Logo

শনিবার শুভ মহালয়া, শুরু হবে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:৩৮
শনিবার শুভ মহালয়া, শুরু হবে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা
ছবি: সংগৃহীত

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে শনিবার উদযাপিত হবে শুভ মহালয়া। এদিন মহালয়া পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা। ভোরে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা ও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

বিজ্ঞাপন

মহালয়া শুধু দেবী দুর্গার আবাহনের তিথি নয়, প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনারও বিশেষ দিন। এদিন জল, তিল ও অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার মধ্যবর্তী তিথিকে মহালয়া বলা হয়। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করার দায়িত্ব পান এবং মর্ত্যলোকে আগমনের প্রস্তুতি শুরু হয়। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবীকে আবাহন করা হবে।

মহালয়া উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে চণ্ডীপাঠ, চণ্ডীপূজা, বিশেষ পূজা এবং মহালয়ার ঘট স্থাপনের আয়োজন করা হয়েছে। মূলত এদিন থেকেই দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, মহিষাসুরকে কোনো মানুষ বা দেবতা হত্যা করতে পারবেন না—এমন বর পেয়ে সে দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে। পরে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তিতে মহামায়ার আবির্ভাব ঘটে। দেবতাদের দেওয়া অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং তাকে পরাজিত ও বধ করেন।

আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। তবে মহালয়া থেকেই দেবীর আগমনী বার্তায় উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়বে দেশজুড়ে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মহালয়া উপলক্ষে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভোরে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া শনিবার ভোরে রমনা কালী মন্দিরেও মহালয়া উদযাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মিন্টু বসু।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির এবং জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে ভোর থেকেই চণ্ডীপাঠ ও বিশেষ পূজার আয়োজন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে আগমন করবেন এবং নৌকায় চড়ে বিদায় নেবেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর জানান, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বছর দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবারের সঙ্গে বর্ধিত ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

দুর্গোৎসব সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন পূজা কমিটি, মন্দির ও মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্যান্ডেল নির্মাণ, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কাজ এগিয়ে চলছে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং চলাচল নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি হলেও এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD