীদান। তোমাদের একজনও যদি এই দরজায় পৌছাইতে পার, তাহা হইলে ওজুদ মাওহুব লাহুর আকাশে পর্ণ চন্দ্রের মত বিরাজ করিবে। আল্লাহপাক তোমাকে তাহার দ্বীন প্রচার করিবার দায়িত্ব দিবেন। তুমি তখন দুনিয়ার মানুষদিগকে ঘুরাইয়া আল্লাহর দিক করিবে।

তরিকতের সমুদ্রে এই সমস্ত মাকাম হাছিল করা অত্যন্ত কঠিন। আল্লাহতায়ালা যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে এই সকল গুণে গুণান্বিত করেন। যিনি এই সকল হাকীকী গুণ অর্জন করিতে পারেন, তিনি হন মানব শ্রেষ্ঠ, রাসূলে করীম (সঃ) এর উম্মতের মধ্যে হাকিমুল উম্মত এবং আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বান্দা হিসেবে স্বীকৃতি পান। তিনি বিশ্ব মানবের হেদায়েতের ক্ষেত্রে আল্লাহতায়ালার ছায়া স্বরূপ দুনিয়াতে বিরাজ করেন। নবীজী (সাঃ) বলেন,

الْأَوْلِيَاءُ ظِلُّ اللَّهِ

অর্থাৎ-'ওলীআল্লাহগণ আল্লাহতায়ালার ছায়া'। তাহারা দুনিয়াবাসীদের জন্য বিশেষ রহমত। এই রকম সাধক ছিলেন হযরত খাজাবাবা শাহ্সূফী এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেব। যিনির তাওয়াজ্জুয়ে এত্তেহাদীর বলে কোটি কোটি মানুষ খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্ব লাভ করিতেছে এবং করিতে থাকিবে। ঐ সমস্ত সাধকের তৌহিদে ওজুদী, তৌহিদে শহুদী এবং জাহেরা শরীর, আদামাত পর্যন্ত নূরের বর্মের মধ্যে সুরক্ষিত থাকে।

তাই তোমরা যদি এই অপূর্ব নেয়ামত হাছিল করিতে চাও। দুনিয়ায় থাকিয়া যদি আল্লাহতায়ালাকে দেখিতে চাও, আল্লাহর চরিত্রে যদি চরিত্রবান হইতে চাও, আল্লাহর গুণে যদি গুণান্বিত হইতে চাও, তাহা হইলে সদা সর্বদা আপন পীরের খেয়ালে থাক, আপন পীরের দেলের সংগে দেলকে মিশাইয়া রাখ। হায়াতে ওহাদানী, হকিকতে ওহাদানী, ছয় ছুরাত-ছুরাতে অছলী, ছুরাতে চ মেছালী, ছুরাতে রূহানী, ছুরাতে জেসমানী, ছুরাতে জাহেরী, ছুরাতে বাতেনী, খেয়াল খেয়ালে নজর, সম্পূর্ণ আপন পীরের সংগে মিশাইয়া যদি ফানার মাকামে যাইতে পার, তবে এই উচ্চ দরজা আল্লাহপাক দয়া করিয়া তোমাদের জন্য খুলিয়া দিবেন। আল্লাহ তোমাদের কামিয়াবী বখশিস্ করুন। দু'আ।

হে খোদা! আপনি যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে এই অলৌলিক নেয়ামত দান করিতে পারেন। আমরা সকলেই গোনাহগার। আপনি দয়া করিয়া আমাদের দেলকে সাফ করিবার জন্য ফয়েজ এবং আপনার তাজাল্লা দান করুন। আমীন!

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD