Logo

অভাব দূর করে জীবনে বরকত আনে যে দোয়া

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭:০৩
অভাব দূর করে জীবনে বরকত আনে যে দোয়া
ছবি: সংগৃহীত

জীবনে স্বচ্ছলতা, মানসিক প্রশান্তি ও রিজিকে বরকত প্রত্যেক মানুষেরই কাম্য। ইসলামি শিক্ষায় রিজিক বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের জন্য দোয়া করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এমনই একটি তাৎপর্যপূর্ণ দোয়ায় রয়েছে গুনাহ মাফ, বাসস্থানের প্রশস্ততা এবং রিজিকে বরকত লাভের প্রার্থনা।

বিজ্ঞাপন

রিজিক ও বরকত লাভের দোয়াঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَسِّعْ لِي فِي دَارِي، وَبَارِكْ لِي فِي رِزْقِي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি যাম্বি, ওয়া ওয়াস্তি লি ফী দারী, ওয়া বারিক লি ফী রিযকী।

বিজ্ঞাপন

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমার ঘর প্রশস্ত করে দিন এবং আমার রিজিকে বরকত দান করুন।

যে হাদিসে দোয়াটি বর্ণিত হয়েছে

আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য অজুর পানি নিয়ে আসেন। অজু শেষে তিনি নবীজিকে (সা.) একটি বিশেষ দোয়া করতে শোনেন। দোয়াটি ছিল— ‘আল্লাহুম্মাগফির লি যাম্বি, ওয়া ওয়াস্তি লি ফী দারী, ওয়া বারিক লি ফী রিযকী।’ আমি বললাম হে আল্লাহর নবী! আমি শুনলাম আপনি এই এই দোয়া করেছেন। নবীজি (সা.) বললেন, এই দোয়া থেকে কিছু বাদ পড়েছে? (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)

বিজ্ঞাপন

অর্থ ও তাৎপর্য

এই সংক্ষিপ্ত দোয়াটি অত্যন্ত ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী অর্থ বহন করে। দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণ যেন এই একটিমাত্র দোয়ার মাঝে নিহিত রয়েছে। এই দোয়ার অনন্য বৈশিষ্ট্য ও গভীরতা সম্পর্কে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন যে, এই দোয়ায় বান্দার দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণমূলক কোনো প্রার্থনাই বাদ যায়নি। নিচে দোয়াটির প্রতিটি অংশের চমৎকার ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো:

১. গুনাহ ক্ষমা

বিজ্ঞাপন

দোয়ার প্রথম অংশে বান্দা মহান আল্লাহর দরবারে তার সমস্ত পাপ ও ত্রুটি মোচনের আকুতি জানায়। কারণ, পাপের কালিমা যখন মানুষের জীবনে স্তূপীকৃত হতে থাকে, তখন তা ধীরে ধীরে মানুষের কোমল অন্তরকে কঠিন পাথরে পরিণত করে তোলে। এটি মানুষের বর্তমান জীবন ও চূড়ান্ত পরিণামকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তার ঠিকানা করে দেয় ধ্বংসের ঘর জাহান্নাম। তাই পার্থিব কোনো প্রশান্তি বা রিজিক চাওয়ার আগে নিজের আত্মাকে পাপমুক্ত ও পবিত্র করে নেওয়া মুমিনের কাছে সর্বাগ্রে কাম্য।

২. ঘরের প্রশস্ততা

দ্বিতীয় অংশে দুনিয়ার আবাসস্থলকে প্রশস্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার প্রার্থনা করা হয়েছে। কেননা, সংকীর্ণ বাসস্থান, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব কিংবা অস্বস্তিকর পরিবেশ মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ তৈরি করে, মনকে বিষণ্ন করে তোলে এবং অনর্থক পেরেশানি বাড়ায়। এর পাশাপাশি, এই প্রার্থনার অন্তর্নিহিত আরেকটি অর্থ হলো পরকালের প্রথম ঠিকানা ‘কবর’ প্রশস্ত হওয়া তা যেন জান্নাতের সুশীতল বাগিচায় পরিণত হয়। পরকালের পরবর্তী ঠিকানাও যেন আল্লাহ তাআলা প্রশস্ত করেন অর্থাৎ জান্নাত দান করেন। এর মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি একই সাথে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানের আবাসস্থলেই স্বস্তি ও প্রশান্তি কামনা করেন।

বিজ্ঞাপন

৩. রিজিকে বরকত কামনা

দোয়ার শেষ অংশে নিজের রিজিকে বরকত লাভের আবেদন জানানো হয়েছে। রিজিকে বরকত বলতে শুধু অর্থ-সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি বোঝায় না। বরং উপার্জন হালাল হওয়া, সম্পদে কল্যাণ থাকা, প্রয়োজন পূরণ হওয়া এবং অল্প সম্পদেও তৃপ্তি লাভ করাও এর গুরুত্বপূর্ণ দিক।

একজন মানুষের আয় বেশি হলেও তাতে বরকত না থাকলে প্রকৃত স্বস্তি পাওয়া কঠিন। অন্যদিকে, অল্প উপার্জনেও আল্লাহর বরকত থাকলে জীবন হয়ে উঠতে পারে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও প্রশান্তিময়।

বিজ্ঞাপন

তাই প্রতিদিনের দোয়া ও ইবাদতে এই প্রার্থনাটি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। পাশাপাশি হালাল উপার্জন, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব।

 

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD