Logo

প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বিষণ্নতা দূরীকরণে সুফিবাদের চর্চা অপরিহার্য

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:২৭
প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বিষণ্নতা দূরীকরণে সুফিবাদের চর্চা অপরিহার্য
ছবি প্রতিনিধি।

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিশ্বে মানুষ একে অপরের সঙ্গে ক্রমেই বেশি সংযুক্ত হলেও বাড়ছে একাকিত্ব ও তীব্র বিষণ্নতা। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে আত্মচেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হযরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (রহ.)-এর শিক্ষা এবং সুফিবাদের পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মাওলানা শায়খ সাইফুল আজম বাবর আল-আযহারী।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘হযরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (রহ.)-এর শিক্ষা ও আত্মচেতনার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. আকরাম হোসেন।

শায়খ সাইফুল আজম বাবর বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা ও ঐশ্বরিক বিধান দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। মানুষ যখন এই স্বাভাবিক ও ঐশ্বরিক নিয়ম থেকে দূরে সরে যায়, তখন আধুনিক সমাজে নানা ধরনের ক্ষয় ও বিপর্যয় দেখা দেয়।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কৃত্রিম উপায়ে উৎপাদিত খাদ্যের কারণে পুষ্টি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব মানুষের জীবনযাপনেও পড়ছে এবং মানুষের জীবন থেকে বরকত ও শান্তি কমে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন

সুফিবাদ ও তাসাউফের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আল-আযহারী বলেন, হযরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (রহ.) যে সুফিবাদের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তা কোনো নতুন বিষয় নয়। এর ঐতিহাসিক ভিত্তি প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর আগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং পূর্ববর্তী নবী-রাসূলদের শিক্ষার মধ্যে নিহিত রয়েছে।

আলেম ও সুফিদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সাধারণ আলেম বা বক্তারা কথার মাধ্যমে মানুষের পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে সুফি-সাধকেরা নিজেদের আত্মিক অবস্থার পরিবর্তন ও অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে স্থায়ী পরিবর্তন এবং আধ্যাত্মিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা করেন।

পাশ্চাত্যের বস্তুগত শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে শায়খ সাইফুল আজম বাবর বলেন, হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ডের মতো বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করলেও মানুষের আত্মিক শান্তি ও মুক্তির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমাধান দিতে পারছে না।

বিজ্ঞাপন

তার দাবি, এর ফলে উন্নত দেশগুলোতেও তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে এবং অনেক প্রবীণ মানুষ একাকিত্ব ও অবহেলার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, নিজেকে জানা এবং নিয়মিত আত্মিক চর্চা আধুনিক প্রজন্মের বিষণ্নতা কাটিয়ে ওঠার কার্যকর উপায় হতে পারে। তার মতে, হযরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (রহ.)-এর মতো মনীষীরা বিভিন্ন যুগে দ্বীন ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD