Logo

শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক সকল ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:২৬
শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক সকল ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
ছবি প্রতিনিধি।

শিশু নির্যাতন ও বলাৎকার প্রতিরোধ করে সব ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজধানীর নারিন্দার মশুরীখোলা দরবার শরীফের পীরসাহেব হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহ মুহাম্মদ সাইফুজ্জামান। ধর্মের শিক্ষা যেন মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও অসহায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, কোনো অপরাধ আড়াল করার হাতিয়ার না হয়—সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর নারিন্দায় মশুরীখোলা দরবার শরীফের ১০১তম ইসালে সাওয়াব মাহফিল ও দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠিত লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার হাফেজ ছাত্রদের দস্তারবন্দী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মহান আউলিয়ায়ে কেরামের আদর্শ মানুষকে আত্মশুদ্ধি, মানবসেবা, ন্যায়বিচার এবং দুর্বলের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন, বলাৎকার এবং শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন গুরুতর অপরাধ। ধর্মীয় পরিচয় কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার অজুহাতে এসব অপরাধ আড়াল করার সুযোগ নেই। কোনো অভিযোগ উঠলে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসা, দরবারসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য কার্যকর শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন, নিরাপদ অভিযোগ গ্রহণব্যবস্থা চালু এবং অপরাধের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার শিশু ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

মাহফিলে মশুরীখোলা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত কেবলা শাহ মুহাম্মদ আহসানুল্লাহ (রহ.)-এর জীবন, কর্ম, ঐতিহ্য এবং ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানদের কল্যাণে তাঁর অবদান সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠাতার জীবন ও কর্ম নিয়ে দলিলভিত্তিক গবেষণা এবং ঐতিহাসিক তথ্য সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইতিহাস ও মানবকল্যাণের শিক্ষা গ্রহণে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হযরত শাহ আহসানুল্লাহ (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের অষ্টম মোতাওয়ালি হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (রহ.)-এর ছোট সাহেবজাদা ও বর্তমান গদ্দিনশীন পীরসাহেব হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহ মুহাম্মদ সাইফুজ্জামান (মা.জি.আ.)।

দিনব্যাপী আয়োজনে ওয়াজ মাহফিল, পবিত্র কোরআন খতম, ধর্মীয় আলোচনা ও জিকির মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ আল্লামা আবদুল কুদ্দুস ও শিক্ষক মাওলানা নিয়ামুল ইসলামের সঞ্চালনায় কোরআন-হাদিসের আলোকে আলোচনা করেন হযরত কেবলার খলিফাদের প্রতিনিধিরা, দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতি ড. সৈয়দ শাহ এমরান, হযরত কেবলা শাহ আহসানুল্লাহ (রহ.) কমপ্লেক্সের সভাপতি শাহ মোহসেনুজ্জামান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি আবু জাফর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, পীরে তরিকত আল্লামা হাফেজ মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ আশেকী এবং বেতাগী আস্তানা শরীফের পীরসাহেব আল্লামা গোলামুর রহমান আশরাফ শাহ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদ্রাসার সহ-অধ্যাপক মাওলানা আবুল বাশার, মুদাররিস মাওলানা মাকসুদুল হাসান আল আবেদী, মশুরীখোলা শাহ সাহেববাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সৈয়দ মাঈনুদ্দিন হেলাল, মশুরীখোলা আনজুমানে আহসানিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা সৈয়দ বদরুদ্দোজা জুনায়েদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা তাওহিদুল ইসলাম এবং ঘরগাঁও দরবার শরীফের শাহজাদা মাওলানা আহসান আব্দুল্লাহ। জিকির মাহফিল পরিচালনা করেন নিজ পানুয়া দরবার শরীফের পীরসাহেব সৈয়দ বদরুল কামাল।

বিজ্ঞাপন

প্রতি বছরের মতো এবারও লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার হাফেজ ছাত্রদের দস্তারবন্দী বা পাগড়ি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার মুসল্লি অংশ নেন। তাঁদের জন্য দরবার শরীফের পক্ষ থেকে তাবারুকের ব্যবস্থা করা হয়।

শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী ইসালে সাওয়াব মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে। মোনাজাত পরিচালনা করেন দরবার শরীফের বর্তমান গদ্দিনশীন পীরসাহেব হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহ মুহাম্মদ সাইফুজ্জামান (মা.জি.আ.)।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD