Logo

দুর্গাপূজা শেষে পানিতে কেন বিসর্জন দেওয়া হয় দেবীর প্রতিমা?

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:২৭
দুর্গাপূজা শেষে পানিতে কেন বিসর্জন দেওয়া হয় দেবীর প্রতিমা?
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সিঁদুর খেলা, দেবীবরণ, প্রার্থনা ও নানা ধর্মীয় আচার শেষে শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় নদী, পুকুর কিংবা নির্ধারিত জলাশয়ে। কিন্তু দুর্গাপূজা শেষে কেন প্রতিমা পানিতে বিসর্জন দেওয়া হয়? এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

বিজ্ঞাপন

দেবীর বিদায় ও কৈলাসে ফিরে যাওয়ার বিশ্বাস

বাংলার দুর্গাপূজায় দেবী দুর্গাকে শুধু অসুরবিনাশী শক্তির প্রতীক হিসেবে নয়, ঘরের মেয়ের মতো করেও কল্পনা করা হয়। শরৎকালে দেবীর আগমনকে বাপের বাড়িতে মেয়ের ফিরে আসার সঙ্গে তুলনা করা হয়। কয়েক দিন ধরে পূজা, ভোগ ও আনন্দ-উৎসবের পর বিজয়া দশমীতে তাঁকে বিদায় জানান ভক্তরা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রচলিত হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সন্তানদের নিয়ে মর্ত্যে কয়েক দিন অবস্থানের পর দেবী দুর্গা স্বামী মহাদেবের আবাস কৈলাসে ফিরে যান। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতীকীভাবে এই বিদায়পর্ব সম্পন্ন হয়।

পানিতে প্রতিমা বিসর্জনের তাৎপর্য কী?

বিজ্ঞাপন

প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে সৃষ্টি, প্রকৃতি ও পরিবর্তনশীলতার ধারণা জড়িয়ে রয়েছে। মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়। শিল্পীর হাতে সেই মাটি দেবীমূর্তির রূপ পায় এবং পূজার মাধ্যমে ভক্তরা সেখানে দেবীর উপস্থিতি কল্পনা করেন। উৎসব শেষে প্রতিমা পানিতে বিসর্জন দেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই দৃশ্যমান রূপ আবার প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এই প্রথার একটি প্রতীকী ব্যাখ্যা হলো, দৃশ্যমান রূপের অবসান ঘটলেও ভক্তদের মনে দেবীর প্রতি বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও ভক্তি অটুট থাকে। তবে বিসর্জনের ধর্মীয় ব্যাখ্যা অঞ্চল, পারিবারিক রীতি ও প্রচলিত আচার অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

প্রতিমা বিসর্জনের আগে দর্পণ বিসর্জন

বিজ্ঞাপন

প্রতিমা জলাশয়ে নেওয়ার আগে দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ আচার হলো দর্পণ বিসর্জন। এ প্রথায় আয়নায় দেবীর প্রতিবিম্বের মাধ্যমে প্রতীকী বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়। এরপর অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

বিজয়া দশমীতে দেবীবরণ ও সিঁদুর খেলাও অনেক পূজামণ্ডপের অন্যতম আকর্ষণ। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, নারীরা দেবীকে সিঁদুর পরিয়ে মিষ্টি নিবেদন করেন এবং পরস্পরকে সিঁদুর মাখিয়ে শুভকামনা জানান। তবে এসব আচার পালনের ধরন স্থান ও পরিবারভেদে আলাদা হতে পারে।

প্রতিমা বিসর্জনে পরিবেশ সুরক্ষাও জরুরি

বিজ্ঞাপন

ঐতিহ্যগতভাবে মাটির প্রতিমা জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হলেও প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। প্লাস্টার অব প্যারিস, রাসায়নিক রং, প্লাস্টিক ও অবিয়োজ্য সাজসজ্জার সামগ্রী জলাশয়ের দূষণ বাড়াতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ কারণে পরিবেশবান্ধব প্রতিমা তৈরি, প্রাকৃতিক উপকরণ ও কম ক্ষতিকর রং ব্যবহার এবং বিসর্জনের পর জলাশয় থেকে বাঁশ, কাপড়, প্লাস্টিকসহ অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে ফেলা গুরুত্বপূর্ণ। এতে ধর্মীয় ঐতিহ্য পালনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাও নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিসর্জন মানেই শেষ নয়

দুর্গাপূজার বিসর্জন শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বাঙালির আবেগ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ। প্রতিমা বিসর্জনের সময় ভক্তদের মধ্যে যেমন বিদায়ের বেদনা থাকে, তেমনি থাকে আগামী বছর আবার দেবীর আগমনের প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন

‘আসছে বছর আবার হবে’—এই আশাবাদ ও আনন্দের মধ্য দিয়েই শেষ হয় দুর্গোৎসবের একটি পর্ব। প্রতিমা বিসর্জনের পরও ভক্তদের মনে থেকে যায় উৎসবের স্মৃতি, সম্প্রীতির বার্তা এবং পরবর্তী দুর্গাপূজার অপেক্ষা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD