Logo

মসজিদে তালিমের ঘোষণা দেওয়া নিয়ে ইসলামের বিধান কী?

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৫৬
মসজিদে তালিমের ঘোষণা দেওয়া নিয়ে ইসলামের বিধান কী?
ছবি: সংগৃহীত

মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের পর অনেক জায়গায় ধর্মীয় তালিমের আয়োজন করা হয়। এ সময় মুসল্লিদের তালিমে অংশ নেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে মাইকে বা উচ্চস্বরে ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এ ঘোষণার কারণে অন্য মুসল্লিদের নামাজ, জিকির কিংবা ইবাদতে মনোযোগ ব্যাহত হলে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: আমাদের মসজিদে ইশার নামাজের পর তালিম হয়। ইমাম সাহেব ফরজ নামাজ শেষ করার পর মুসল্লিদের একজন দাঁড়িয়ে উচ্চৈস্বরে তালিমের ঘোষণা দেন। এ কারণে অনেক মুসল্লি বিরক্ত হন। প্রশ্ন হলো, মসজিদে এভাবে তালিমের ঘোষণা দেওয়ার বিধান কী?

উত্তর: তালিমের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য স্বাভাবিক স্বরে সংক্ষিপ্ত ঘোষণা দেওয়া সাধারণভাবে জায়েজ, যদি এতে নামাজরত বা জিকিরে মশগুল মুসল্লিদের অসুবিধা না হয়। তবে ঘোষণার কারণে মাসবুক মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে কিংবা অন্য মুসল্লিদের জিকির ও ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে তা পরিহার করা উচিত।

ইবনে আবেদীন শামী (রহ.) তাঁর রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ‘পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণ মসজিদসহ অন্যান্য স্থানে সম্মিলিতভাবে জিকির করাকে মুস্তাহাব বলেছেন; তবে তাদের উচ্চৈস্বরে জিকিরের কারণে কোনো ঘুমন্ত ব্যক্তি, নামাজ আদায়কারী বা কুরআন তিলাওয়াতকারীর অসুবিধা হলে তা ব্যতিক্রম।’

বিজ্ঞাপন

এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সম্মিলিত জিকির বা ধর্মীয় কার্যক্রম বৈধ হলেও তা এমনভাবে করা উচিত নয়, যাতে অন্যের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। মসজিদ মুসল্লিদের নামাজ, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের স্থান। তাই ধর্মীয় কোনো কার্যক্রমের ঘোষণা দেওয়ার সময়ও অন্যদের ইবাদতের প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন।

সুতরাং, তালিমের ঘোষণা দেওয়ার কারণে মুসল্লিদের নামাজ ও জিকিরে মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটলে কিংবা তাঁরা বিরক্ত বোধ করলে বিষয়টিকে তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়। মসজিদ কমিটি, ইমাম ও মুসল্লিদের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এমন বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, যাতে তালিমের কথা সবাই জানতে পারেন, অথচ কারও ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়। যেমন—নামাজের পর উপযুক্ত সময়ে স্বাভাবিক স্বরে সংক্ষিপ্ত ঘোষণা দেওয়া কিংবা আগে থেকেই তালিমের সময়সূচি জানিয়ে রাখা।

মূল কথা হলো, তালিমের মতো ভালো কাজের আয়োজন করতে গিয়ে অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে অসুবিধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও শরিয়তের নির্দেশনা বিবেচনায় রেখে এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সমীচীন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD