Logo

পালিয়ে বিয়ে করলে বিয়ে শুদ্ধ হবে কি?

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:০৮
পালিয়ে বিয়ে করলে বিয়ে শুদ্ধ হবে কি?
ছবি: সংগৃহীত

অনেক তরুণ-তরুণীর মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্কের পর পরিবারের অমতে বিয়ে করার প্রবণতা দেখা যায়। কেউ কেউ পরিবারের সম্মতি না পেয়ে গোপনে বা পালিয়ে বিয়ে করেন। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামী শরিয়তে সেই বিয়ে বৈধ কি না, পরে আবার বিয়ে পড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার মৌলিক শর্ত

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, বিয়ের ক্ষেত্রে ইজাব ও কবুল অর্থাৎ এক পক্ষের প্রস্তাব এবং অপর পক্ষের গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নির্ধারিত সংখ্যক সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়াও প্রয়োজন।

হানাফি মাজহাবের মতে, দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষের মধ্যে বিয়েতে শরিয়তগত কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলে এবং নারী অন্য কারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না থাকলে, দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতিতে যথাযথভাবে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হলে বিয়ে শুদ্ধ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

অর্থাৎ শুধু পরিবারের অমতে বা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করা হয়েছে—এ কারণেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিয়ে বাতিল হয়ে যায় না। বিয়ের অন্যান্য শরিয়তসম্মত শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, সেটিই মূল বিষয়।

বিজ্ঞাপন

অভিভাবকের মতামত নিয়ে আলেমদের মতভেদ

নারীর অভিভাবকের (ওলি) অনুমতি ছাড়া বিয়ের বিষয়ে ইসলামি ফিকহে মতভেদ রয়েছে। হানাফি মাজহাবের অবস্থান এবং অন্যান্য মাজহাবের মত এক নয়। অনেক আলেম অভিভাবকের অনুমতি ও সম্পৃক্ততাকে বিয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং তাদের মতে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া নারীর বিয়ে শুদ্ধ হয় না।

তাই এমন বিষয়ে শুধু একটি মতের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি জানিয়ে যোগ্য আলেম বা মুফতির কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিজ্ঞাপন

পরিবারকে বাদ দিয়ে বিয়ে কেন নিরুৎসাহিত

বিয়ে ইসলামে শুধু দুজন মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়; এর সঙ্গে পরিবার, সামাজিক দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ জীবনের নানা বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। এ কারণে বাবা-মা ও পরিবারের অভিজ্ঞ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়াকে অধিকতর কল্যাণকর মনে করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জীবনের ছোটখাটো সিদ্ধান্তেও আমরা অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিই। সেখানে বিয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আবেগের বশে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভবিষ্যতে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে।

আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতাও বিবেচনায় জরুরি

বিজ্ঞাপন

বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর পারিবারিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, মানসিক প্রস্তুতি, দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক সামঞ্জস্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। শুধু সাময়িক আবেগ বা ভালো লাগার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে দাম্পত্য জীবনে সমস্যার কারণ হতে পারে।

পরিবারের আপত্তি থাকলে তার কারণ বোঝার চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় অভিভাবকেরা সন্তানের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ, দাম্পত্য জীবনের স্থায়িত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করেই কোনো সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান।

তাই বিয়ের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। পরিবারের সম্মতি ও দোয়া নিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করতে পারলে ভবিষ্যৎ জীবনও অনেক বেশি স্বস্তিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD