লতিফাসমূহে জেকের জারী করাইতে পীরে কামেলের প্রয়োজনীয়তা

হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কূঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত ‘তৌহিদে ওজুদী ও তৌহিদে শহুদী এবং ছায়েরে আফাক ও আনফা’ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ছায়েরে আফাক ও ছায়েরে আনফাসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা, শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও নাফসের ধোকা থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে জেকেরের ভূমিকা, লতিফাসমূহে জেকের জারী করাইতে পীরে কামেলের প্রয়োজনীয়তা এবং উচ্চস্তরের মারেফাত সম্পর্কে আলোচনাঃ
বিজ্ঞাপন
মারেফাত অর্থ হইল আল্লাহতায়ালা ও তদীয় সৃষ্টি জগতকে চিনিবার জ্ঞান। আল্লাহতায়ালাকে চিনিবার জন্য সূফী সাধকগণ দুই প্রকার আত্মিক ভ্রমণ করেন। এই দুই প্রকার আত্মিক ভ্রমণ হইলঃ- ছায়েরে আফাক ও ছায়েরে আনফাস। বহির্জগত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করিবার জন্য আত্মিক ভ্রমণকে বলা হয় "ছায়েরে আফাক"। আর অন্তর্জগতে বা মানসলোকে অর্থাৎ দেহের অভ্যন্তরে লতিফাসমূহে ছায়েরকে বলা হয় "ছায়েরে আনফাস।"
আল্লাহপাক হাদীসে কুদসীতে বলিতেছেন, তিনি তাহার "হোব্ব' বা মহব্বত প্রকাশ করিবার জন্য বিশ্ব জগৎ সৃষ্টি করিয়াছেন-
كُنتُ كَنْرًا مَّخْفيًا فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَعْرَفَ فَخَلَقْتُ الْخَلْقَ لأَعْرَفَ
বিজ্ঞাপন
অর্থাৎ-“আমি গুপ্ত ধনভান্ডার ছিলাম; অতঃপর নিজেকে প্রকাশ করিবার জন্য বিশ্ব জগৎ ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করিলাম।”
আল্লাহতায়ালার পরিচয় দানের পাত্র হইল মানুষ। হাদীসে কুদসীতে ইহাও তিনি বলিতেছেন,
الإِنْسَانُ سِرَى أَنَا سِرُّهُ
বিজ্ঞাপন
অর্থাৎ-'মানুষ আমার গুপ্তভেদ, আমি মানুষের গুপ্তভেদ।' মানুষ যাহাতে আল্লাহতায়ালার পরিচয় গ্রহণ করিতে পারে এই জন্য তিনি মানুষের ওজুদ রাজ্যকে কোটি কোটি লতিফা দ্বারা সুসজ্জিত করিয়াছেন। তৌহিদে ওজুদ রাজ্য হইল আল্লাহতায়ালার নূর সম্বলিত দেহ। কিন্তু এই দেহ সৃষ্টি জগতের দুষণযুক্ত, আদামাতের আবরণ দ্বারা ঢাকা থাকে। মোর্শেদে কামেলের তত্ত্বাবধানে থাকিয়া ছালেক বা খোদা-তালাশী ব্যক্তি যখন আল্লাহতায়ালার জ্ঞান লাভকে তাহার লক্ষ্য নির্ধারিত করিয়াছে বলিয়া মুর্শিদের নিকট প্রতীয়মান হয় তখন মোর্শেদে কামেল তদীয় পাক "তাওয়াজ্জুহ-এ-ইত্তেহাদী” দ্বারা ছালেকের দেহের লতিফা সমূহকে একে একে জিন্দা করান। ফলে ছালেকের কালব, রূহ, ছের, খফি, আখফা, নাফস, আব, আতশ, খাক, বাদ ও দেহের ৭০ হাজার লতিফা সম্বলিত লতিফায়ে কালেবে জেকের জারী হয়। ঐ সকল লতিফা সমূহে মোর্শেদে কামেল তদীয় পাক "তাওয়াজ্জুহ-এ-ইত্তেহাদী” দ্বারা প্রথমে "এসমে জাত" অর্থাৎ আল্লাহ নামের জেকের ও পরে নাফী-এজবাত অর্থাৎ কলেমা শরীফের জেকের সংযোজন করান। তখন আসমান-জমীন ব্যাপী নাফী-এসবাত জেকেরের চাকা ঘুরিতে থাকে। এই "নাফী এজবাত" জেকের দ্বারা মুরীদের গোনাহের ময়লা, গোনাহের তাছির, গোনাহের জুলমত, গোনাহ করিবার হাউশ সমস্তই সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস হইয়া পাক সাফ হইয়া যায়। তখন আল্লাহতায়ালা সিফাতি নূরের পোষাক ঐ গোনাহ মুক্ত ছালেককে পরাইয়া দেন। তখন তাহার ওজুদ রাজ্য নূরের বসন-ভূষণে সজ্জিত হয়। তাহার বক্ষ নূরের সমুদ্রে পরিণত হয়।
আল্লাহতায়ালার এই অপূর্ব নেয়ামত লাভ হয় মোর্শেদে কামেলের পাক তাওয়াজ্জুহ দ্বারা। ঐ স্তরে ছালেক যখন নিজের দেহের লতিফা সমূহে নিমজ্জিত হয়, তখন আল্লাহতায়ালার আসমা ও সিফাত-এর নূর সমূহের প্রতিবিম্ব তাহার দেহের লতিফা সমূহে প্রতিফলিত হয়।
কোন ব্যক্তি একাকী চেষ্টা দ্বারা তাহার মুখে জেকের করিতে পারে। কিন্তু দেহের অভ্যন্তরে লতিফা সমূহে কোন ব্যক্তি ইচ্ছা করিলেই জেকের করিতে বা করাইতে পারে না। পীরে কামেলের পাক তাওয়াজ্জুহ ব্যতীত কোন ব্যক্তির পক্ষে এই রূপে দেহের লতিফা সমূহ তথা সর্ব দেহের অণু-পরমাণুতে জেকের করানোও সম্ভব নয়, করাও সম্ভব নয়। তাই গোনাহ হইতে মুক্ত হওয়াও সম্ভব নয়। কারণ, আল্লাহতায়ালার নূরই কেবলমাত্র শয়তানকে দূরে রাখিতে এবং কু-প্রবৃত্তি হইতে ছালেককে রক্ষা করিতে পারে। মানুষ নিজে চেষ্টা করিয়া কু-প্রবৃত্তি হইতে রক্ষা পাইতে পারে না। তাই আল্লাহপাক কুরআন মজীদে এরশাদ করিয়াছেন,
বিজ্ঞাপন
إِنَّ الشَّيْطَنَ لِلإِنْسَانِ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
অর্থাৎ-"নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন।" (সূরা ইউসূফঃ ৫)
তাই শয়তানের হাত হইতে বাঁচিয়া থাকা প্রত্যেক ঈমানদারের কর্তব্য পীরে কামেলের পাক তাওয়াজ্জুহ দ্বারা মুরীদের দেহের কোটি কোটি লতিফায় নূরের বালব জ্বলিয়া ওঠে। তখন তাহার সারা দেহ ও সত্ত্বা নূরের বর্মে সুরক্ষিত থাকে। লৌহের বর্মের মধ্যে যেমন যুদ্ধরত সৈনিক সুরক্ষিত থাকে, তেমনি আল্লাহতায়ালার নূরের বর্মে ঐ স্তরের ছালেক বা মুরীদ সুরক্ষিত থাকে। হযরত মাওলানা রূমী (রঃ) বলিতেছেন, "আল্লাহতায়ালার নূর আমার ডাইনে-বামে-নীচে-উপরে এবং মাথায় ও গলায় মালার মতন বেষ্টন করিয়া থাকে। এই নূরের বেষ্টনী ছাড়া শয়তানের হাত হইতে রক্ষা পাওয়া যায় না।" তাই এই নূরের বেষ্টনী দ্বারা সর্ব দেহকে রক্ষা করিবার জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে মদদ চাহিতে হইবে। রাসূলে করীম (সঃ) তদীয় সাহাবাগণকে মোনাজাত করিতে শিখাইয়াছেন- "হে আল্লাহ! আপনি আমার দেলে নূর দান করুন, আমার চোখে নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন; আমার বামে নূর দান করুন, আমার শিরায় শিরায়, স্নায়ুতে স্নায়ুতে, রক্তে-মাংসে নূর দান করুন। আপনি আমার আপাদমস্তক নূর বানাইয়া দেন। আপনি আমার উপর-নীচে নূর দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি নূর আর নূরই দান করুন। আল্লাহতায়ালা কুরআন মজীদে আমাদের মোনাজাত করিতে শিখাইয়াছেন,
বিজ্ঞাপন
رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُوْرَنَا -
অর্থাৎ-'হে আল্লাহ! আপনি আমাকে নূরে পরিপূর্ণ করিয়া দিন।' (সূরা তাহরীমঃ ৮)
রাসূলে করীম (সঃ) বলিতেছেন, 'শয়তান তোমাদের রক্তের শিরায় শিরায় চলাচল করে।' তাই সর্ব দেহে জেকের এবং জেকেরের নূর প্রয়োজন। যখন ছালেকের সর্ব দেহে জেকের হয় তখন আল্লাহতায়ালা তাহাকে নূরের পোষাক পরাইয়া দেন। তখন তাহার দিকে তাকাইলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়।
বিজ্ঞাপন
যে নূরের জন্য স্বয়ং আল্লাহপাক, রাসূলে করীম (সঃ) তথা সকল বুযুর্গগণ শয়তানের হাত হইতে বাঁচিবার একমাত্র বর্ম বলিয়াছেন, তাহা লাভ করা সম্ভব দেহের সর্ব লতিফায় জেকেরের দ্বারা। আর এ লতিফা সমূহে জেকের জারী করাইতে পারেন একমাত্র পীরে কামেল। এই জন্যই গোনাহ্ হইতে পাক হওয়া ও তৎপর আল্লাহতায়ালার পরিচয় গ্রহণের জন্য প্রয়োজন মোর্শেদে কামেলের পাক তাওয়াজ্জুহ-এ-ইত্তেহাদী এবং তদীয় তত্ত্বাবধান। খোদা তালাশের পথে তথা নিজেকে গোনাহ হইতে পাক রাখিবার একমাত্র উপায় মোর্শেদে কামেলের পাক তাওয়াজ্জুহ। ইহার কোন বিকল্প নাই। তাই আল্লাহপাক বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَ ابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ -
অর্থাৎ-“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আল্লাহকে পাইবার জন্য অসিলা অন্বেষণ কর।" (সূরা মায়েদাঃ ৩৫)
বিজ্ঞাপন
মোর্শেদে কামেলের পাক তাওয়াজ্জুহ দ্বারা গোনাহ হইতে পাক হইয়া অন্তরের পবিত্রতা ও ইবাদতের এখলাস বা বিশুদ্ধতা অর্জন না করিলে নামাজ, রোজা, বন্দেগী বিশুদ্ধ হইবে না। আল্লাহতায়ালার দরবারে এখলাস বিহীন ইবাদত কবুলিয়াতের দাবীদার হইতে পারে না। আল্লাহপাক বলিতেছেন, "আমি তাহাদের এখলাস বা অন্তরের বিশুদ্ধতার সহিত ইবাদত করিতে বলিয়াছি।" এই এখলাস বা অন্তরের বিশুদ্ধতা আসে আল্লাহতায়ালার পবিত্র নাম ও গুণাবলীর নূর হইতে যাহা দেহের লতিফা সমূহের জেকেরের দ্বারা দেহের লতিফা সমূহে আসিতে থাকে। পীরে কামেল আল্লাহপাকের সহিত ফানা ও বাকা সিদ্ধ থাকেন। প্রকৃত পীরে কামেল অর্থাৎ যিনি আল্লাহপাকের তরফ হইতে হেদায়েতের ভারপ্রাপ্ত তিনি এমনই মাকাম প্রাপ্ত থাকেন যে তাহার সর্ব শরীরে আল্লাহতায়ালার দায়েমী বা সার্বক্ষণিক তাজাল্লী আসিতে থাকে। তাই তাহার রুহানী শক্তি প্রয়োগ দ্বারা অন্যের দেহের লতিফা সমূহে জেকের জারী করাইয়া পবিত্রতা দান করিতে পারেন। তাই আল্লাহপাক কুরআন মজীদে বলিতেছেন, "তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও তাহাকে পাইবার জন্য অসিলা অন্বেষণ কর।" মোর্শেদে কামেলের অনুসরণ ও দয়া ব্যতীত ইবাদতের বিশুদ্ধতা ও আল্লাহপাকের অন্বেষণ সম্ভব নয়; এমনকি কবুলিয়াতের যোগ্যতার জন্য যে এখলাস প্রয়োজন সেই এখলাস সহ ইবাদতও সম্ভব নয়। তাই আল্লাহপাক কুরআন মজীদে পুনরায় বলিতেছেন,
وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُرْشِدًا -
অর্থাৎ-"যাহারা পথ প্রদর্শনের জন্য কোন ওলীকে মোর্শেদ হিসাবে বা পথ প্রদর্শক হিসেবে প্রাপ্ত হয় নাই; তাহারা ভ্রান্ত পথে রহিয়াছে।" (সূরা কাহাফঃ ১৭)
বিজ্ঞাপন
মোর্শেদে কামেলের সান্নিধ্য ও অনুসরণ ব্যতীত যেহেতু এখলাস সহ ইবাদত সম্ভব নয়; তাই একজন বুযুর্গ (ঈমাম রাজী) বলিয়াছেন,
مَنْ لَيْسَ لَهُ شَيْخٌ فَشَيْخُهُ الشَّيْطَانُ
অর্থাৎ-"যাহার পীর নাই, তাহার পীর শয়তান।"
বিজ্ঞাপন
মোর্শেদে কামেল ছাড়া কেহ রক্ত মাংসের অভ্যন্তরে লতিফা সমূহে ও অণু-পরমাণুতে জেকের জারী করাইতে পারেন না। একমাত্র মোর্শেদে কামেলই আল্লাহতায়ালার দ্বারা এই গুণ লাভ করেন। তাই হযরত জালালউদ্দীন রূমী (রঃ) ছাহেব মোর্শেদে কামেলকে পরশ পাথর হিসেবে আখ্যায়িত করিয়াছেন। মাওলানা রূমী (রঃ) ছাহেব মোর্শেদে কামেলের পাক তাওয়াজ্জুহকে ইসরাফীল ফেরেশতার শিঙ্গার সহিত তুলনা করিয়াছেন। তিনি বলেন,
হাকে ইসরাফিলে ওয়াক্তান্দ আউলিয়া
মোর্দারা জিশা হায়াতাস্ত ওনামা
বিজ্ঞাপন
জানহায়ে মোর্দা আন্দার গোরেতন
বর জেহাদজে আওয়াজশা আন্দার কাফন।"
ইসরাফীল ফেরেশতা যখন সিঙ্গা ফুঁকিবেন, তখন সমস্ত মুর্দা কবর হইতে উঠিয়া হাশরের মাঠের দিকে দৌড়াইতে শুরু করিবে। ঠিক তেমনি মোর্শেদে কামেলের পাক তাওয়াজ্জুহ শক্তিতে, আলস্যরূপ কাফন ছিন্ন করিয়া দেহরূপ কবর হইতে জাগ্রত হইয়া লতিফা সমূহ আল্লাহর নামে মাতোয়ারা হইয়া তাহার দিকে দৌড়াইতে থাকে।
যাহা হউক, নাফী এজবাত জেকেরের দ্বারা আত্মা ও দেহের বিশুদ্ধতা অর্জনের পর মোর্শেদে কামেলের অনুগ্রহে ছালেক আল্লাহতায়ালার নাম ও গুণ সমূহে আত্মিক ছায়ের করে। আল্লাহতায়ালার গুণ সমূহের ৮টি পর্দা রহিয়াছে। এই ৮টি পর্দা হইল হায়াৎ (আয়ু), এলেম (জ্ঞান), কুদরৎ (ক্ষমতা), এরাদত (কল্পনা বা ইচ্ছা), ছামাওয়াত (শ্রবন), বাছারাত (দর্শন), কালাম (বর্ণন) ও তাকবীন (সৃজন)। আল্লাহতায়ালার পৃথক পৃথক নূরের প্রতিবিম্ব সাধনারত ছালেক তাহার কালবের পর্দায় বা মানসলোকে দেখিতে পায়। এইরূপ ছায়েরের দ্বারা আল্লাহতায়ালার গুণ সমূহের জেল্লী বা প্রতিচ্ছবির সহিত ছালেক পরিচিত হয়। আল্লাহতায়ালার গুণ সমূহের সহিত আত্মিক পরিচিতি লাভের এইরূপ ভ্রমণকে ছায়েরে এসমোজ্জাহের বলে। আর এক প্রকার ছায়ের হইল আল্লাহতায়ালার গুণবিশিষ্ট জাতের ছায়ের। ইহাকে ছায়েরে এছমোল বাতেন বলে।
এছমোজ্জাহেরের ছায়ের দ্বারা সূফীগণ যে ফল লাভ করেন সেই ফলকে তাহারা কোন বস্তুর বাহিরের আবরণের সহিত তুলনা করেন। আর এছমোল বাতেন দ্বারা তাহারা যে ফল লাভ করেন সেই ফলকে বস্তুর অভ্যন্তরের মূল পদার্থের সহিত তুলনা করেন। এই দুই প্রকার ছায়েরের ফলে বিভিন্ন সিফাত বা গুণের নূর সমূহের রংগের পার্থক্য দ্বারাই সূফী সাধনার অনুসারীগণ নিশ্চিত হন যে, আল্লাহতায়ালার গুণ সমূহের পর্দা হইতে নূরের প্রতিবিম্ব তাহাদের উপর আসিয়া পতিত হইতেছে। এইরূপে সূফী সাধনার অনুসারীগণ উক্ত দ্বিবিধ ছায়ের দ্বারা আল্লাহতায়ালার গুণসমূহের প্রতিবিম্ব তাহারা নিজেদের দেহের মধ্যে ধারণ করিতে থাকেন।
এই সকল ছায়েরের দ্বারা অতি সুনির্দিষ্ট ফল লাভ হয়। ছালেকের মধ্যে তখন আল্লাহতায়ালার নূর আসিয়া তাহার গুণ ও চরিত্রকে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত করিয়া দেয়। ছালেকের মধ্যে তখন তাহার কুরিপুর যে সকল প্রবণতা অর্থাৎ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য্য, হিংষা, কিনা, রিয়া, কামনা, বাসনা আর থাকে না। এই সকল দোষ সমূহের বদলে ছালেকের মধ্যে তখন সবর, রেজা, তাকওয়া, সকল মানুষের জন্য ভালবাসা, মানুষের মঙ্গলের জন্য ত্যাগ স্বীকারের প্রবণতা প্রভৃতি দেখা যায়। পৃথিবীর সকল মানুষকে সে তখন ভালবাসে। সকলের মধ্যে সে তখন ভাল গুণ দেখিতে পায় এবং নিজের মধ্যে দোষ-ত্রুটি দেখিতে পায়। তখন নাফস বা মানুষের সত্ত্বা প্রবৃত্তি মুক্ত হইয়া শান্তি প্রাপ্ত হয়। এই নাফস বা সত্ত্বাকে সূফী পরিভাষায় "নাফসে মোৎমাইন্না" বলে। রাসূলে পাক (সাঃ) বলেন,
إِنَّ لِلَّهِ سَبْعِينَ أَلْفَ حِجَابٍ مِنْ نُورٍ وَ ظُلْمَةِ -
অর্থাৎ-'আল্লাহতায়ালার জন্য ৭০ হাজার নূর ও অন্ধকারের পর্দা রহিয়াছে।' এই হাদীসপাক ব্যাখ্যা করিয়া পূর্বকালের সূফীগণ মনে করিতেন যেহেতু তাহারা আপন লতিফা সমূহে আল্লাহতায়ালার গুণ বা সিফাতের পর্দা সমূহ দেখিতে পাইতেছেন তাই তাহারা নিজ নিজ লতিফা সমূহে আল্লাহতায়ালার নূরের ও অন্ধকারের পর্দা উন্মোচিত হইয়াছে মনে করিতেন। কালব, রূহ, ছের, খফি, আখফা, নাফস ও কালেব-এই সাত লতিফার প্রতিটিতে দশ হাজার পর্দা উন্মোচিত হইয়াছে মনে করিয়া এই সকল লতিফায় আল্লাহতায়ালার সিফাতের নূর প্রতিফলিত হইলে তাহারা আল্লাহতায়ালার সত্তর হাজার নূর ও অন্ধকারের পর্দা অতিক্রম করিয়াছেন বলিয়া মনে করিতেন। এই সত্তর হাজার পর্দার আড়ালে যাহা, তাহাই আল্লাহ বলিয়া তাহারা মনে করিতেন।
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব তদীয় মকতুবাত শরীফে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন, পূর্ব কালের সূফীগণ "ছায়েরে আফাক" ও "ছায়েরে আনফাস" কে চরম অবস্থা মনে করিতেন। এই ছায়েরের মধ্যেই তাহারা "ফানা ফিল্লাহ” ও "বাকা বিল্লাহ" সিদ্ধ হইয়াছে মনে করিতেন।
কিন্তু হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিতেছেন, ছায়েরে আফাক ও আনফাস যদিও আল্লাহতায়ালার পরিচয় গ্রহনের জন্য প্রয়োজনীয় মাধ্যম কিন্তু তাহা আল্লাহতায়ালার জাতের সহিত ফানা-একথা ঠিক নয়। তিনি আরও বলিতেছেন উভয ছায়েরই প্রকৃত প্রস্তাবে আল্লাহতায়ালার দিকে যাত্রা। তিনি বলিতেছেন, এ কথা ঠিক যে, মা'ইয়াতের বা প্রতিবিম্বের মাকামে ছায়েরে আফাক ও আনফাস দ্বারা পূর্ব কালের সাধকগণ আপন নাফসের কু-প্রভাব হইতে মুক্ত হইতে পারিতেন। তাহাদের দেহের লতিফা সমূহে আল্লাহর নাম ও গুণের নূর সমূহের প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত হইত। তাহাদের কালবে তখন মহাকালব হইতে আরশ, কুরসী, লওহ, কলম, তথা সাত তলা আসমান, জমীন ও সমগ্র সৃষ্টি জগতের জ্ঞান আসিত। তবুও বলা যায় না যে, পূর্বকালের সূফীগণ আলমে আরোওয়াহ বা প্রতিবিম্বের মাকামে আল্লাহতায়ালার জাতের জ্ঞান লাভ করিতে পারিতেন। ঐ গুণ সমূহের বহু ঊর্ধ্বে আল্লাহতায়ালার জাত-পাকের জ্ঞান। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিতেছেন, তাহারা আল্লাহতায়ালার সিফাতের নূর সমূহের প্রতিবিম্ব তাহাদের দেলে প্রতিফলিত দেখিতেন। তিনি বলিতেছেন, কাহারও উপর যদি টর্চ বা ঐ জাতীয় কিছুর আলো প্রতিফলিত করা যায়, তাহা হইলে তাহার সর্ব শরীর বা কিছু অংশ আলোকিত হইবে, ইহা সত্য। কিন্তু টর্চের আলোর গুণ থাকে তাহার ব্যাটারী ও টর্চে। একটি কাঁচের পর্দার মধ্য দিয়া টর্চের আলো বাহির হইয়া কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে আলোকিত করে। কিন্তু তাই বলিয়া ঐরূপ আলোকিত কোন ব্যক্তি টর্চের ব্যাটারী বা বালব হাতে লইয়াছেন তাহা মনে করা যায় না। ব্যাটারী ও বালব সহ মূল টর্চ হাতে না লইয়া যদি কেহ শুধু টর্চের আলোর প্রতিফলন দেখিয়াই খুশি থাকেন, তাহা হইলে তাহারা অতি অল্পে তুষ্ট বলিতে হইবে। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিতেছেন, আল্লাহর সহিত পরিচিত হওয়া যাহাদের মনস্কামনা তাহাদের কেবল মাত্র নূরের প্রতিবিম্ব দেখিয়া খুশী থাকিলে চলিবে না। কোন ব্যক্তির নাম ও গুণ সম্পর্কে অবগত হওয়া অর্থ সেই ব্যক্তির সহিত সরাসরি সাক্ষাৎ নয়। তেমনি সিফাতের বা গুণের প্রতিবিম্বের সহিত পরিচিত হওয়া অর্থ আল্লাহতায়ালার জাতের সহিত পরিচিত হওয়া নয়। তাই যাহারা আল্লাহর জাতের সহিত পরিচিত হইতে চাহেন, তাহাদের আরও সম্মুখে অগ্রসর হইতে হইবে।
ছায়েরে আফাক ও ছায়েরে আনফাস সম্পর্কে এই স্থানে আরও কিছু বলিবার রহিয়াছে। মানুষ যখন কাহাকেও পরিচয় দান করে তখন তাহার নাম, অবস্থান, ক্রিয়াকলাপের দ্বারাই তাহা দিয়া থাকে।
আল্লাহপাক তাহার পরিচয় দানের জন্য তাহার নাম, ক্রিয়া-কলাপ ও অবস্থার পরিচয় দেন। আল্লাহতায়ালার নাম ও সিফাতের জেকের হইল আল্লাহপাকের নাম, ক্রিয়া ও গুণের বর্ণনা। আর তাহার অবস্থান সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,
قُلُوبُ الْمُؤْمِنِينَ عَرْشِ الله -
অর্থাৎ-'মোমিনের দেল আল্লাহর আরশ।' আবার আল্লাহ বলিতেছেন,
الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى
অর্থাৎ-'কালবের সিংহাসনে আল্লাহতায়ালা উপবিষ্ট আছেন।' (সূরা তাহাঃ ৫)
যেহেতু আল্লাহপাক আমাদের দেলে অধিষ্ঠিত আছেন, তাই তিনি আমাদের সর্বাধিক নিকটে। কিন্তু মানুষ তাহাকে বোঝে না, চেনে না। কারণ, মানুষের নাফসের প্রবণতা বহির্মুখী। মানুষ সাধারণত জ্ঞান সংগ্রহের জন্য ইন্দ্রিয় সমূহ ব্যবহার করে। মানবদেহে আল্লাহতায়ালা জ্ঞান সংগ্রহের জন্য যে আসবাব দিয়াছেন, তাহা হইল কালব। মানুষ সচেতনভাবে সেই জ্ঞান কেন্দ্র ব্যবহার করে না। কারণ, মানুষ কালবের জ্ঞান বহির্মুখী প্রবণতার জন্য ব্যবহার করিতে পারে না। আল্লাহ বলিতেছেন, "তোমরা আমার পরিচয় গ্রহণের জন্য তোমাদের ভিতরের নিদর্শন খেয়াল কর। আল্লাহ বলেন,
وَ فِي أَنْفُسِكُمْ طَ أَفَلَا تُبْصِرُونَ
অর্থাৎ-'আমার নিদর্শন তোমাদের ভিতরে আছে তোমরা কেন দেখ না'? (সূরা জ্বারিয়াতঃ ২১) আল্লাহপাক আবারও বলেন,
اللهُ نُورُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ -
অর্থাৎ-'আল্লাহ আসমান ও জমীনের নূর। (সূরা নূরঃ ৩৫)
এক কথায় সমগ্র সৃষ্টিই তাহার প্রকাশ। বাহিরের জগত ও অন্তর জগৎ এই উভয় জগতের পরিচিতি লইয়া আল্লাহতায়ালার পরিচিতি পরিপূর্ণ হয়।
যেহেতু মানুষের নাফসের প্রবণতা ও দৈহিক সত্ত্বার ঝোঁক বহির্মুখী, মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের পূর্বের সাধকগণ তাই মানবদেহে জগতের আকর্ষণ কেন্দ্র বা নাফসকে শোধরাইবার সাধনা শুরু করিয়া কালবে আসিয়া সাধনা শেষ করিতেন। নাফস বাহিরের সহিত সম্পর্ক রাখে। তাই ইহাকে তাহারা শোধরাইতে চাহিতেন। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব প্রথমে কালব হইতে সাধনা শুরু করিবার পথ নির্দেশ দান করেন। কালব এমনিতেই আরশের উপরের জগতের লতিফা। তাই কালব স্বভাবতই জ্যোতির্ময়। এই কালবে তাই সহজে নূর দর্শন হয়। পক্ষান্তরে নাফস যেহেতু বহির্মুখী ও আল্লাহতায়ালার প্রতি আনুগত্যের বিপরীত স্বভাব দ্বারা তৈরী তাই নাফসে জেকের ও নূর দর্শনে দীর্ঘ সময় লাগিয়া থাকে। বেলায়েতে ছোগরা বা জেল্লীর স্তরে যাহা কিছু বোঝা যায়, তাহার সকলই প্রতিবিম্ব। এই প্রতিবিম্বের জগতে ছালেকের নিজস্ব জ্ঞান বা ধারণা ধ্বংস হয় না। তাহার বহির্মুখী প্রবণতা ধ্বংস হয় মাত্র। ইহা ব্যতীত জ্ঞান কেন্দ্র হিসেবে কালবের দুইটি দিক আছে। ইহার একটি দিক হইল স্থূল জগতের দিকে, অন্যটি সূক্ষ্ম জগতের দিকে। স্কুল জগৎ হইল আলমে খালক বা পার্থিব জগৎ আর সূক্ষ্ম জগৎ হইল আলমে আমর। এই উভয় জগতের জ্ঞান লইয়া কালব গঠিত। তাই কালবে ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য ও অতিইন্দ্রিয়-উভয় জ্ঞানই আসে।
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব সূক্ষ্ম ও স্কুল -এই উভয় জগত লইয়া মারেফাত সাধনার একটি স্তর উদ্ভব করেন। তাহা হইল, "দায়েরায়ে এমকান।" যদিও কালব আল্লাহতায়ালার গুঞ্জায়েশ স্থল এবং আলমে আমর বা সূক্ষ্ম জগত এবং আলমে খালক বা স্থূল জগৎ-এই দুই আলমের মধ্যে ইহার অবস্থান, বস্তুত: কালবে আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি জগতের যে জ্ঞান পাওয়া যায়, তাহা হইল মহাকালব হইতে আসা জ্ঞানের প্রতিবিম্ব। আল্লাহতায়ালার জাতের সংকুলান শুধু মাত্র কালবে হয় না। আল্লাহতায়ালার জাতের পরিচয় গ্রহণের জন্য প্রয়োজন হয়, মানুষের হাকীকী গুণ অর্জন। পার্থিব জ্ঞান সসীম। আল্লাহতায়ালার জ্ঞান অসীম। মানুষের মধ্যে সসীম জ্ঞান যতক্ষণ বর্তমান থাকে ততক্ষণ আল্লাহতায়ালার অসীম ও অবিনাশী জ্ঞান আসিতে পারে না। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিতেছেন, মানুষের যে সসীম জ্ঞান তা আল্লাহতায়ালার অসীম জ্ঞানের প্রতিবিম্ব। ইহা বেলায়েতে ছোগরা স্তরের জ্ঞান। পরবর্তীতে বেলায়েতে কোবরার স্তরে যে অসীমের জ্ঞান ছালেক লাভ করে তখন পার্থিব জগতের সসীম জ্ঞান নীচে পড়িয়া থাকে। তখন ছায়েরে আনফুসী ও ছায়েরে আফাকের মধ্যে পার্থক্য বুঝিবার অর্থ হইল নূর জগতের বিভিন্ন স্তরের পার্থক্য নির্ণয় করা। মুজাদ্দেদীয়া তরিকার সাধকগণ যখন ছালেকের সর্বদেহে জেকের জারী করাইয়া দেন এবং ছালেক ছায়েরে আফাকে রত হয়, তখন তাহার দেহের প্রতি লতিফা হইতে তৃপ্তি দায়ক স্পন্দন অনুভব করেন। ইহার পর ছালেক যখন স্কুল ও সূক্ষ্ম জগৎ ভ্রমণ করেন তখন তাহার জ্ঞান কেন্দ্র কালবে স্পন্দনের শব্দ অনুভূত হয়। এই স্তর "দায়েরায়ে এমকান"। দায়েরায়ে বেলায়েতে ছোগরার স্তরে ছালেক তাহার সর্ব শরীরের লতিফা সমূহের জেকেরে এক নূরের সমুদ্র দেখিতে পায়। এই স্তরেও ছালেকের কালবে স্পন্দন হয়। এই স্পন্দন মানবীয় জ্ঞান দ্বারা বোঝা যায়। এই স্তরের ফয়েজ পতন স্থল নাফস। পূর্ব কালের সাধকগণ এই স্তরের ঊর্ধ্বের কোন "ছবক” দিতেন না। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব ইহার উপরে আরও ২০/২৫ টি মাকামের সন্ধান দেন। বেলায়েতে কোবরা ও তঊর্ধ্বে মাকাম সমূহে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের প্রদর্শিত পথ অনুযায়ী ফয়েজ পতনের স্থান হইল রূহের যোগাযোগে নাফস তথা সর্ব শরীর, হায়াতে ওহাদানী১ ও হকিকতে ওহাদানী। হাকীকী স্তরে ফয়েজ পতনের কারণে ছালেক তাহার হাকীকী স্তরের বা আল্লাহতায়ালার এলহাম শুনিবার গুণাগুণ ফিরিয়া পায়। তখন নাফস যে গুণ লাভ করে সে সম্পর্কে রাসূলে করীম (সঃ) বলিতেছেন,
مَنْ عَرَفَ نَفْسَهُ فَقَدْ عَرَفَ رَبَّهُ
অর্থাৎ-"যে নিজ নাফসকে চিনিল, সে তাহার রবকে চিনিল।” এই স্তরে নাফস মোৎমাইন্না হইতে মোলহেমায় গমন করে। তখন নাফস আল্লাহর জন্য পাগল হয়। আল্লাহ ছাড়া কিছুই বোঝে না। আকরাবিয়াতের ঊর্ধ্ব জগতে ছালেকের দেহে যে জেকের হয় তাহা বিনা চেষ্টাতেই হয়। আল্লাহতায়ালা সেই জেকের করাইয়া দেন। ছালেক তখন অনুভব করে যে আপন মোর্শেদে কামেলই তাহার হায়াতে ওহাদানী এবং হকিকতে ওহাদানী শরীরে জেকের করাইয়া দিতেছেন। পরবর্তী পর্যায়ে নাফস এমন পবিত্রতা লাভ করে যে তখন কবরে শায়িত কোন ব্যক্তির কথাও সাধক শুনিতে পায়। ঐ স্তরে নাফসকে নাফসে মোহাদ্দেসা বলে। "এরশাদে খালেকিয়া” নামক কিতাবে লিখিত আছে, একদা হযরত শামস এরফান (রাঃ) ছাহেব পাঞ্জাবের কোন একটি গ্রামের মধ্য দিয়া গমনের সময় শুনিতে পান একটি নারী কণ্ঠ তাহাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিতেছে, "হে হযরত শামস এরফান ছাহেব! আপনি দয়া করিয়া আমার কবরে ফাতেহা পাঠ করিয়া যান।" হযরত শামস এরফান জানিতে পারিলেন ঐ কবরে শায়িতা মহিলা হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের মুরীদ ছিলেন।
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব ঐ মহিলাকে জানাইয়া ছিলেন, হযরত শামস এরফান নামক একজন সাধক কয়েকশত বৎসর পরে তাহার কবরের নিকট দিয়া যাইবেন। তিনি তাহার কবরকে হেফাজত করিবেন। হযরত শামস এরফান ঐ কবরে ফাতেহা পাঠ করিলেন। পরে মাটির ঐ স্থান হইতে খুঁড়িয়া ৪/৫ হাত নীচ হইতে একটি কবর বাহির করিয়া পাকা করিয়া দেন এবং ঐ কবর হেফাজতের ব্যবস্থা করেন। এরশাদে খালেকিয়া গ্রন্থের লেখক স্বয়ং ঐ পাকা কবর দেখিয়া আসিয়াছেন বলিয়া কেতাবে উল্লেখ করিয়াছেন। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহপাক যেমন তাহার সহিত একান্ত মিলনের জন্য জড়জগৎ, নূর জগৎ ও সিফাতের জগৎ অতিক্রম করিয়া জাতের সহিত মিলনের আহবান জানাইয়াছেন। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ সেই একান্ত মিলন। নূরের জগতে বা সিফাতের জগতের জ্ঞান লইয়া সন্তুষ্ট হইলে আল্লাহতায়ালার জাতের পরিচয় পাওয়া যাইবে না। আল্লাহতায়ালার জাতের সহিত মিলনের যাত্রা শুরু হয় আকরাবিয়াতের মাকাম হইতে। ছালেক আল্লাহতায়ালার দয়ায় বেলায়েতে কোবরা বা আসল বেলায়েতের মাকামে আল্লাহতায়ালার ফজল দ্বারা উন্নীত হইলে আল্লাহতায়ালার খাস হোব্ব এশক মহব্বতের ফয়েজ পাইতে থাকে। এই স্তরে ছালেকের জ্ঞান প্রতিবিম্বের জগৎ বা পার্থিব জগতের জ্ঞান দ্বারা প্রভাবিত হয় না। ইহা প্রতিবিম্বের জগতের বহু ঊর্ধ্বে। তাহারা নিজেদের একেবারে শূন্য বা খালি মনে করিতে পারে ও আল্লাহতায়ালার দয়ার উপর পরিপূর্ণ নির্ভর করে; আল্লাহতায়ালা দয়া পরবশ হইয়া সেই ছালেককে ঐ স্তরে উন্নীত করেন, তাহার সকল কাজ সম্পন্ন করিয়া দেন। এই স্তরের জ্ঞানকে "আক্লে মায়াদ" বা উৎপত্তি স্থলের জ্ঞান বলে। এই স্তরে যাহা কিছু আত্মিক গুণ লাভ হয়; তাহা আল্লাহতায়ালার খাস এশক মহব্বত দ্বারাই হয়। এই স্তরকে বেলায়েতে কোবরার জগৎ বলা হয়। এই স্তরেই রহিয়াছে আকরাবিয়াত, মহব্বতে আউয়াল, মহব্বতে ছানী ও কাওছের মাকাম। আকরাবিয়াতের মাকাম হইতে মুরীদ আল্লাহতায়ালার হাকীকী সিফাত সমূহে ছায়ের করিতে পারে। এই স্তরে আসিয়া ছালেকের নাফস আল্লাহতায়ালার খাস এশক মহব্বতের ফয়েজে পরিপূর্ণ রূপে পরিস্কার হইয়া যায়। তখন তাহার নাফসে আর কোন কুপ্রভাব থাকে না। এই স্তরে মুরীদ যে ছায়েরে আনফাস বা আফাক লাভ করে তাহা সম্ভব হয় আল্লাহতায়ালার মহব্বত দ্বারা। এই দরজায় কেবল আল্লাহতায়ালার মহব্বত দ্বারাই প্রবেশ করা যায়। এই স্তরে ছালেকের পার্থিব আকর্ষণ পরিপূর্ণ রূপে আল্লাহতায়ালার মহব্বতে ডুবিয়া যায়। ছায়েরে আনফুসীর বদলে আল্লাহতায়ালার মহব্বত দ্বারাই তাহার হাকীকী সিফাত সমূহের পরিচয় লাভ হয়। তাই এই ছায়েরকে ছায়েরে মাহবুব বা প্রেমাস্পদের সহিত ভ্রমণও বলে। এই ছায়েরে মাহবুব দ্বারা ছায়েরে আনফাস ও ছায়েরে আফাক উভয় সিদ্ধ হইয়া যায়। হযরত নবী করীম (সঃ) বলেন,
الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبُّ
অর্থাৎ- 'যে যাহাকে ভালবাসে, সে তাহার সহিতই অবস্থান করিবে।'
মাহবুব যখন আফাক ও আনফাস হইতে বহুদূরে, তখন প্রেমিক সাধক আফাক ও আনফাসের বদলে মাহবুবের অবস্থান স্থানেই চলিয়া যাইবে। এই তরিকার সাধকগণের খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্বের মূল ভিত্তি হইল মহব্বত। এই মহব্বত নবী করীম (সঃ) এর অনুসরণ ও শরীয়তের বিধান সমূহ নিষ্ঠার সহিত পালনের দ্বারা বৃদ্ধি পায়। এলেম, আমল ও এখলাস দ্বারা ছালেক একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহতায়ালার সহিত ঘনিষ্ঠ হইবার চেষ্টা করে। এই স্তরে ছালেকের বহির্জগতের প্রতি, এমনকি নিজের প্রতি আকর্ষণও নিঃশেষিত হইয়া যায়। তখন তাহার ধ্যান, জ্ঞান ও আকর্ষণ হয় একমাত্র আল্লাহ। হযরত রাসূলে করীম (সঃ) বলিয়াছেন, "তোমরা আল্লাহকে পাইবার জন্য তাহাকে তোমাদের সহায়-সম্পত্তি, সন্তান-সন্ততি, পরিবার-পরিজন, এমন কি নিজ হইতেও অধিক মহব্বত কর।" এই স্তরকে সূফীতত্ত্বের পরিভাষায় মহব্বতে ছানীর স্তর বলা হয়। এই স্তরে ছালেকের নিজের প্রতি আকর্ষণও আল্লাহতায়ালার মহব্বতে নিমজ্জিত হয়, এই স্তরে ছালেক বুঝিতে পারে যে আল্লাহতায়ালার জাতপাকের মধ্যে সমস্ত সৃষ্টি নিমজ্জিত হইয়া আছে। নাহ্নু আকরাবো এলাইহে মিন হাবলিল ওয়ারীদ" অর্থাৎ আমি তোমার জান রগ হইতেও নিকটে অবস্থিত-আল্লাহতায়ালার এই বাণীর হকিকত ও মারেফাত তখন ছালেক বুঝিতে পারে। আল্লাহতায়ালা যে সমগ্র সৃষ্টি ব্যাপী বিরাজমান তখন সে তাহা বুঝিতে পারে কারণ আল্লাহতায়ালাকে সে তখন তাহার শরীরের প্রতি তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে অনুভব করে ও জ্ঞান চোখে আল্লাহতায়ালার নূর দেখিতে পায়।
এই আকরাবিয়াতের অধ্যায়ে ছালেকের সহিত আল্লাহপাকের এক মিলন হয়। মুরীদ তখন যতই আল্লাহতায়ালার নিকটে যাইতে থাকে ততই তাহার আনন্দ এবং আল্লাহতায়ালার প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পাইতে থাকে। আপন মাশুক ও রব যে কত নিকটবর্তী ছালেক তাহা বুঝিতে পারে। নদীর স্রোতে কোন কিছু পতিত হইলে যেমন নদীর স্রোতের তোড়ে তাহা সমুদ্রের দিকে যায়; তেমনি রাসূলে করীম (সঃ), মুর্শিদে কামেল ও মুরীদের আত্মা এই স্তরে একাকার হইয়া ফয়েজে বর্কির২ ধাক্কায় জাত পাকে বিলীন হইয়া যায়। এই স্তরে নবী করীম (সঃ), মুর্শিদে কামেল ও মুরীদ একই সাথে আল্লাহতায়ালার সহিত ফানা প্রাপ্ত থাকে। মুরীদের চোখে তখন রাসূলে করীম (সঃ) এর তাছাউর', মুর্শিদে কামেলের তাছাউর কিছুই দৃষ্ট হয় না। মুরীদের চোখে তখন আল্লাহই দৃষ্ট হয়। অর্থাৎ আল্লাহর সহিত মুরীদ তখন ফানা প্রাপ্ত হয়। তবে এই ফানা প্রকৃত ফানা নয়। মুরীদ আল্লাহতায়ালার সহিত প্রকৃত ফানা লাভ করে আকরাবিয়াতের শেষ দায়েরা কাওছের মাকামে। তখন "ওজুদ মাওহুব লাহু" দ্বারা মুরীদ আল্লাহতায়ালার জাত মোজাররাদার সহিত পরিচয় লাভ করিবে। "ওজুদ মাওহুব লাহু" হইল আল্লাহতায়ালা প্রদত্ত নূরের শরীর যাহা কুওতে নজরী দ্বারা আল্লাহতায়ালার জাত মোজারাদায় ছায়ের করে। ইহার গতি বিদ্যুত বা আলোর চেয়েও লক্ষগুণ বেশী। মাটীর পুতুল কদমসহ আল্লাহতায়ালার জাতের জগতে প্রবেশ করিতে পারে না।
যাহা হউক, মহব্বতে আউয়াল ও মহব্বতে ছানীর স্তরে ছালেক ছায়েরে মাহবুবী দ্বারা আনফাস সিদ্ধ করে; তাহাতে একই সাথে ছায়েরে আফাকও হইয়া যায়। ছায়েরে আনফাস দ্বারা ছালেক তাহার ভিতরের অবস্থা বুঝিতে পারে। আফাকে সেই অবস্থার রূপক প্রতিচ্ছবি দেখিতে পারে। ধরা যাক, কোন ছালেক ছায়েরে মাহবুবের সময় নিজেকে বাদশাহ রূপে দেখিতে পাইল। কিন্তু সে প্রকৃত বাদশাহ নহে। তাহার এই দর্শনের অর্থ হইবে বাদশাহের যে জ্ঞান বা ক্ষমতা তাহার আংশিক তাহার লাভ হইবে বা মর্যাদার কিছু সে পাইবে। ছায়েরী আনফুসিতে যে নূর সে দেখিতে পায়, তাহাতে তাহার ভিতরের অবস্থার পবিত্রতা সম্বন্ধে ছালেক জানিতে পারে। আর সেই অবস্থায় যে সকল রূপক বা প্রতিচ্ছবি স্বপ্নের মত মানস লোকে সে দেখে, তাহা ছালেকের ছায়েরে আনফাসেরই রূপক প্রকাশ বা আফাক। এই জন্য ছালেক যতক্ষণ না পর্যন্ত নিজেকে পরিপূর্ণ পরিচ্ছন্ন করিতে পারে, ততক্ষণ ফানা সিদ্ধ হয় না। এইভাবে ছায়েরে আফাক তরিকায়ে মুজাদ্দেদিয়ার ছায়েরী আনফুসিরই বাহিরের আবরণ হিসেবে বর্ণিত হয় বা উভয় ছায়ের একই সাথে হয় বলিয়া তরিকাতের পীরানে পীরগণ বলিয়া থাকেন।
এই স্তরে ছায়েরী আনফুসি দ্বারা প্রাপ্ত ফয়েযে ছালেকের দেলে শুধু আল্লাহতায়ালার মহব্বত ও আকর্ষণই থাকে, অন্য কাহারও প্রতি আর কোন আকর্ষণ থাকে না। তাই ছালেকের সহিত আল্লাহতায়ালার ফানা লাভ সম্ভব হয়। ছালেক তখন দেখিতে পায় যে আল্লাহতায়ালার এরাদতের কায়া বা রূহে বেমেছালীর ছুরাত অর্থাৎ যে কায়ায় আল্লাহপাক ছালেককে সৃষ্টি করিয়াছিলেন, সেই ছরাতে আল্লাহতায়ালার সহিত কাওছের মাকামে যাইয়া ফানা হইতেছে। মুরীদ তাহা মোরাকাবায় মানস লোকে দেখিতে পায় ও ফানা তাহার সর্বদেহে অনুভব করে। তাহার পর্বেই মরীদের আত্মার কায়া বা রূহে বেমেছালীর ছুরাত রাসূলে করীম (সঃ) ও আপন পীরে কামেলের রূহে বেমেছলীর ছুরাতে বিলুপ্ত বা ফানা প্রাপ্ত থাকে।
বেলায়েতে ছোগরার স্তরে মুরীদের ছুরাতে রূহে বেমেছালীর দ্বারা ফানা সম্ভব হয় না। ইহাই প্রমাণ করে যে, পূর্ব কালের সাধকগণ যাহা দেখিতেন; তাহা আল্লাহতায়ালার আসমা ও সিফাতের নূরের প্রতিবিম্ব। তাহা প্রকৃত ফানার স্তর নয়। এই স্তরে পৌঁছাইতে হইলে ছালেকগণকে পরিপূর্ণরূপে বাহিরের জ্ঞান ও আকর্ষণ হইতে মুক্ত হইতে হয়। একজন বুযুর্গ বলিতেছেন, যতক্ষণ না তুমি শূন্য হইবে, ততক্ষণ পূর্ণ হইতে পারিবে না। তাই তুমি শূন্য ও মুক্ত হও। তাহা হইলে আল্লাহ তোমাকে পূর্ণ করিয়া দিবেন। মোহমুক্তির জন্য বেলায়েতে ছোগরা একটি আবশ্যকীয় স্তর। তবে তাহাই আল্লাহতায়ালার পথে চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। ছোগরায় স্তরে মোহমুক্তি হয় কিন্তু শূন্যতা আসে না। মোহমুক্তির পরে আসে শূন্যতা বোধ। তাহাই প্রকৃত মারেফাত এবং এই স্তরেই সিফাতে হাকীকী লাভ হয়। এই শূন্যতা বোধ হইতেই আকরাবিয়াতের স্তর, যে স্তর হইতে আল্লাহতায়ালার মহব্বত বা প্রকৃত বেলায়েতের শুরু। এই স্তরের শেষ অধ্যায়ে কাওছের মাকামে ছালেক "ওজুদ মাওহুব লাহু” বা খোদাদত্ত শরীর দ্বারা আল্লাহতায়ালার জাতমিশ্রিত হাকীকী সিফাতে ছায়ের ও জাত মোজাররাদায় কুওতে নজরিয়া দ্বারা ছায়ের করে। আল্লাহতায়ালার জাতে মাটির পুতুলের গমন সম্ভব হয় না। মা'ইয়াতের মাকামে মোহমুক্তি হইলেও প্রকৃত শূন্যতা আসে না। আকরাবিয়াতের মাকামে প্রকৃত শূন্যতা আসে। তখন আল্লাহপাক দয়া করিয়া তাহাকে আপন পরিচিতি দান করেন।
হে জাকেরান! এই অপূর্ব নেয়ামত যদি তোমরা লাভ করিতে চাও, যদি আল্লাহতায়ালার সিফাতের রাজ্যের সহিত পরিচিত হইয়া তাহার জ্ঞানে জ্ঞানী হইতে চাও, তাহার জাত পাকের সহিত মিশিতে চাও, তাহা হইলে জামানার মোর্শেদে কামেলকে শক্ত করিয়া ধর; তাহার কদমে নেছার হইয়া যাও। তিনি যে দেশেই থাকুন না কেন, তাহার অনুসন্ধান কর। পূর্ব কালের খোদাতালাশী ব্যক্তিগণ, পরিবার-পরিজন, সহায়-সম্পদ, ত্যাগ করিয়া ১২ বছরের পথ পায়ে হাটিয়া হইলেও খোদাতত্ত্ব জ্ঞান সন্ধান করিয়াছেন। যত দিন পর্যন্ত খোদাতত্ত্ব জ্ঞান হাসিল করিতে পারেন নাই; ততদিন পর্যন্ত তাহারা পরিবার বর্গের নিকট ফিরিয়া আসেন নাই। তাই তোমরাও যদি খোদাতত্ত্ব জ্ঞানে জ্ঞানী হইতে চাও মোর্শেদে কামেলের অনুসন্ধান কর। খোদাতায়ালাকে চেনার পথে মোর্শেদে কামেলই প্রথম দরজা, যে দরজা দিয়া প্রবেশ করিলে আল্লাহ ও রাসূল (সঃ) কে চেনা যায়। তাই তোমরা মোর্শেদে কামেলের কঠিন খেদমত কর, কঠিন খেদমত ছাড়া পীরে কামেলের মহব্বত হাসিল হয় না। পীরে কামেলের মহব্বত হাসিল হইলেই দেলে আল্লাহ রাসূলের মহব্বত হাসিল হয়-আল্লাহতায়ালার খাস হোব্ব এশক মহব্বতের ফয়েজ, রাসূলে করীম (সঃ) এর খাস হোব্ব এশক মহব্বতের ফয়েজ লাভ হয়, দেল সাফ হয়। আল্লাহ-রাসূলের প্রেম প্রীতি ভালবাসা রেজামন্দি লাভ হইয়া দেলে আল্লাহতায়ালার জ্ঞান আসিয়া যায়। তাই পারস্যের মহাকবি হাফেজ বলিয়াছেন, "আমার পীরের কপালের একটি কালো তিলের পরিবর্তে আমি সমরখন্দ বুখারার সিংহাসন বিলাইয়া দিতে পারি।" একজন খ্যাতনামা সূফী সাধক লিখিয়াছেনঃ-
'আল্লাহর সহিত মিশিতে চাহ যদি
হও তবে কামেলেরো কদম ধুলি
তাহারই রংগে দিল কর হে রংগিন
খোদারই তাজাল্লী তোমাকে করিবে নূরীন।'
খোদাপ্রাপ্তির পথে অগ্রসর হইবার জন্য আল্লাহ তোমাদের তৌফিক দান করুন। আমীন!








