আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উরস শরীফ ১৬–১৯ জানুয়ারি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফের মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি চার দিনব্যাপী এ উরস শরীফ অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরীর স্থলাভিষিক্ত আলহাজ্ব হযরত খাজা মাহফুল হক মুজাদ্দেদী (মিয়া ভাইজান) পবিত্র হুকুমে খাজা সাইফুল ইসলাম জামি (বড় চাচাজান) মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফের এ তারিখ ঘোষণা করেন।
উরস শরীফকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের অসংখ্য আশেকান, জাকেরান, ভক্ত ও মুরিদানের মধ্যে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর এ পবিত্র উরস শরীফে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও ভক্তরা আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে সমবেত হন।
বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ঐতিহাসিক পথচলা
বিজ্ঞাপন
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিল বাংলাদেশের পরিচিত ইসলামী আধ্যাত্মিক কেন্দ্রগুলোর একটি। নকশবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া তরিকার অনুসারীদের কাছে এ দরবার শরীফ বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।
হযরত খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (কুঃছেঃআঃ) নির্দেশনায় বাংলা ১৩৫৪ সন, অর্থাৎ ১৯৪৭–৪৮ সালের দিকে আটরশির গ্রামে আসেন বিশ্ব ওলী খাজা বাবা ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ)।
প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ছোট ছনের ঘরে আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করেন। সময়ের পরিক্রমায় আধ্যাত্মিক শিক্ষা, ধর্মীয় অনুশীলন ও মানুষের সমাগমের ধারাবাহিকতায়, সেই ক্ষুদ্র একটি ছনের ঘর আজকের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে রূপ নেয়।
বিজ্ঞাপন
উরস শরীফের তাৎপর্য ও আয়োজন
সুফি ঐতিহ্যে উরস শরীফকে একজন আধ্যাত্মিক সাধকের স্মরণ, তাঁর জীবন ও শিক্ষা থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ এবং ধর্মীয় সমাবেশের উপলক্ষ হিসেবে দেখা হয়। বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উরস শরীফেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে জিকির-আজকার, নসিহত, দোয়া-মোনাজাত ও রওজা জিয়ারতের মতো কর্মসূচি পালিত হয়ে থাকে।
উরস উপলক্ষে দেশ-বিদেশের আশেকান ও জাকেরানদের আগমনে আটরশি দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। বিশ্বশান্তি, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মানুষের সার্বিক মঙ্গল কামনায় সর্ব সময় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
আগামী ১৬ থেকে ১৯ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত চার দিনব্যাপী মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণায় ভক্তদের মধ্যে প্রস্তুতি শুরুর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। উরসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি, যাতায়াত ও অন্যান্য আয়োজন সম্পর্কে দরবার শরীফের পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা বা ঘোষণা দেওয়া হলে সে অনুযায়ী বিস্তারিত জানা যাবে।







