Logo

তৌহিদে ওজুদী খোদাপ্রাপ্তি পথের পথিকদের সাধনার মাঝামাঝি পর্যায়ের একটি হাল

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:৩৯
তৌহিদে ওজুদী খোদাপ্রাপ্তি পথের পথিকদের সাধনার মাঝামাঝি পর্যায়ের একটি হাল
ছবি: জনবাণী।

হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কূঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত ‘তৌহিদে ওজুদী ও তৌহিদে শহুদী এবং ছায়েরে আফাক ও আনফা’ بسم اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ 'তৌহিদে ওজুদী' ও 'তৌহিদে শহুদী'

বিজ্ঞাপন

আল্লাহতায়ালার একত্বে বিশ্বাস ও তাহার নিকট আত্মসমর্পণ করা ইসলামের মূল কথা। আল্লাহতায়ালার একত্ব হইল তৌহিদ। আল্লাহতায়ালার একত্ব যে কলেমা তৈয়বে ঘোষিত হইয়াছে, সেই কলেমা শরীফের অন্য নাম কলেমায়ে তৌহিদ। সূফী সাধক বা খোদাপ্রাপ্তি সাধনার পথের পথিকগণ আল্লাহতায়ালাকে এক প্রভু জানিয়া তাহার নিকট আত্মসমর্পণ করিয়া তাহাতেই বিলীন হন। এই বিলীন হওয়াকে "ফানা" বলে। আল্লাহতায়ালাকে এক প্রভু জানিয়া অন্য সকল কিছুর প্রতি তাঁহাদের আকর্ষণ অস্বীকার করিবার জন্য তাঁহারা যে অস্ত্র ব্যবহার করেন, তাহাও কলেমা তৌহিদ। এই কলেমা শরীফের "লা" অর্থাৎ 'নাই'-এর তরবারি দ্বারা তাঁহারা দুনিয়ার সকল কিছুর আকর্ষণ ও অস্তিত্বের প্রতি আঘাত হানেন।

এই রূপে আল্লাহতায়ালার প্রভুত্ব ছাড়া দুনিয়ার সকল আকর্ষণ হইতে তাহারা মুক্ত হইয়া আল্লাহতায়ালাতে ইত্তেহাদ বা বিলীন হন। সূফী সাধনার পথের পথিকগণ ঐ স্তরে পৌছাইলে, কাশফ বা আত্মিক দর্শনে দেখিতে পান যে, তাঁহাদের নিজ অস্তিত্ব ধীরে ধীরে অন্য এক অস্তিত্বে বা অধ্যায়ে মিলিয়া মিশিয়া যাইতেছে। ইহা সাধকের নিজস্ব অনুভূতি ও দর্শন। খোদাপ্রাপ্তির পথের পথিক ইহাকেই আল্লাহতায়ালার সহিত লীন বা ফানা মনে করেন। কিন্তু বস্তুতঃ এই স্তরে যাহা ঘটে; তাহা হইল, খোদাপ্রাপ্তি সাধনার পথের পথিক পার্থিব আকর্ষণ হইতে মুক্ত হইয়া বা আলমে খালকের আকর্ষণের খাঁচা হইতে মুক্ত হইয়া আলমে আরোওয়াহর স্তরে প্রবেশ করেন।

আলমে আরোওয়াহর স্তর হইল, যে স্তরে আল্লাহতায়ালার 'আমি কি তোমাদের প্রভু নই? এই প্রশ্নের জবাবে সকল রূহই বলিয়াছিল, 'বেশখ, তুমি আমাদের প্রভু'-সেই স্তর। এই স্তরে দেহ পার্থিব আকর্ষণ মুক্ত হইয়া একমাত্র আল্লাহতায়ালাকেই তাহার ধ্যান ও জ্ঞান, মকছুদ ও আকাংখা মনে করেন। এই মাকামে ছালেকের আত্মা রাসূলে করীম (সঃ) এর অস্তিত্বে বিলুপ্ত থাকে।

বিজ্ঞাপন

আলমে আরোওয়াহর স্তরে পৌঁছানোর কারণে ছালেক তাহার আত্মিক দর্শন দ্বারা আল্লাহতায়ালার নাম ও গুণাবলীর প্রতিবিম্ব বা জেল্লী দেখিতে পান, কালব আল্লাহ ছাড়া সকল বস্তুর আকর্ষণ হইতে মুক্ত হইবার কারণে, মহাকালবের সন্ধান প্রাপ্ত হয়। মহাকালব হইতে তাজাল্লীয়াতে আফ্যালের নূর ও সিফাতে এজাফিয়ার নূর আসিয়া ছালেকের সমস্ত লতিফা প্লাবিত করে। তখন ছালেক সমস্ত সৃষ্টি জগৎকে আল্লাহতায়ালার নূরে প্লাবিত দেখেন। তখন নূরে প্লাবিত সৃষ্টি জগৎকে দেখিয়া অনেক ছালেক সমস্ত সৃষ্টি জগৎকেই আল্লাহতায়ালার প্রকাশ স্থল মনে করেন। বস্তুতঃ তাঁহারা ঐ স্তরে আল্লাহ ছাড়া আর সকল কিছুরই অস্তিত্বকে অস্বীকার করেন। তাহারা ঐ স্তরে কোন বস্তুকেই, এমনকি নিজেকেও খোদা হইতে পৃথক দেখিতে পারেন না, তাই ঐ স্তরে গিয়া হযরত মনসুর হাল্লাজ (রঃ) ছাহেব "আনাল হক" বা আমি সত্য উচ্চারণ করিয়াছেন। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের পূর্বের সাধকগণ সৃষ্টি জগৎকে আল্লাহতায়ালার কামালাত না মনে করিয়া, জাতপাকেরই যথাযথ প্রকাশ মনে করিয়া, সবই তিনি বা 'হামাউস্ত' মনে করিতেন। পূর্বের যুগের সাধকগণ আল্লাহতায়ালার জাত, সিফাত ও সৃষ্টি জগৎ- প্রত্যেককেই একে অপরের আয়েন বা যথাযথ বা প্রতিবিম্ব বলিয়া মনে করিতেন। জাতের এই অবস্থাকে তাহারা এজমালী' অবস্থা মনে করিতেন। তাহারা সকল শুভ গুণের বা সিফাতের সমন্বিত রূপকেই আল্লাহতায়ালার জাত মনে করিতেন, যাহাকে তাহারা 'ওজুদ' বলিতেন। আর নিজেরা পার্থিব আকর্ষণ ঝাড়িয়া ফেলিয়া সর্ব প্রকার দৈহিক আকর্ষণ ও পাপ হইতে মুক্ত হইয়া ঐ ওজুদে মিলিত মনে করিয়া ঐ ওজুদ বা আল্লাহতায়ালার সহিত ফানা প্রাপ্ত বা বিলীন প্রাপ্ত মনে করিতেন। ঐ স্তরে সূফীগণ নিজ নিজ আত্মিক দর্শনে উপলব্ধি করেন যে, তাহারা দুনিয়ার আকর্ষণ হইতে মুক্ত। মহাকালব হইতে তাজাল্লীয়াতে জাতি নূর, তাজাল্লীয়াতে সিফাতের নূর, তাজাল্লীয়াতে আফয়ালের নূর কালবে আসার কারণে ঐ স্তরের সূফী সাধকগণ দোযখ, বেহেশত, সাত আসমান, সাত জমিন, আরশ, কুরছি, সৃষ্টির আদি হইতে অন্ত পর্যন্ত সকল কিছুর প্রতিচ্ছবি নিজের মধ্যে দর্শন করেন। ঐ রূপে সৃষ্টি জগতের আদি অন্তের জ্ঞান ও নিজেকে নূরে প্লাবিত দেখিয়া এবং পার্থিব আকর্ষণ হইতে মুক্ত উপলব্ধি করিয়া ও আল্লাহতায়ালার আসমা ও সিফাতের জেল্লীর সহিত ফানা প্রাপ্ত হইয়া কামালাত লাভ করার কারণে তাহাদের পার্থিব আকর্ষণ মুক্ত দেহ ওজুদ বা আল্লাহতায়ালার সহিত ফানা প্রাপ্ত মনে করিতেন। এই ওজুদ বা আল্লাহতায়ালার সিফাত বা শুভ গুণ সমূহের সমষ্টিকেই তাহারা আল্লাহতায়ালার জাত পাক মনে করিতেন।

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব প্রকৃত অবস্থার বিশ্লেষণ করিয়া বলিলেন, আল্লাহতায়ালার জাত, সিফাত ও সৃষ্টি জগৎ পরস্পর পৃথক। ওজুদ আল্লাহতায়ালার জাত নহে, ওজুদ আল্লাহতায়ালার সিফাত বা কামালাত সমূহের প্রকাশ। ওজুদ যেহেতু আল্লাহতায়ালার জাত নহে, তাই প্রকৃত জাতের সহিত ফানা ঐ স্তরে লাভ হয় না। প্রকৃত জাতের সহিত পরিচয় হয় আরও উচ্চ স্তরে, যাহা কাওছের মাকাম হইতে শুরু হয়।

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিলেন, তৌহিদে ওজুদী অর্থ আল্লাহতায়ালার একত্ব ভিন্ন অন্য সকল বস্তুকে নীস্তি' জানা। কিন্তু তৌহিদে ওজুদীর প্রবক্তাগণ যেমন আল্লাহ ভিন্ন অন্য সকল কিছুই নীস্তি বলিতেছেন, তেমনি অন্য সকল কিছুকেই হামাউস্ত বা সবই তিনি বা আল্লাহর জাতের প্রকাশস্থল মনে করিতেছেন। হযরত মহীউদ্দিন ইবনুল আরাবী এই স্তরকেই খতমে বেলায়েত ও খতমে নবুয়ত মনে করিতেন। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিয়াছেন, হযরত মহীউদ্দিন আরাবী (রঃ) ছাহেবের এই উক্তি যথাযথ নয়। হযরত মহীউদ্দিন ইবনুল আরাবী ছাহেবও পরবর্তীতে সাধনা পথে এই স্তর হইতে আরও উন্নতি করিয়াছিলেন।

বিজ্ঞাপন

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিতেছেন, সকল বস্তুই আল্লাহতায়ালার জাতের প্রকাশ বলিয়া মনে করিলে সকল বস্তুকে একই সাথে নীস্তিও মনে করা যায় না। সকল বস্তুকেই আল্লাহতায়ালার জাতের প্রকাশ বা খোদা ভিন্ন অন্য কোন কিছুর অস্তিত্ব অস্বীকার যেমন শরীয়তের খেলাফ, তেমনি যুক্তির দিক দিয়াও অসংগতিপূর্ণ। সকল বস্তুকে এক বলিয়া মনে করা তৌহিদে ওজুদীর হাল।

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিতেছেন, তৌহিদে শহুদী ইহার বিপরীত। তৌহিদে শহুদী হইল আল্লাহকে এক দেখা। অথচ উহা জ্ঞান ও শরীয়তের বিপরীত নহে। আল্লাহকে এক বলিয়া দেখার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করিয়া হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিতেছেন, সূর্য আকাশে থাকা অবস্থায় নক্ষত্র সমূহ দেখা যায় না, ইহা সত্য ও এই ধারণা যুক্তি ভিত্তিক; কিন্তু তাহার এই অর্থ নয় যে সূর্য ভিন্ন তখন আকাশে চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্রাদি বর্তমান নাই। আল্লাহতায়ালার অস্তিত্বের ধারণায়, তাহার প্রভুত্ব ও প্রেমের ধারণার বলে ছালেক তখন আল্লাহকে এক বলিয়া দর্শন করে। ছালেকের চক্ষু আল্লাহতায়ালার প্রেমের কাঁচের মধ্য দিয়া দর্শন করে। দর্শকের চক্ষু বা দৃষ্টিকে যদি সূর্য কিরণের আলো দ্বারা সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করা যায়, তাহা হইলে সূর্য ও তারকা সমূহ পৃথক, দর্শক তাহা অনুভব করিতে পারে। এই রূপ দর্শন হক্কুল ইয়াকীনের মাকামে হইয়া থাকে। আল্লাহকে এক দর্শন আইনুল ইয়াকীন ও হক্কুল ইয়াকীন লাভের জন্য প্রয়োজন। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) বলিতেছেন, যখন আল্লাহতায়ালার এলেম প্রবল হয়, তখন আল্লাহ ভিন্ন অন্য সকল বস্তুর জ্ঞান দৃশ্যতঃ অপসারিত হইয়া যায়। যেমন সূর্যের উপস্থিতিতে গ্রহ নক্ষত্র চন্দ্রাদি আর দেখা যায় না।

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিতেছেন, তৌহিদে ওজুদীর প্রবক্তাগণ যাহা আত্মিকভাবে শহুদ বা দর্শন করেন, তাহাতে ভুল নাই। ভুল হইল ব্যাখ্যায়। এই জন্য তিনি হযরত মনসুর হাল্লাজ (রঃ) ছাহেবের "আনাল হক" উক্তি ও হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) ছাহেবের "আনা ছোবহানী" উক্তির নিম্নলিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করিয়াছেন। তিনি বলিতেছেন, "যখন খোদা ব্যতীত অন্য সকল কিছুই তাহাদের দৃষ্টি হইতে অন্তর্হিত হয়, তাহারা স্বীয় অবস্থার চাপে ঐ রূপ উক্তি করেন, তখন খোদা ব্যতীত অন্য সকল কিছুই তাহাদের দৃষ্টি ও খোদাপাককেও দেখিতে পান। খোদাকে দেখিতে পাওয়া ও একই হইতে দুরীভূত হয়। আনাল হকের অর্থ "খোদাই আছেন, আমি নাই।" সাধক যখন নিজেকে দেখেন না, তখন নিজেকেও প্রমাণ করিতে পারেন না। ইহা নহে যে, সাধক তখন নিজেকেও দেখিতে পান সাথে নিজেকে দেখিতে পাইয়া "আনাল হক" বলা অবশ্যই কুফর। অতএব আনাল হকের অর্থ এই যে, খোদাই আছেন, আমি নাই।

বিজ্ঞাপন

ছোবহানী অর্থ আল্লাহতায়ালার পবিত্রতা বর্ণনা করা। হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) ছাহেব নিজের পবিত্রতা বর্ণনা করেন নাই। যেহেতু তিনি নিজেই তাহার নিজের দর্শন-চ্যুত, অতএব কোনো রূপ হুকুম তাহার উপরে বর্তান যায় না। এই রূপ বাক্য সমূহ আইনুল ইয়াকীনের মাকাম।

তবে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিতেছেন, তিনি নিজে এবং তদীয় পীর কেবলা হযরত বাকীবিল্লাহ (রঃ) ছাহেবও তৌহিদে ওজুদীর স্তরে কিছুদিন ছিলেন। পরে আল্লাহতায়ালা তাহার পছন্দ অনুযায়ী মাকাম তাহাদের প্রদান করেন। ঐ নতুন স্তরে উন্নীত হইলে তাহাদের নিকট তৌহিদে ওজুদী সংকীর্ণ গলি বলিয়া মনে হইয়াছে।

বস্তুতঃ তৌহিদে ওজুদী আলমে আরোওয়াহ বা মা'ইয়াতের মাকাম, আল্লাহতায়ালার মূল মারেফাত জগতের সীমান্তবর্তী স্থান। আল্লাহতায়ালা ফরমান, যতক্ষণ না মানুষ তাহার কর্ম দ্বারা অবস্থার পরিবর্তন করে, আমি তাহার ভাগ্য পরিবর্তন করি না। ছালেক তদীয় মুর্শিদে কামেলের তত্ত্বাবধানে থাকিয়া পৃথিবীর সকল কিছুর আকর্ষণ অস্বীকার করিয়া নিজেকে যখন মোহ শূন্য করিয়া ফেলে; তখনই আল্লাহতায়ালা তাহার প্রেমের হেরেমের সিংহদ্বার উন্মোচিত করেন। নিজেকে পার্থিব আকর্ষণ মুক্ত ও মোহশূন্য করিয়া খালি হওয়ার যে অন্তবর্তীকালীন অধ্যায়; তাহাই বেলায়েতে ছোগরা বা তৌহিদে ওজুদীর মাকাম। নিজেকে খালি করিতে পারিলেই তখন অবস্থার উন্নতি হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, 'তোমরা জড় রাজ্য, নূরের রাজ্য, সিফাতের রাজ্য পার হইয়া আমার জাতের নিকট আস। এই অবস্থাতেই খোদাপ্রাপ্তি জ্ঞানের পূর্ণতা। এই স্তরে সাধনার অংশ হইল আল্লাহতায়ালা ভিন্ন অন্য সকল বিষয়ের জ্ঞান, মহব্বত, আকর্ষণ ও প্রভুত্ব মুক্ত হওয়া। তাহার পরবর্তী স্তর হইল আল্লাহতায়ালার প্রেমের সিংহদ্বার বা আকরাবিয়াত। নূরের জগৎ বা যে স্তর তৌহিদে ওজুদীর স্তর তাহাকে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব ঘূর্ণির মাকাম বলিয়াছেন ও এই মাকাম প্রাপ্তিকে সাধনার জগতের ধুলাবালি বলিয়া আখ্যায়িত করিয়াছেন। কারণ ছালেক এই ঘূর্ণির মাকামে থাকিয়া আসল হইতে নীচে পড়িয়া তাহাকেই আসল মনে করেন।

বিজ্ঞাপন

এই আকরাবিয়াত হইল আল্লাহতায়ালার জাত সংলগ্ন সিফাত। তাই সিফাতের জগতকে তিনি ভিন্ন নয় বা আল্লাহ ভিন্ন নয় বালা গায়রুল্লাহ বলিয়া আখ্যায়িত করা হয়। আল্লাহপাক তাহাদের উদ্দেশ্যে বলেন,

وَاللهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِه مَنْ يَشَاءُ ط وَاللَّهُ ذُو الْفُضْلِ الْعَظِيمِ

অর্থাৎ-'আল্লাহতায়ালা যাহাকে ইচ্ছা দয়া করিয়া খাস করিয়া লন, আল্লাহ অতিশয় অনুগ্রহশীল।' (সূরা বাকারাঃ ১০৫) আল্লাহ বলেন,

বিজ্ঞাপন

وَاصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي

অর্থাৎ- 'আমি তোমাকে নিজের জন্য নির্বাচিত করিয়া লইয়াছি।' (সূরা ত্বাহাঃ ৪১)

এই স্তরে উন্নীত সাধক যে মাকাম প্রাপ্ত হন তাহাকে বলা হয় বেলােেয়ত কোবরা বা প্রকৃত বেলায়েত। ইহার পূর্বে যে বেলায়েত আলমে আরোওয়াহর স্তরে ছালেক প্রাপ্ত হন, তাহাকে বলা হয় বেলায়েতে ছোগরা। এই বেলায়েতে কোবরা বা খাস বেলায়েত যিনি প্রাপ্ত হন, তাহাকে আল্লাহতায়ালা নিজের বলিয়া কবুল করেন। মুজাদ্দেদিয়া তরিকা অনুযায়ী যাহারা খোদা প্রাপ্তি সাধনার পথে রহিয়াছেন, তাহারা জানেন, উহার পরে বেলায়েতে উলিয়ার মাকাম রহিয়াছে যাহা ফেরেশতাগণের মাকাম। ঐ বেলায়েত অর্জিত হইবার পর কামালাতে নবুয়ত, কামালাতে রেছালত, কামালাতে উলুল আজম, হকিকতে কুরআন, হকিকতে কাবা, হকিকতে সালাত, মাবুদীয়াতে ছেরফা, হকিকতে ইব্রাহিমী, হকিকতে মুসবী, হকিকতে মুহাম্মদী, হকিকতে আহমদী, হোব্বে ছেরফা ও হকিকতে এশক প্রভৃতি মাকাম রহিয়াছে। এই সকল মাকাম সমূহে উন্নীত হইলে ছালেক আল্লাহতায়ালার সিফাতে হাকীকী সমূহ ও আল্লাহতায়ালার জাত ও জাতের নিগুঢ়তম পরিচয় লাভ করিয়া এমনই স্তরে উন্নীত হন যাহা ফেরেশতাগণের পক্ষেও সম্ভব নয়। মে'রাজে হযরত রাসূলে করীম (সঃ) ছিদরাতুল মোনতাহার অগ্রে গমন করিয়া আল্লাহতায়ালার জাতের পরিচয় লাভ করেন। কিন্তু হযরত জীব্রাইল (আঃ) কে ঐ স্থানে থমকিয়া দাঁড়াইতে হয়।

বিজ্ঞাপন

আকরাবিয়াত মাকামের আত্মিক অনুভূতিকে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) "ফারাক বাদাল জমা" বলিয়াছেন। ইহার অর্থ হইল একত্রিত হওয়ার পর পৃথক হওয়া। একত্র হইবার পর পৃথক হওয়া প্রয়োজন। কারণ, আল্লাহ বলেন, "আমি পরিচিত হইতে চাই।" পরিচিতি সন্ধানের জ্ঞান বা বোধ যদি না থাকে তাহা হইলে তিনি পরিচিতি হইবেন কাহার সাথে? বেলায়েতে ছোগরার জগতে নাম ও গুণাবলীর নূরের দ্বারা একত্রিত হইয়া সাধক জ্ঞান হারাইয়া ফেলেন। তাহার উপর আকরাবিয়াতের মাকাম। এই মাকামে কোনো রকম পার্থিব জ্ঞানের প্রবেশ নাই। ঐ মাকামে প্রবেশ করিলে বোঝা যায়, পূর্বে বেলায়েতে ছোগরার যে হাল যাহাকে ফানা ফিল্লাহ বোঝা গিয়াছিল, তাহা বস্তুতঃ ছায়েরে এল্লাল্লাহ বা আল্লাহতায়ালার অভিমুখে আত্মিক ভ্রমণ বই অন্য কিছু নয়।

আকরাবিয়াতের মাকামে আসিয়া ছালেকের নিজের সত্ত্বার বা নাফসের সহিত যে সম্পর্ক সেই সম্পর্ক সে তখন আল্লাহর সহিত স্থাপিত হইয়াছে বলিয়া অনুভব করে। ইহা সাধারণ ভাবে বোঝা বা বোঝানো কঠিন। কিন্তু আত্মিক ভাবে ছালেক তখন তাহাই অনুভব করে ও আল্লাহতায়ালার তরফ হইতে ঐ রূপ আত্মিক দর্শন লাভ করে।

মানুষের মধ্যে একাধিক সত্ত্বা থাকে। একটি সত্ত্বা এই বস্তু বা জড় জগতের আকর্ষণ যুক্ত সত্ত্বা, আর একটি সত্ত্বা এই বস্তু জগতের আকর্ষণ নিরপেক্ষ সত্ত্বা। মানুষের বস্তু জগতের আকর্ষণ যুক্ত সত্ত্বার অভ্যন্তরেই বস্তু জগতের আকর্ষণ বিমুক্ত সত্ত্বা উপস্থিত থাকে। মানুষের বস্তু জগতের প্রতি আকর্ষণ যুক্ত সত্ত্বার মৃত্যু বা সমাপ্তি হইলেই তাহার বস্তু জগতের দোষ বা প্রবণতা থাকে না, আল্লাহতায়ালা মানুষের মধ্যে যে সকল গুণাগুণ কল্পনা করিয়াছিলেন, সেই সত্ত্বা প্রকাশিত হয়। ইহা সেই গুণ সমন্বিত মানুষের ওজুদ, যাহা আদমের আসল পরিচয়। এই আদমের মধ্যেই আল্লাহতায়ালা তাহার হাকীকী সিফাত বা গুণ সমূহ প্রকাশ করেন। আর আকরাবিয়াতের মাকামই হইল হাকীকী সিফাতের মাকাম। জড় জগতের আকর্ষণ দূর না হইলে মানুষের প্রকৃত রূপ বা ওজুদ প্রকাশিত হয় না। তাই হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) বলেন, ওজুদ প্রকাশিত হইলেই আল্লাহতায়ালার সিফাত সমূহের কামালাত প্রকাশ পায়। তাহার পূর্বে যে অবস্থা তাহা মারেফাতের রাস্তার ধুলাবালি। এই স্তরে ছালেকের যে সত্ত্বা তাহা আল্লাহতায়ালার কুন আদেশ শুনিবার সত্ত্বা-অর্থাৎ ছালেকের সত্ত্বা তখনও আলমে আরোওয়াহতে আসিয়া প্রকাশ লাভ করে নাই। তখন ছালেকের অভ্যন্তরীণ অপ্রকাশিত যে সত্ত্বা থাকে; তাহা আল্লাহর দিকে সংযুক্ত থাকে। এই সত্ত্বা প্রকাশ পায় না, পাইবার প্রয়োজনও নাই। প্রকাশিত সত্ত্বাই ন্যায়, অন্যায়, পাপ, পুণ্যের সহিত যুক্ত। প্রকাশিত পার্থিব সত্ত্বার অবলুপ্তি বা নাফি হইবার পর যে সত্ত্বা থাকে, তাহা আল্লাহতায়ালার হাকীকী সিফাত যুক্ত সত্ত্বা। যে সত্ত্বা সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আল্লাহতায়ালার আনুগত্য স্বীকার করিয়াছিল। এই হাকীকী আমি যাহা পৃথিবীতে প্রকাশিত হইবার বা আলমে আরোওয়াহে প্রকাশিত হইবার পূর্ববর্তী আমি তাহার নিজস্ব বা পার্থিব কোন জ্ঞান থাকে না। সেই সত্ত্বা ঐ স্তরে আল্লাহতায়ালার মহব্বত দ্বারা ও আল্লাহতায়ালার জ্ঞান দ্বারাই পরিচালিত হন। পূর্বে যে নাফস, আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধাচরণ করিত, সেই নাফস আল্লাহতায়ালার সহিত সংযুক্ত ও সম্পর্কযুক্ত অনুভব করিবার পরে আল্লাহতায়ালার হুকুম পালন করিয়া তৃপ্তি অনুভব করে। এমতাবস্থায় হযরত নবী করীম (সঃ) বলিয়াছেন,

বিজ্ঞাপন

أَسْلَمَ شَيْطَانِي

অর্থাৎ-'আমার শয়তান মুসলমান হইয়া গিয়াছে।' এখানে শয়তান অর্থ নাফস।

আল্লাহতায়ালাকে চিনিয়া ক্ষান্ত হইলে চলিবে না। আল্লাহতায়ালার সহিত মিলনের আহ্বানে সাড়া দিতে হইবে তাহা হইলেই আল্লাহতায়ালার পরিপূর্ণ প্রকাশ পাওয়া যাইবে। আকরাবিয়াত ও ইহার ঊর্ধ্বের মাকামসমূহ আম্বিয়াদিগের মাকাম। আকরাবিয়াতের নীচে সাধারণ ওলীগণের মাকাম গঠিত। নবীদিগের মাকামে শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ বিদ্যমান। কারণ, তাহারা সৃষ্টির জন্য আল্লাহতায়ালার বিধানের ধারক ও বাহক হিসেবেই আগমন করেন।

বিজ্ঞাপন

আকরাবিয়াতের জগতে যে হাকীকী সিফাতের সহিত ছালেক পরিচিত হন, সেই আটটি সিফাত হইল হায়াত, এলেম, কুদরত, এরাদত, সামাওয়াত, বাছারত, কালাম ও তাকবীন অর্থাৎ জীবন, জ্ঞান, ক্ষমতা, ইচ্ছা, দর্শন, শ্রবণ, কথন, সৃজন। এই সিফাতসমূহ পোষাক সদৃশ্য। পোষাক ভেদ না করিলে যেমন মূল দেহ স্পর্শ করা যায় না, তেমনি সিফাতের পর্দা ভেদ না করিলে আল্লাহতায়ালায় জাতে পৌছানো যায় না। এই আটটি সিফাতের যে কার্যকরণ তাহা হইতে আল্লাহতায়ালার জাত পবিত্র। অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার এলেম সিফাত দ্বারাই আল্লাহতায়লার জাত জ্ঞানী নহেন, আল্লাহতায়ালার জাত তাহার নিজস্ব গুণ হইতেই জ্ঞানী। এরূপ আল্লাহতায়ালা তাহার কুদরত সিফাতের জন্যই সর্বময় ক্ষমতাবান নহেন, তিনি তাহার নিজস্ব সত্ত্বা দ্বারাই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। আল্লাহতায়ালার সিফাত তাহার সৃষ্টির প্রয়োজনের জন্য, জাতের প্রয়োজনে নয়। সৃষ্টি সিফাতের মুখাপেক্ষী, কিন্তু জাত সিফাতের মুখাপেক্ষী নয়।

আল্লাহতায়ালার হায়াত বা আয়ুস্কাল, এলেম বা জ্ঞান, কুদরত বা ক্ষমতা, এরাদত বা ইচ্ছা, সামাওয়াত বা শ্রবণ, বাছারত বা দর্শন, কালাম বা বর্ণন ও তাকবীন বা সৃজন শক্তি হইতেই মানুষকে জ্ঞান, শক্তি, দর্শন, শ্রবন, চিন্তন, কল্পন, বর্ণন প্রভৃতি গুণ দান করিয়াছেন। এই সকল গুণের পর্দা সমূহ পার হইয়াই আল্লাহতায়ালার জাতের সহিত পরিচিত হইতে হয়।

সৃষ্টি প্রথমে আল্লাহতায়ালার আসমা ও সিফাতের জেল্লীর মাকামে ও পরে সিফাত রাজ্যে পৌছাইবার সুযোগ ও ক্ষমতা আল্লাহতায়ালার দয়ায় লাভ করে। সিফাত সমূহের মধ্যে জ্ঞান, ক্ষমতা, কল্পনা, শ্রবন, দর্শন ইত্যাদি যে সকল গুণ রহিয়াছে, তাহার প্রতিবিম্বই মানুষকে দেওয়া হইয়াছে। এই প্রতিবিম্বিত গুণ দ্বারাই মানুষ ভিন্ন ভিন্ন জ্ঞান ও ক্ষমতা হাসিল করে। সৃষ্টির জন্য জাতে পৌঁছাইতে হইলে সিফাত ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম নাই। তবে তৌহিদে ওজুদীর প্রবক্তা হযরত ইবনুল আরাবী (রঃ) ছাহেব সিফাতকে জাত হইতে পৃথক না করিয়া তাহাকে এজমালী জাত বলিয়াছেন, এই অবস্থাকেই তৌহিদে ওজুদী বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রঃ) ছাহেব বলিতেছেন, সৃষ্টি আল্লাহতায়ালার জাতের যথাযথ প্রকাশতো নয়ই, এমন কি জাতের মর্তবা ৫-তে সরাসরি ফানা হইতে পারে না। মানুষ প্রথমে সিফাতে ফানা হইয়া তাহার পর জাতে ফানা লাভ করিতে পারে। আল্লাহতায়ালার সিফাতে ফানা লাভ করিলে ছালেকের মধ্যে আল্লাহতায়ালার গুণাগুণ বিকশিত হয়, কেবলমাত্র হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) প্রথমেই জাতে ফানা হইবার যোগ্য। সৃষ্টির মধ্যে যে ওজুদ রহিয়াছে তাহা আল্লাহতায়ালার ওজুদের জেলাল, যে ওজুদ জাহেরী ও বাতেনী কামালতের উৎস। এই ওজুদকে রক্ষা করিবার জন্য এই ওজুদ ও জাতের মধ্যে সিফাতের পর্দা রাখা হইয়াছে। সিফাত যদিও জাতের পর্দা তবুও জাতে পৌঁছানো একমাত্র সিফাত দ্বারাই সম্ভব।

একটি বাতি জ্বালাইয়া রাখিলে আলো যে রূপ দেখা যায়, তাহা একরূপ। আবার তাহাকে ঘেরিয়া কাঁচের চিমনি বা ফানুশ লাগাইলে আলো আরও প্রখর ও পরিস্কার দেখা যায়। আমাদের জ্ঞান বা বুদ্ধির জন্য সিফাতের পর্দা অতি প্রয়োজনীয়। এই সিফাতের পর্দার দ্বারাই আল্লাহতায়ালার জাত পাককে আরও অধিকতর বোঝা যায়। এই সিফাত ছাড়াও আল্লাহতায়ালাকে বুঝিবার জন্য প্রয়োজন মহব্বত, জ্ঞান, হকিকত ইত্যাদি।

আকরাবিয়াতের মাকামে আসিয়া ছালেক আল্লাহতায়ালার মহব্বতের আকর্ষণ দ্বারাই ঊর্ধ্বে উন্নীত হন। বান্দা কখনও খোদাতায়ালা হইতে পারে না; কিন্তু আল্লাহতায়ালার সিফাতের রাজ্য অতিক্রম করিবার পরে খোদাতায়ালা হইতে দূরেও থাকে না। তখন মানুষ আল্লাহতায়ালাকে ভালবাসে। সিফাতের রাজ্য অতিক্রম করিবার পরে মানুষ যে অবস্থায় উন্নীত হয়, তাহা হইল তাহার হকিকত, মানুষ তখন আল্লাহকে ভালবাসে। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেন,

الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ

অর্থাৎ-'যে যাহাকে ভালবাসে, সে তাহার সংগে থাকে।'

হে জাকেরান সকল! তোমরা তৌহিদে ওজুদী ও তৌহিদে শহুদী সম্পর্কে কিছু বুঝিতে পারিলে। তৌহিদে ওজুদী হইল খোদাপ্রাপ্তি পথের পথিকদের সাধনার মাঝামাঝি পর্যায়ের একটি হাল বা অবস্থা। যে পর্যায়ে সাধকের নিকট ইহাই অনুভূত হয় যে, খোদা ব্যতীত আর কেহই বা কোন কিছুই মওজুদ বা বর্তমান নাই; আর কোন কিছুরই অস্তিত্ব নাই। ইহা মর্তবায়ে জমার (একত্রিত হওয়ার মাকাম) মারেফাত। এখান হইতে ঊর্ধ্বে উন্নীত হইলে তখন সাধকের দৃষ্টিতে ইহা প্রতীয়মান হয় যে, খোদার অস্তিত্বও আছে, আবার সৃষ্টির অস্তিত্বও আছে। সৃষ্টি খোদার যথাযথ নয়। তবে মর্তবায়ে জমার মাকামে খোদাতায়ালার নূরের প্রখরতায় স্রষ্টা ব্যতীত আর কিছুই; এমনকি নিজেকেও দেখা যায় না বিধায় জজবা ও নেশার ঘোরো খোদাতায়ালার অস্তিত্ব ছাড়া আর সবই ছালেক অস্বীকার করে। আকরাবিয়াত বা তাহারও ঊর্ধ্বের মাকামে উপনীত হইলে ছালেকের নেশা কাটিয়া যায়, নিগুঢ় সত্য তাহার নিকট প্রকাশিত হয়; স্রষ্টাকে স্রষ্টা ও সৃষ্টিকে সৃষ্টি হিসাবে দেখিবার ক্ষমতা জন্মে। তখন ছালেকের বোধগম্য হয় যে, তৌহিদে ওজুদী আসলে তৌহিদে শহুদী।

তোমরা পীরের কদমে খেদমত কর। তরিকতের নিয়ম-পদ্ধতি অনুযায়ী চল। আমি দু'আ করি, আল্লাহপাক যেন তোমাদেরকে তৌহিদে ওজুদী ও তৌহিদে শহুদীকে বুঝিবার ক্ষমতা দেন। আমীন!

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD