Logo

ঈদে মিলাদুন্নবীর আলোকে নবী করীম (সাঃ) এর শ্রেষ্ঠত্ব নিরুপণ

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২২:২৭
ঈদে মিলাদুন্নবীর আলোকে নবী করীম (সাঃ) এর শ্রেষ্ঠত্ব নিরুপণ
ছবি: জনবাণী।

হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কূঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত ‘ঈদে মিলাদুন্নবী ও জাকের পার্টির আদর্শ-লক্ষ্য’ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ঈদে মিলাদুন্নবীর আলোকে নবী করীম (সাঃ) এর শ্রেষ্ঠত্ব নিরুপণঃ

বিজ্ঞাপন

পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা দয়াল নবী, রাসূলে করীম (সাঃ) সম্পর্কে বলেন,

لَوْلاكَ لَمَا خَلَقْتُ الْأَفْلَاكَ

অর্থাৎ- '(হে নবী!) আপনাকে সৃষ্টি না করিলে আমি কিছুই সৃষ্টি করিতাম না।'

বিজ্ঞাপন

মহান আল্লাহ্পাক আপন প্রেম ও করুণা প্রকাশের বাসনা নিয়া সর্ব প্রথমে যাহা সৃষ্টি করিলেন তাহা হযরত রাসূলে করীম (সাঃ)-এর নূর বা নূরে মুহাম্মদী। এই নূরে মুহাম্মদী দ্বারাই সমগ্র সৃষ্টি জগৎ ও ইহার সকল প্রাণী ও বস্তু সৃষ্টি। তাই তিনি সমস্ত বিশ্ব নিখিলের নবী। হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলেন, '(হে নবী!) আপনি বলিয়া দিন, হে মানব জাতি, আমি তোমাদের সকলের নিকট আল্লাহতায়ালার প্রেরিত রাসূল'। আল্লাহপাক কেবলমাত্র রাসূলে করীম (সাঃ) কেই সমগ্র বিশ্ব মানবের জন্য নবী ও পথ-প্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করেন। কেবলমাত্র রাসূলে করীম (সাঃ) কেই অভিহিত করিয়াছেন রাহমাতুল্লিল আ'লামীন বলিয়া। তাই তিনি মানব জাতি তথা সমগ্র বিশ্ব নিখিলের সাধনা ও স্বপ্নের ছবি, কামনার ধন।

তাহার মাধ্যমেই আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন তাহার করুণা প্রকাশ করেন, তাহার নূর দ্বারাই সৃষ্টি করেন বিশজগৎ। তাই আল্লাহপাক স্বয়ং তাহার নামের পাশে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর নাম বসাইয়া আপন আরশে তাহার মহিমা প্রকাশ করিয়াছেন। আরশ মজীদে লেখা, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।' আসমান-জমিন, চন্দ্র-তারকা, পাহাড়-পর্বত, নদী-সমুদ্র, তরুলতা, ফুল-ফল, তথা প্রতি অণু-পরমাণুতে চলিতেছে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্'- এই কলেমা শরীফের জেকের। আর আল্লাহতায়ালা স্বয়ং নবীর শানে প্রেরণ করেন দরুদ ও ছালাম। তাই তাহার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বলিয়া শেষ করা যাইবে না। তাহার প্রশংসারও শেষ হইবে না।

রাসূলে করীম (সাঃ) বলেন,

বিজ্ঞাপন

وَ الْخَلْكُ مِنْ نُّوْرِي

অর্থাৎ-'সমগ্র বিশ্বজগৎ আমার নূর দ্বারা সৃষ্ট।'

এই হাদীসপাক সম্পর্কে একটু চিন্তা করিলেই বুঝা যায় যে তিনি সমগ্র বিশ্ব জগতের ধারক, বাহক ও ত্রাণকর্তা। তাহার মধ্যে বিশ্বজগতের জ্ঞানের পরিপূর্ণতা। আর জ্ঞানের পরিপূর্ণতার কারণে তাহার মধ্যে মানবতার পরিপূর্ণতা। তাহার মাধ্যমেই আল্লাহ্পাক মানবজাতির জন্য তাহার শ্রেষ্ঠ নেয়ামত ও দিকদর্শন ইসলাম প্রেরণ করেন।

বিজ্ঞাপন

সমগ্র সৃষ্টির ধারক বাহক ও ত্রাণকর্তা, সমগ্র জ্ঞানের উৎস ও প্রবক্তা, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এই ধরাধামে আবির্ভূত হইয়াছিলেন আজ হইতে সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে, মহা পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের ১২ই তারিখে। তাহার তিরোধানও হইয়াছিল এই দিনে। তাই এই মহাপবিত্র দিন শুধু মানজাতির জন্যই নয়, সমগ্র সৃষ্টির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন।

আল্লাহ্পাক যে নবী (সাঃ) কে সমগ্র বিশ্ব মানব তথা নিখিলের ধারক, বাহক ও ত্রাণকর্তা হিসাবে প্রেরণ করেন, তাঁহার সহিত স্রষ্টা ও সৃষ্টির এক অপূর্ব সম্পর্ক ছিল; সেই সম্পর্কে আল্লাহ্পাক পবিত্র কুরআন মজীদে ফরমান,

قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٍ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَى

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ-'(হে নবী!) আপনি বলুন, আমি তোমাদের মতন মানুষ, তবে আমার উপর অহী নাজেল হয়। (সূরা কাহফঃ ১১০)

রাসূলে করীম (সাঃ) বলেন, 'আমি তোমাদের কারোও মত নই, আমি আমার প্রভুর সান্নিধ্যে রাত্রি যাপন করি, তিনিই আমাকে পানাহার করান।'

যে কলেমা শরীফ আল্লাহতায়ালার আরশ কুরছীতে খোদিত এবং সমস্ত সৃষ্টির প্রতি অণু-পরমাণু যে কলেমা শরীফের জেকেরে নিয়োজিত; সেই কলেমা শরীফ হইতে বুঝা যায়, আল্লাহতায়ালার সহিত হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর সম্পর্ক কত নিবিড়। আল্লাহর সহিত সেই নিকটতম সম্পর্কের জন্যই তিনি পৃথক। যাহার নূর দ্বারা বিশ্ব নিখিল সৃষ্ট, তিনি সমগ্র বিশ্ব নিখিলের জ্ঞানে জ্ঞানী হইবেন-ইহাইতো স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন

আল্লাহতায়ালা নিরাকার ও অসীম। তিনি কাহারও জন্ম দেন না, কাহারও দ্বারা তিনি জাতও নহেন। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। সৃষ্টি সাকার ও সসীম। কেমন করিয়া অরূপ হইতে রূপে, অসীমের নিকট হইতে সসীমের প্রতি বাণী পৌঁছানো যায়? আর সাকার ও অক্ষম মানুষই বা কি প্রকারে নিরাকার ও অসীম আল্লাহতায়ালার নিকট পৌছাইবে? নিরাকার ও অসীমের সহিত সাকার ও সসীমের যোগাযোগের জন্য তাই চাই এমন এক মাধ্যম, যে মাধ্যমের মধ্যে থাকিবে নিরাকার ও অসীম এবং সাকার ও সসীম-এই উভয় বৈশিষ্ট্য। এই উভয় বৈশিষ্ট্য লইয়াই হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) প্রথম ধরার ধুলিতে আগমন করেন। তিনি যতখানি সৃষ্টির, ততখানি স্রষ্টার। সৃষ্টির ধারক ও বাহক এবং স্রষ্টার প্রশংসাকারী। সৃষ্টির প্রতি আল্লাহতায়ালার করুণার ধারা এবং স্রষ্টার সর্বাধিক গুণগানকারী।

সৃষ্টির প্রতি আল্লাহতায়ালার এই করুণাধারা যে জগতে আবির্ভূত হইবেন এবং তাহার দ্বারা আল্লাহতায়ালা জগদ্বাসীর প্রতি তদীয় নেয়ামত যে পরিপূর্ণ করিবেন, এই প্রতিশ্রুতি আল্লাহ্পাক তৎপূর্বের বহু নবীকে জানাইয়াছিলেন। প্রায় সকল ধর্মগ্রন্থেই তদীয় আবির্ভাবের সুসংবাদ রহিয়াছে।

রবিউল আউয়াল মাসের যে পবিত্র প্রভাতে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) ধরাধামে আবির্ভূত হন, সেদিন জগৎ ও প্রকৃতি এক অপূর্ব রূপ পরিগ্রহ করিয়াছিল। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর জন্মক্ষণ ছিল ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখের রহমতের সময় বা নিশিথের শেষভাগে। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর জন্মের পূর্বে তদীয় মাতা স্বপ্নযোগে নবীজীর আবির্ভাবের ইঙ্গিত পাইয়াছিলেন। আর যেদিন শিশু নবী (সাঃ) এই ধরার বুকে আবির্ভূত হইলেন, সেদিন মা আমিনা তদীয় দিব্য চোখে দেখিতেছিলেন, এক অপূর্ব বেহেশতী নূরে আসমান জ্যোতির্ময় হইয়া গিয়াছে-সেই আলোক দ্বারা আসমান, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র আলোকিত হইতেছে, তাহার গৃহের অঙ্গন শুভ্র বসন পরিহিত ফেরেশতাদের দ্বারা পরিপূর্ণ হইয়াছে। পূর্বকালের নবী (আঃ) গণের স্ত্রীগণ, পুণ্যময়ী নারী বিবি হাওয়া, বিবি হাজেরা, বিবি রহিমা, বিবি মরিয়ম, সকলেই তাহার শিয়রে দন্ডায়মান। এই সকল পূণ্যময়ী নারীগণ, ফেরেশতাগণ, আসমানের চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র সকলেই সদ্যজাত শিশুকে অভিনন্দন জানাইতেছেন: সকলেই মুখর কন্ঠে বলিতেছেন, 'মারহাবা ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাঃ)! 'মারহাবা ইয়া হাবিবাল্লাহ (সাঃ)! খোশ আমদেদ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই পৃথিবীর প্রতি ধুলিকণা, আসমানের চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-উপগ্রহের প্রতি অণু-পরমাণু যে মহান করুণাধারার অপেক্ষায় সৃষ্টির প্রথম হইতে অধীর হইয়াছিল, সেই করুণাধারা আজ ধরার বুকে পাইয়া সমগ্র সৃষ্টি আনন্দে দুলিয়া উঠিল; সৃষ্টি তাহার স্বার্থকতা খুঁজিয়া পাইল। মা আমিনা দেখিলেন, বেহেশতের হুরগণ আনন্দে আপ্লুত হইয়া বেহেশতী ফুলের পাপড়ি বর্ষণ করিয়া হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) কে অভিনন্দন জানাইলেন। সেই ফুলের সুবাসে সৃষ্টি আমোদিত হইল। বিশ্ব নিখিলের প্রতি অণু-পরমাণু পরমানন্দে জেকের করিল 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।' এই জেকের ধ্বনি কাঁপন তুলিল মখলুখের প্রতি তারায় তারায়, প্রতি গ্রহে উপগ্রহে, ধরণীর ধুলিকনায়, আকাশে-বাতসে, পানিতে। পাখীরা গান গাহিয়া, ভ্রমর গুঞ্জন করিয়া, বৃক্ষ পাতার মর্মর ধ্বনি দিয়া, নদী তাহার কুলু কুলু রব দিয়া, সূর্য-তারা, চন্দ্র আলোক বিতরণের মাধ্যমে নবী করীম (সাঃ) কে স্বাগত জানাইল- নিজ নিজ ভাষায় সমগ্র সৃষ্টি 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' এর জেকের করিয়া তাহাকে ছালাম জানাইল।' এই স্বপ্ন দেখিতে দেখিতে মা আমিনার ঘুম ভাংগিল- তিনি দেখিলেন, তদীয় কোলে পূর্ণিমার চাঁদের মত শিশু নবী স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের প্রতীক হইয়া আলোকিত করিয়া আছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রেম বিতরণে নবীজীর (সাঃ) শ্রেষ্ঠত্বঃ

বিশ্ব নিখিল যখন নবীজীর আবির্ভাবের আনন্দে মুখর; ঐ শিশু নবী (সাঃ) এর কন্ঠে তখনই শোনা গিয়াছিল 'ইয়া উম্মতি, ইয়া উম্মতি'। সৃষ্টির দুঃখ বেদনায় তখনই নবী (সাঃ) এর কন্ঠে বাজিল বেদনার ক্রন্দন ধ্বনি। যে সৃষ্টি তাহারই নূর হইতে সৃষ্ট, জন্মের মুহূর্ত হইতেই সেই সৃষ্টির বেদনায় নবী (সাঃ) ব্যথিত হইবেন, ইহাইতো স্বাভাবিক। জন্মের প্রথম মুহূর্ত হইতে তদীয় মহত্তম জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সৃষ্টির জন্যই উৎসর্গীকৃত হইয়াছে; শুধু মানুষের জন্য নয়, সৃষ্টির বহু ক্ষুদ্র প্রাণীর জন্যও তিনি তাহার করুণার ধারা অবারিত রাখিয়াছেন- ইহারও প্রমাণ রহিয়াছে।

পবিত্র হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) একদা এক বনের নিকট দিয়া যাইবার সময়ে দেখিতে পান, একটি হরিণ শিকারীর জালে আটকা পড়িয়াছে। হরিণ নবীজী (সাঃ) এর নিকট তাহার হৃদয়ের ভাষায় অশ্রুসিক্ত নয়নে বলিল, 'হে নবী করীম (সাঃ)! আমি শিকারীর জালে আটকা পড়িয়াছি। কিন্তু আমার দুইটি শিশু শাবক রহিয়াছে। ঐ শিশু শাবকদ্বয়কে আমি শেষবারের মত দুধ খাওয়াইয়া আসিতে চাই। আর তাহাদের নিকট হইতে বিদায় লইয়া আসিতে চাই। তাহা না হইলে তাহারা আমাকে খুঁজিতে খুঁজিতে এমন কোন জায়গায় গিয়া পড়িতে পারে, যাহাতে তাহাদেরও জীবন বিপন্ন হয়। আপনি সকল সৃষ্টির জন্য আল্লাহতায়ালার করুণা। আপনি দয়া করিয়া জাল খুলিয়া দিন। আমি আবার এই স্থানে ফিরিয়া আসিব।

বিজ্ঞাপন

মাতৃস্নেহে আপ্লুত হরিণীর সজল নয়নের অনুরোধ হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) ফেলিতে পারিলেন না। তিনি জাল উঠাইয়া হরিণীকে মুক্ত করিয়া সেখানে বসিয়া রহিলেন। কিছুক্ষণ পরে ইহুদী শিকারী সেখানে আসিয়া নবী করীম (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করিল, জাল গুটানো কেন? নবীজি সকল ঘটনা খুলিয়া বলিলেন। ইহুদী নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট অনুযোগ করিতে লাগিল, 'ইহা কি সম্ভব! বনের হরিণী জাল হইতে মুক্ত হইয়া কি আর ফিরিয়া আসিবে?' নবী করীম (সাঃ) তাহাকে বলিলেন, আমিতো হরিণের জন্য জামিন রহিয়াছি।

হরিণ নিজ আবাসে যাইয়া তাহার শাবকদের বলিল, 'তোমরা শিগগিরই দুখ খাইয়া লও। ইহাই তোমাদের জন্য আমার শেষ দুধ পান করানো। আমি শিকারীর জালে আটকা পড়িয়াছিলাম। বরাত গুণে হযরত নবী করীম (সাঃ) ঐ পথ দিয়া যাইতেছিলেন। নবী করীম (সাঃ) এর নিকট তোমাদের কথা বলিয়া সামান্য সময়ের জন্য ছুটিয়া আসিয়াছি।' হরিণ শাবকগণ কহিল, 'স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) তোমার জন্য জামিন হইয়া অপেক্ষা করিতেছেন, ইহা তো সাংঘাতিক কথা। আমরাও তোমার সঙ্গে যাইব।' কিছুক্ষণ পরে ইহুদী শিকারী দেখিল, বনের হরিণ ফিরিয়া আসিতেছে। তাহার দুই শাবক তাহার পশ্চাতে আসিতেছে। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর নিকট দেয়া কথা রক্ষা করিতে বনের হরিণ ফিরিয়া আসিয়াছে। ইহা দেখিয়া ইহুদীর জ্ঞানোদয় হইল। ইহুদী তৎক্ষণাৎ নবী করীম (সাঃ)-এর কদমে পড়িল- ইসলাম গ্রহণ করিবার জন্য। নবী করীম (সাঃ) এর নিকট সে বায়াত হইল, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিল।

সহীহ রেওয়াতে আছে, একদা হযরত জীবাইল (আঃ) আল্লাহতায়ালার নিকটে আরজ করিলেন, হে আল্লাহপাক! আপনি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে কেন রাহমাতুল্লিল আ'লামীন উপাধিতে ভূষিত করিলেন, অন্য কোনো নবী কেন এমন নামে অভিহিত হইলেন না। আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন হযরত জীব্রাইল (আঃ) কে তখন বলিলেন, 'তুমি আমার হাবীবের নিকট গমন কর, তাহা হইলেই ইহার কারণ জানিতে পারিবে।' হযরত জীব্রাইল (আঃ) তখন এক বাজ পাখীর রূপ ধারণ করিলেন। তাহার অন্য এক সহযোগী ফেরেশতাকে এক কবুতর শাবকের রূপ ধারণ করিতে বলিলেন। অতঃপর বাজ পাখী রূপী জীব্রাইল (আঃ) কবুতর রূপী পক্ষী শাবককে তাড়া করিয়া হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর নিকট গমন করিলেন। কবুতর রূপী ফেরেশতা রাসূলে করীম (সাঃ) এর নিকট প্রাণ রক্ষার জন্য আশ্রয় চাহিল। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) তাহাকে তাহার নিজের জামার পকেটের মধ্যে লুকাইয়া রাখিলেন। ইহার পর বাজপাখী রূপী জীব্রাইল (আঃ) আসিয়া হযরত নবী করীম (সাঃ) কে বলিল, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি ক্ষুধার্ত; এই পাখীটাকে যদি আপনি আমাকে ফেরত না দেন, তাহা হইলে আমাকে ক্ষুধায় কষ্ট পাইতে হইবে।' নবী করীম (সাঃ) তখন বাজপাখীকে বলিলেন, 'তুমি আমার শরীরের যে কোনো স্থান হইতে গোশত যতখানি খুশী খাইয়া যাও।' তখন বাজপাখী নবী করীম (সাঃ)-এর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় তাহার ঠোঁট লাগাইল- কিন্তু দেখিতে পাইল, নবী করীম (সাঃ)-এর দেহ মোবারকের কোথাও গোশত নাই। কেবলই হাড়ের কাঠামোর উপর চামড়া আবৃত। বাজপাখীরূপী জীব্রাইল (আঃ) তখন বলিলেন, 'হে নবী (সাঃ)! আপনার দেহ মোবারকের কোথাও একটুও গোশত নাই, যাহা দিয়া আমার ক্ষুধা নিবৃত্ত করিতে পারি।' তখন নবী করীম (সাঃ) তাহাকে বলিলেন, 'আমার চক্ষু নিশ্চয়ই নরম। তুমি না হয় আমার চক্ষু খাইয়া তোমার ক্ষুধা নিবৃত্ত কর। যে কবুতর আমার কাছে আশ্রয় চাহিয়াছে তাহাকে আমি তোমার হাতে তুলিয়া দিয়া তাহার মৃত্যু ঘটাইতে পারিব না।' তখন জীব্রাইল (আঃ) আপন পরিচয় জানাইয়া ও ঐরূপ বেশ সাজিবার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করিয়া নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট ক্ষমা চাহিয়া বলিলেন, 'আমার সকল ভ্রান্তি অপসারিত হইয়াছে, আপনিই রাহমাতুল্লিল আ'লামীন, সমস্ত বিশ্ব নিখিলের জন্য করুণা ধারা।'

বিজ্ঞাপন

কথিত আছে, একদা হযরত নবী করীম (সাঃ) পথের মধ্যে একটি আহত বিড়াল ছানা দেখিতে পাইয়া তাহাকে নিজ গৃহে লইয়া আসিলেন, নিজ হাতে পরিচর্যা করিয়া নিজ বিছানায় শয়ন করাইলেন। পরদিন প্রত্যুষে নামাজ পড়িবার জন্য তিনি উঠিতে চাহিলেন। দেখিলেন, জামার অস্তিনের উপর বিড়াল ছানা তখন ঘুমাইয়া আছে। আহত বিড়াল ছানার ঘুম ভাংগিলে তাহার কষ্ট হইবে; তাই তিনি একটি ধারাল ক্ষুর দ্বারা জামার আস্তিন কাটিয়া ফেলিলেন। তবুও তিনি আহত বিড়াল ছানার ঘুম ভাংগিতে দিলেন না।

নবী করীম (সাঃ) কে সকল জীব জানোয়ার পশু পাখী চিনিত, তাহার আরও প্রমাণ রহিয়াছে। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) সহ যখন হিজরতের উদ্দেশ্যে গমন করিতেছিলেন, তখন তাহাদের অন্বেষণে আগমনকারী কোরায়েশ চরদের দৃষ্টি এড়াইবার জন্য এক পাহাড়ের গুহায় তাহারা আশ্রয় লইয়াছিলেন। ঐ গুহার একটি গর্তে এক সর্প অপেক্ষা করিতেছিল। গর্তের সর্প দেখিয়া হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) শঙ্কিত হইলেন। তিনি ভাবিলেন, এখন সর্প দেখিলে বিশ্রামরত নবী করীম (সাঃ)-এর বিশ্রামে বিঘ্ন ঘটিবে। সর্পকে মারিতে গেলে শব্দ শুনিয়া কোরায়েশদের চরেরা এই গুহার মধ্যে আসিয়া পড়িতে পারে। তখন নবী করীম (সাঃ) এর জীবন বিপদাপন্ন হইতে পারে। এই ভাবিয়া তিনি গর্তের উপর নিজ পা দিয়া চাপিয়া রাখিলেন। সর্প বাহির হইতে চেষ্টা করিয়া ব্যর্থ হইলে হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) এর পায়ে ছোবল দিল। বেদনায় হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) এর পা নীলবর্ণ ধারণ করিল। কিন্তু পাছে নবী করীম (সাঃ) এর ঘুম ভাংগিয়া যায়, তাই হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) কোনো শব্দ করিলেন না। এমন সময় হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর ঘুম ভাংগিয়া গেল। তিনি দেখিলেন, হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) ছাহেবের চোখে পানি। বেদনায় তাহার সমগ্র শরীর নীল বর্ণ ধারণ করিয়াছে। নবী করীম (সাঃ) কারণ জানিতে চাহিলে হযরত আবুবকর (রাঃ) ইশারায় সর্পের গর্ত দেখাইয়া দিলেন। হযরত নবী করীম (সাঃ) তদীয় মুখ মোবারক হইতে একটু থুতু নিয়া হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) এর ক্ষতস্থানে লাগাইয়া দিলেন, ইতিমধ্যে সর্প গর্ত হইতে বাহির হইয়া হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) কে জানাইল, 'ইয়া নবী

(সাঃ)! আপনি বিশ্ব নিখিলের নবী, সকল সৃষ্টির নবী। আপনাকে এক নজর দেখিয়া জন্মস্বার্থক করিবার জন্যই আমি গর্ত হইতে বাহির হইয়া আসিতে চাহিয়াছিলাম। কিন্তু হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) ছাহেব আমাকে বাধা দিবার কারণেই আমি তাহাকে দংশন করিয়াছি। অন্য কোনো কারণে নয়। আমি আপনাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছি।'

বিজ্ঞাপন

হযরত নবী করীম (সাঃ) এর এক উম্মত জেহাদে শহীদ হইয়াছিলেন। তাহার এক শিশু পুত্র ছিল। ঈদের আগের দিন সকল শিশু নতুন পোশাক পাইয়া আনন্দ করিতেছিল। কিন্তু এতিম শিশুর পোশাক কিনিয়া দিবার মত কেউ ছিল না। সে তাহার মায়ের কাছে গিয়া পোশাকের আরজি জানাইল। এতিম শিশুর মাতা বলিলেন, নবী করীম (সাঃ) এর মহব্বতে তোমার আব্বা শহীদ হইয়াছেন। তুমি তাহার নিকট যাও। এতিম শিশুটি নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট গমন করিল। কিন্তু তখন নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট এমন কোন অর্থ ছিল না-যাহার দ্বারা তিনি শিশুটির পোশাক কিনিয়া দিতে পারিবেন। এতিম শিশুর দুঃখে তাহার হৃদয়ে হাহাকার উঠিল। তাহারও ক্রন্দন আসিল, যেই ক্রন্দনে পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা অস্থির হইলেন। তিনি জীব্রাইল (আঃ) কে দিয়া বেহেশতের পোশাক ঐ শিশুর জন্য প্রেরণ করিলেন। শিশুটি আনন্দে আত্মহারা হইয়া মায়ের নিকট প্রত্যাবর্তন করিল।

মানুষ তথা জীবের দুঃখ এমন আপন করিয়া নিতে আর কে পারিয়াছে? বিশ্ব নিখিল তাহারই নূর দ্বারা সৃষ্টি। তাই মানব ও প্রাণীর দুঃখ তাহার হৃদয়ে এমন দহন করিবে এটাই স্বাভাবিক। আর আল্লাহ্পাকের পক্ষ হইতে তিনি সকলেরই আশ্রয়স্থল-তাই তাহার তুলনা নাই যেমন মহত্বে, তেমনি জ্ঞানে, শৌর্যে ও বীরত্বে। নবী করীম (সাঃ)-এর জীবনের প্রতি কর্মে এই শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন রহিয়াছে; তাহা আমরা বুঝি বা না বুঝি।

জ্ঞান ও গুণে নবীজীর (সাঃ) শ্রেষ্ঠত্বঃ

হযরত নবী করীমকে (সাঃ) আল্লাহপাক যে অজ্ঞাতপূর্ব জ্ঞান দান করিয়াছিলেন, তাহা যেদিন তিনি নবুয়তপ্রাপ্ত হন; সেদিনই আল্লাহ ঘোষণা করিয়াছিলেন। জীব্রাইল (আঃ) আল্লাহ্তায়ালার তরফ হইতে হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট প্রথম যে ওহী আনয়ন করিয়াছিলেন তাহাতে বলা হইল- 'পাঠ কর, তোমার প্রভুর নামে, যিনি সমস্ত বিশ্ব নিখিল সৃষ্টি করিয়াছেন। যিনি এক বিন্দু রক্ত হইতে মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন। পাঠ কর, তোমার সেই মহিমাময় প্রভুর নামে যিনি কলমের মাধ্যমে জ্ঞান দান করিয়াছেন। যিনি মানুষকে অজ্ঞাতপূর্ব জ্ঞান দান করিয়াছেন।

নির্জন হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) যখন এই বাণী আল্লাহতায়ালার নিকট হইতে ফেরেশতা জীব্রাইলের দ্বারা প্রাপ্ত হইলেন-তিনি অভিভূত হইলেন। স্বাভাবিক চৈতন্য ফিরিয়া আসিলে তিনি দেখিলেন যে, হযরত জীব্রাইল (আঃ) তখনও দাঁড়াইয়া আছেন। সেই প্রথম তিনি হযরত জীব্রাইলকে (আঃ) দেখিলেন। অভিভূত ও আবেগাপ্লুত হইয়া বিবি খোদেজার নিকট গমন করিলেন। গৃহে প্রত্যাবর্তন করিয়া তিনি বারংবার জীব্রাইলকে (আঃ) দেখিতে পাইতেছিলেন এবং তাহার কন্ঠ ধ্বনি শুনিতে পাইতেছিলেন, 'হে মুহাম্মদ! আপনি আল্লাহর রাসূল। আমি জীব্রাইল।'

নবী করীম (সাঃ)-এর নূরে বিশ্ব জগৎ সৃষ্টি। তাই সর্বজগতের জ্ঞান তাহারই নিকট প্রাপ্ত হওয়া সম্ভব। নবী করীম (সাঃ) নবী ঘোষিত হইবার পর প্রথমে যিনি তাহার উপর ঈমান আনিয়া বায়াত লইলেন, তিনি পূণ্যময়ী মাতা খোদেজা। পুরুষদিগের মধ্যে যিনি ঈমান আনিলেন তিনি হযরত আলী (রাঃ)। হযরত নবী করীম (সাঃ) যখন আল্লাহতায়ালার তৌহিদের বা একত্বের বাণী শোনাইলেন, তখন মক্কার পৌত্তলিক পূজারী কোরায়েশবাসী সহ্য করিতে পারিল না- কারণ ইহাতে তাহাদের প্রাধান্য ঘুচিয়া যাইবার সম্ভাবনা ছিল। কোরায়েশদের অত্যাচার ও ভুকুটি উপেক্ষা করিয়াও হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) আল্লাহতায়ালার সত্য দীন প্রচার অব্যাহত রাখিলেন। ইতিমধ্যে তিনি তায়েফ গমন করিয়া তৌহিদের বাণী প্রচার করিয়াছেন। সর্বত্র পৌত্তলিক কোরায়েশগণ তাহাকে বাঁধা দিয়াছে। কিন্তু তিনি অকুতোভয়ে সকল অত্যাচার-উৎপীড়ন সহ্য করিয়া তৌহিদের সত্য বাণী প্রচার করিয়াছেন। মক্কার কোরায়েশগণ যখন তাহার উপর খড়গহস্ত, তখন আল্লাহতায়ালা হযরত রাসূলে করীমকে (সাঃ) মেরাজের নেয়ামতে ভূষিত করিলেন। এই মেরাজে আল্লাহ্পাক তাহাকে এমন নিয়ামত দান করিলেন- এমন নৈকট্য দান করিলেন, যাহা তৎপূর্বে অন্য কোনো নবী (আঃ) বা ফেরেশতা লাভ করেন নাই। মেশকাত শরীফে পবিত্র মেরাজের যে বর্ণনা রহিয়াছে, তাহার অংশবিশেষ এখানে উদ্ধৃত করা হইল- 'রজনী দ্বিপ্রহর। ঘন অন্ধকার। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। নিস্তব্ধ নির্জন। হযরত নবী করীম (সাঃ) গৃহে ঘুমাইয়া আছেন। জাগিয়া দেখিলেন, ফেরেশতা জীব্রাইল (আঃ) শিয়রে দন্ডায়মান। জীব্রাইল (আঃ) প্রথমেই হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর হৃদয় পরীক্ষা করিলেন- নবী করীম (সাঃ) এর হৃদয় আবারও প্রসারিত করিয়া দিলেন। তাহার পর জোতির্ময় বাহন বোরাকে চড়িবার জন্য হযরত নবী করীম (সাঃ) কে ইশারা প্রদান করিলেন। হযরত (সাঃ) বোরাকে আরোহন করিলে তাহা বিদ্যুতের চেয়েও লক্ষ গুণ বেগে ছুটিয়া চলিল। প্রথমে তিনি মসজিদুল আকসায় অবতরণ করিলেন। সেখানে তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করিবার পর আবার বোরাকে করিলেন। একে একে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম আসমান অতিক্রম করিলেন। তিনি এই সকল আসমানে যথাক্রমে হযরত আদম (আঃ), হযরত ইউছুফ (আঃ), হযরত ইদ্রিস (আঃ), হযরত হারুন (আঃ), হযরত মুসা (আঃ) ও হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে দেখিতে পাইলেন। ইহার পর সিদরাতুল মোনতাহা পার হইয়া রায়তুল মামুর বা হকিকতে কাবায় গমন করিলেন। বায়তুল মামুরের দরজা তাহার জন্য খুলিয়া দেওয়া হইল। তিনি আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করিলেন। আল্লাহ্পাক তদীয় বর্ণনাতীত রূপ হযরত নবী করীম (সাঃ) কে দর্শন করাইলেন- উভয়ের মধ্যে কালাম বিনিময় হইল। এই মেরাজে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বেহেশত-দোযখ, আরশ-কুরছি, লওহ-কলম, সপ্তম আসমান সবকিছুই প্রত্যক্ষ করিলেন। আল্লাহতায়ালার সহিত প্রেমময় মিলনে মিলিত হইলেন- এমন নৈকট্য লাভ করিলেন যাহা আর কোনো নবী বা ফেরেশতা লাভ করেন নাই। আল্লাহতায়ালার জাতপাক মোবারকের সহিত মিলন লাভ করিয়া হযরত নবী করীম (সাঃ) আল্লাহ্তায়ালার পরিপূর্ণ জ্ঞানে জ্ঞানী ও গুণান্বিত হইলেন। মে'রাজ সম্পর্কে আল্লাহ্পাক কুরআন মজীদে নিম্নলিখিত আয়াত নাজিল করিয়াছেন-'ইহা তাহারই মহিমা, যিনি তাহার দাসকে এক রজনীতে পবিত্র মসজিদ হইতে দূরতম মসজিদ (কাবা হইতে বায়তুল মোকাদ্দাম) পর্যন্ত পরিভ্রমণ করাইয়াছিলেন।' আল্লাহ্পাক আবার বলিতেছেন-

"অস্তগামী তারকার শপথ, তোমদের বন্ধু মুহাম্মদ (সাঃ) ভুল করেন না, অথবা লক্ষ্যভ্রষ্ট হন না অথবা নিজের ইচ্ছাতেও তিনি কিছু বলেন না, ইহা (পাক কুরআন) তাহার নিকট প্রকাশিত পাক কালাম ছাড়া আর কিছুই নহে। অসীম ক্ষমতাশীল (প্রভু) তাহাকে জ্ঞান দান করিয়াছেন। [শক্তির অধিকারী আল্লাহ্পাক- কাজেই তিনি (রাসূলে করীম (সাঃ)) পূর্ণতা লাভ করিলেন এবং তিনি আকাশের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাইলেন, তারপর অতি নিকটবর্তী হইলেন- ফলে ব্যবধান রহিল তাহাদিগের (নবী-করীম (সাঃ) ও আল্লাহপাক) মাঝে দুই ধনুকের। তিনি (আল্লাহ) তাহার ভূত্যের (মুহাম্মদ (সাঃ) এর) নিকট যাহা প্রকাশ করিবার ছিল প্রকাশ করিলেন। যাহা তিনি দেখিয়াছিলেন তাহা তাহার হৃদয় ভুল করে নাই। তিনি যাহা দেখিয়াছিলেন তাহা সম্পর্কে তোমরা কিরূপে অবিশ্বাস করিবে? নিশ্চয়ই তিনি দ্বিতীয়বার দূরতম সিদরাতুল মোনতাহার নিকট দেখিয়াছেন, যাহার নিকট পূণ্যাত্মা দিগের বাসস্থান রহিয়াছে। যখন সেই সিদরাতুল মোনতাহা আল্লাহ্তায়ালার জ্যোতিতে পরিপূর্ণ হইল তখন তাহার (নবী করীম (সাঃ)) চক্ষু ভ্রান্ত বা লক্ষ্যভ্রষ্ট হইল না। নিশ্চয় তিনি তাহার প্রভুর শ্রেষ্ঠতম নিদর্শন দেখিলেন।” (সূরা নাজুমঃ ১-১৮)

রাসূলে করীম (সাঃ) মহা পবিত্র মেরাজের মাধ্যমে খোদাতত্ত্ব জ্ঞান লাভ করিয়া পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করিলেন- এই জ্ঞান যাহাতে তদীয় উম্মতগণ লাভ করিতে পারেন তদজন্যে তিনি আল্লাহতায়ালার নিকট ফরিয়াদ করিলেন। আল্লাহ্তায়ালা তদীয় রাসূল (সাঃ)-এর অনুরোধ অনুযায়ী উম্মতের জন্য নামাজে এমন হেকমত রাখিলেন যাহাতে মোমিন নামাজে আল্লাহ্তায়ালার জাত মোবারক দর্শন লাভ করিতে পারেন ও তদীয় জাত মোবারকের নূর দ্বারা জ্ঞান লাভ করিতে পারেন। আল্লাহ্তায়ালার নূর হিসাবে ও সমস্ত জগতের ধারক ও বাহক হিসেবে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) ছিলেন বিশ্ব জগতের জ্ঞানের প্রতীক। আবার মহাপবিত্র মেরাজের মাধ্যমে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) স্বয়ং আল্লাহ্পাকের জাতপাক মোবারক দর্শন করিয়া আল্লাহতায়ালার জ্ঞানে জ্ঞানী হইলেন। তাই হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) স্রষ্টা আল্লাহ্ ও সৃষ্টি বিশ্বনিখিলের জ্ঞানে [বা এলমে হুজুরী (আল্লাহ্তায়ালার জ্ঞান) ও এলমে হুছুলী বা সৃষ্টি জগতের জ্ঞান] জ্ঞানী। ইসলামের নবী (সাঃ) এই উভয় জ্ঞানে জ্ঞানী বলিয়া ইসলামই জ্ঞানের প্রতীক- ইসলাম তাই আলোকের পথ। জ্ঞানবিহীন পৌত্তলিকতা ও অন্যান্য সকল মত তাই অন্ধকার। আল্লাহতায়লা স্বয়ং কুরআন মজীদে ফরমাইয়াছেন- 'এবং তিনি (আল্লাহ্) নিজ নিজ কক্ষ পরিভ্রমণকারী সূর্য ও চন্দ্রকে তোমাদের অধীন করিয়া দিয়াছেন। অধীন করিয়া দিয়াছেন দিন ও রাত্রিকে'। (সূরা ইব্রাহিমঃ ৩৩) জ্ঞানের এই শ্রেষ্ঠত্বের কারণেই ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব। অন্য কোন নবী (আঃ)-এর নিকটে প্রেরিত গ্রন্থে আল্লাহ্ বলেন নাই, নভোমন্ডল ও চন্দ্র সূর্য এবং দিবারাত্রিকে তোমাদের অধীন করিয়া দেয়া হইয়াছে।

জ্ঞানের প্রতীক ইসলামের আগমনের পরেই তাই পৃথিবীতে জ্ঞানের নতুন বিপ্লব শুরু হইল। জ্ঞান চর্চায় মানুষ নতুন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করিল। ইসলাম তাই জ্ঞানের প্রতীক। আর পৌত্তলিকতা অন্ধকারের প্রতীক। পৌত্তলিকতার অন্ধকারের বিরুদ্ধে রাসূলে করীম (সাঃ) তৌহিদের যে বাণী প্রচার করিলেন তাহা ছিল সত্যের আলোর বাণী। তাই আলো ও অন্ধকার, সত্য ও মিথ্যার যে দ্বন্দ্ব; সেই দ্বন্দু অনিবার্য হইয়া উঠিল। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) ও তাহার উপরে ঈমান আনয়নকারীদের উপর অত্যাচার শুরু হইল। যতই বেশী লোক হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর অনুসারী হইতে লাগিল- মুসলমানদের উপর অত্যাচার ততই বাড়িতে লাগিল। মুসলমানদের জান-মালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করিয়া তিনি হিজরত করিতে মনস্থ করিলেন। আল্লাহতায়ালার নিকট হইতে পূর্বাহ্নে তিনি এরূপ ইশারাও পাইয়াছিলেন। আল্লাহতায়ালার ইঙ্গিতে মদীনা হইতে আগত হজ্ব যাত্রীদের সহিত রাসূলে করীম (সাঃ) -এর যোগাযোগ হইল। তাহারা ইসলাম গ্রহণ করিলেন। নবী করীম (সাঃ) ও মুসলমানগণ মদীনা নগরীতে আমন্ত্রিত হইলেন। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত মক্কা নগরীতে তদীয় উম্মত অসহায় অবস্থান করিতেছিলেন ততদিন পর্যন্ত তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য হিজরতে গমন করেন নাই। সকল মুসলমানকে মদীনায় প্রেরণ করিয়া তিনি নিজে আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) কে সঙ্গে করিয়া হিজরত করিলেন। সর্বশেষে আসিলেন হযরত আলী (রাঃ) ছাহেব। মদীনা নগরীতে আসিয়া হযরত নবী করীম (সাঃ) পূর্ণ উদ্যমে ইসলাম প্রচার শুরু করিলেন। কাফের বা পৌত্তলিক কোরায়েশগণের নিকট হইতে বাধাও আসিল অনেক। একে একে বদর, ওহুদ, খন্দর ও খায়বারের যুদ্ধ দ্বারা হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) কোরায়েশগণকে পরাস্ত করিলেন। ইসলামের কেন্দ্রস্থল মদীনা শত্রুমুক্ত হইল। অবশেষে মক্কায় অভিযান। অষ্টম হিজরীর দশই রমজান হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) দশ হাজার ন্যায়নিষ্ঠ সহচরসহ মক্কা অভিযানের উদ্দেশ্যে মদীনা ত্যাগ করিলেন। মক্কার উপকন্ঠে এক পার্বত্য স্থানে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) শিবির সন্নিবেশ করিলেন। সন্ধ্যার পর শিবিরে খাদ্য প্রস্তুতের জন্য চুল্লী জ্বালানো হইল। শিবিরে শিবিরে আলো জ্বালানো হইল। পর্বত উপত্যকা এক অপূর্বদৃশ্য লাভ করিল। অনতিদূর মক্কা হইতে কাফেরগণ আলোময় অসংখ্য শিবির দেখিয়া ভীত হইয়া পড়িল। তাহারা হতভম্ভ হইয়া গেল। রাত্রির অন্ধকারে কাফেরদের ছর্দার আবু ছুফিয়ান নিজে দুইজন সহচরসহ সংবাদ সংগ্রহের জন্য শিবিরের নিকটে গেল। তাহারা শিবির রক্ষীদের নিকট বন্দী হইল। বন্দী তিনজনকে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর নিকট নেওয়া হইল। চির শত্রু আবু ছুফিয়ান, যাহার আত্মীয়া হেন্দা হযরত আমীর হামযা (রাঃ) এর কলিজা চিবাইয়া খাইয়াছিল, তাহাকে পাইয়া হযরত (সাঃ) রাগান্বিত হইলেন না। মধুর সুরে বলিলেন, 'আবু ছুফিয়ান! এখনও কি তোমাদের ভুল ভাঙ্গিল না? এখনও কি তোমরা আমাকে আল্লাহর রাসূল বলিয়া স্বীকার করিবে না?' আবু ছুফিয়ান বলিল, তাহারও কিছুদিন যাবত সত্য ধর্ম ইসলাম কবুল করিতে ইচ্ছা হইয়াছে। রাসূলে করীম (সাঃ) তখন বলিলেন, বল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ'। আবু ছুফিয়ান ভাঙ্গা ভাঙ্গা আড়ষ্ট গলায় তাহাই উচ্চারণ করিল। হযরত (সাঃ) আবু ছুফিয়ানকে আলিংগণ করিলেন। রাসূলে করীমকে (সাঃ) আবু ছুফিয়ান জিজ্ঞাসা করিল, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কি আজ কোরায়েশ গোত্রকে নিশ্চিহ্ন করিয়া দিবেন? আজ যদি আপনি অনুগ্রহ না দেখান তাহা হইলে আপনার স্বজাতি, স্বগোত্রের লোকেরা নিশ্চিহ্ন হইবে।' এই সময়ে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর চাচা হযরত আব্বাসও রাসূলে করীম (সাঃ)-এর সহিত দেখা করিতে আসিয়াছিলেন। তিনিও হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) নিকট বায়াত গ্রহণ করিলেন।

প্রত্যুষে বীর নবী (সঃ) মক্কা নগরে প্রবেশ করিলেন। বিভিন্ন দলপতিকে বিভিন্ন দিক দিয়া মক্কা প্রবেশের আদেশ দিলেন। কিন্তু আক্রমণ করিতে নিষেধ করিলেন। নিশান উড়াইয়া কাতারে কাতারে সেনাদল বীরপদভরে মক্কা নগরীতে প্রবেশ করিল। সর্বশেষে এক ক্রীতদাসের সহিত হযরত একই উটের পিঠে সওয়ার হইলেন। ক্রীতদাসের সহিত একই আসনে সম্রাট। তাহার মধ্যে না আছে কোনো অহংকার, না বিজয়ের গর্ব, না শত্রুর উপর প্রতিহিংসার কোনো ইচ্ছা।

মক্কা বিজয়ের পর নবী করীম (সাঃ)-এর উল্লেখযোগ্য অভিযান হইল তাবুক অভিযান। গ্রীষ্মের প্রখর রৌদ্র ও রমজানের কৃচ্ছতা সত্ত্বেও হযরত নবী করীম (সাঃ) এর সঙ্গে এই অভিযানে ৪০,০০০ মুসলমান অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। তৎকালীন খৃষ্টান জগতের প্রধান শক্তি রোমান সম্রাট মদীনা আক্রমণের ইচ্ছায় সিরিয়ার খৃষ্টানদের অনুরোধে সসৈন্যে অগ্রসর হইতেছে; এই সংবাদে নবী করীম (সাঃ) স্বয়ং এই অভিযান পরিচালনা করেন। মুসলমানদের এই বিপুল বাহিনী দেখিয়া খ্রষ্টান নেতাদের জ্ঞান হইল। তাহারা এতদিন মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রকে ক্ষুদ্র শক্তি বিবেচনা করিয়াছিল। নবী করীম (সাঃ) যে এত বিপুল শক্তির অধিকারী ইহা দেখিয়া রোমান সম্রাট যুদ্ধ না করিয়াই প্রত্যাবর্তন করিল। রোমান সম্রাটের প্রত্যাবর্তনের পর সিরিয়ার ইহুদী ও খৃষ্টান নেতারা ভীতসন্ত্রস্ত হইল। তাহারা আসিয়া নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিল। নবী করীম (সাঃ) ইহাতেই সন্তুষ্ট হইলেন। এইরূপে দেখিতে দেখিতে হিজরতের নবম বৎসর কাটিয়া গেল। তবে ইহার প্রতিটি বৎসরই ছিল ঘটনাবহুল, যাহা হইতে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা এখানে উল্লেখ করা হইল। অবশেষে দশম হিজরী উপস্থিত হইল। এই হিজরীতেই হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর বিদায় হজ্ব। বিদায় হজ্বের পূর্বেই হযরত রাসূলে করীম (সাঃ)-এর পুত্র হযরত ইব্রাহিম মৃত্যুমুখে পতিত হন। এই বৎসর রাসূলে করীম (সাঃ) দিকে দিকে হেদায়েতের দাওয়াত পাঠাইলেন। অবশেষে হিজরীর শেষ প্রায়। জিলকদ মাস উপস্থিত হইল। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এই মাসের ২৫ তারিখ উম্মতগণের একাংশ লইয়া হজ্ব যাত্রা করিলেন। মক্কা নগরীতে প্রবেশ করিয়া কা'বার মিনার দেখিতে পাইয়া আল্লাহতায়ালার দরবারে মোনাজাত করিলেন, 'ইয়া আল্লাহ্, এই গৃহকে চিরকল্যাণ ও চিরমহিমায় মন্ডিত কর। যাহারাই এই কাবা শরীফে হজ্ব করিতে আসিবে তাহাদের সুখ-শান্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধি কর।' হযরত (সাঃ) বিশাল জনতার সম্মুখে ভাষণ দান করিলেন। সেই ভাষণ আজও বিদায় হজ্বের ভাষণ নামে কালজয়ী হইয়াছে। এই ভাষণে রাসূলে করীম (সাঃ) ঘোষণা করিলেন, মানুষে মানুষে সাম্যের অধিকার। ঘোষণা করিলেন তওহীদের বাণী। বলিলেন, 'সাবধান! পৌত্তলিকতার পাপ যেন কোনো দিন তোমাদের স্পর্শ না করে। বলিলেন, চুরি করিও না, ব্যভিচার করিও না, মিথ্যা বলিও না, সর্ব প্রকার মলিনতা হইতে নিজেকে পবিত্র রাখিয়া জীবন যাপন করিতে। সত্যাশ্রয়ী হইতে। বলিলেন, 'হে উম্মতগণ! তোমাদের নিকট যাহা গচ্ছিত রাখিয়া যাইতেছি তাহা যদি দৃঢ়ভাবে ধারণ কর, তবে কিছুতেই তোমাদের পতন হইবে না-সেই গচ্ছিত সম্পদ হইল কুরআন মজীদ ও আল্লাহ্তায়ালার রাসূলের সুন্নত। আবেগে ও আল্লাহতায়ালার প্রতি প্রেমে রাসূলে করীম (সাঃ)-এর মুখমন্ডল জ্যোতির্ময় হইল। তদীয় কন্ঠস্বর ক্রমেই করুণ ও ভাবগম্ভীর হইল- তিনি আবেগে বলিতে লাগিলেন- হে আল্লাহ! হে আমার প্রভু! আমি কি তোমার বাণী পৌঁছাইয়া দিতে পারিলাম? আমি কি আমার কর্তব্য সম্পাদন করিতে পারিলাম? লাখ লাখ মুসলমান, যাহারা সেদিন আরাফাতের ময়দানে হজ্ব উপলক্ষে রাসূলে করীম (সাঃ)-এর বাণী শুনিতেছিলেন, বলিয়া উঠিলেন, 'নিশ্চয়, নিশ্চয়।' তখন নবী করীম (সাঃ) বলিলেন, প্রভু হে, শ্রবণ কর। সাক্ষী থাক। ইহারা বলিতেছে, আমার কর্তব্য আমি সম্পাদন করিয়াছি। এই সময়ে পাক কুরআনের আয়াত নাযিল হইল 'হে মুহাম্মদ! আজ আমি তোমার দ্বীনকে পূর্ণ করিলাম এবং তোমার উপর আমার নেয়ামতকে পূর্ণ করিলাম, ইসলামকেই তোমাদের ধর্ম হিসাবে মনোনীত করিলাম।' ইহার পর রাসূলে করীম (সাঃ) কয়েক মুহূর্ত নীরব রহিলেন। তাহার পর বলিলেন 'বিদায় বন্ধুগণ, বিদায় হে বন্ধুগণ।' বিদায় হজ্বের দিনে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ)-এর নিকট যে আয়াত নাযিল হইয়াছিল সেই আয়াত হইতে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বুঝিয়াছিলেন যে তদীয় কর্তব্য সমাধা হইয়াছে। আল্লাহ্পাক পূর্বেই একটি ওহীর মাধ্যমে জানাইয়াছিলেন- 'যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসিবে এবং যখন তুমি দলে দলে লোকদিগকে আল্লাহ্র ধর্ম গ্রহণ করিতে দেখিবে, তখন আল্লাহতায়ালার গুণগান করিও এবং তাহার নিকট ক্ষমা চাহিও, কারণ তিনি তওবা কবুলকারী। (সূরা নছর)।

বিদায় হজ্বের প্রাক্কালে অসংখ্য মানুষকে দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করিতে দেখিয়া তিনি বুঝিয়াছিলেন আল্লাহতায়ালার সাহায্য ও বিজয় আসিয়াছে, কাজেই তাহার বিদায়ও ঘনাইয়া আসিয়াছে। বিদায় হজ্ব হইতে ফিরিয়া তিনি ক্রমেই দুর্বল হইয়া পড়েন। সফর মাসে তিনি খুবই অসুস্থ হইয়া পড়িলেন।' তাহার উঠিতে বসিতে কষ্ট হইতে লাগিল। তবুও তিনি নামাজে গমন করিতেন। একদিন জুমার নামাজে গমন করিয়া খোৎবার সময়ে কিছুটা খাপছাড়া ভাবে বলিলেন, 'আল্লাহতায়ালা এক বান্দাকে দুনিয়ার সমস্ত সুখ সম্পদ দান করিতে চাহিয়াছিলেন। কিন্তু তাহা সে ত্যাগ করিয়া আল্লাহকেই গ্রহণ করিল।' কেহই এই কথার অর্থ বুঝিলেন না কিন্তু জ্ঞানবৃদ্ধ আবুবকর (রাঃ) এই কথার তাৎপর্য অনুধাবন করিয়া ক্রন্দন করিতে লাগিলেন। সকলেই হযরত আবুবকরের উপর অসন্তুষ্ট হইলেন। শুধু রাসূলে করীম (সাঃ) বলিলেন, 'নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মধ্য হইতে প্রেম ও ভক্তিতে আবুবকরকে শ্রেষ্ঠ বলিয়া জানি।'

অবশেষে রবিউল আউয়াল মাসের ১১ তারিখ উপস্থিত হইল। এশার নামাজের আজান ধ্বনিত হইল। হযরত অজুর জন্য পানি চাহিলেন। তিনি উঠিতে চাহিলেন কিন্তু পারিলেন না। নামাজ পড়াইবার জন্য হযরত আবুবকর (রাঃ) কে আদেশ দিলেন। হযরত (সাঃ) কে না দেখিয়া সকলে উৎকণ্ঠও হইল। অবশেষে দু'জন উম্মতের স্কন্ধে ভর করিয়া তিনি মসজিদে আসিয়া হযরত আবুবকর (রাঃ) ছাহেবের পাশে বসিয়া নামাজ আদায় করিলেন। দাঁড়াইতে পারিলেন না। সারা রাত্রি তিনি কষ্ট পাইলেন। সকালের দিকে রাসূলে করীম (সাঃ) একটু সুস্থ বোধ করিলেন। তিনি সকলের সহিতই হাসিমুখে কথা বলিলেন। অপরাহ্নে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর অবস্থার হঠাৎ পরিবর্তন হইল। পীড়ার গতি মন্দের দিকে চলিল। সংবাদ শুনিয়া সকল ছাহাবী ছুটিয়া আসিলেন। হযরত রাসূরে করীম (সাঃ) ভীষণ যন্ত্রণা পাইতেছিলেন। এই সময়ে হযরত (সাঃ) একখানি কাগজ চাহিলেন। হযরত উমর (রাঃ) বলিলেন, 'লিখিত উপদেশের কি প্রয়োজন। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি মুখেই বলুন।' ক্রমে ক্রমে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর দেহ নির্জীব হইয়া আসিল। তিনি একদৃষ্টে উর্ধ্বাকাশের পানে চাহিয়া রহিলেন, তারপরে মৃদুস্বরে বলিলেন, 'হে আমার পরম বন্ধু! তোমারই কাছে।' এই কথা বলিয়া তিনি চুপ হইয়া রহিলেন, আর তদীয় মুখ হইতে কোনো শব্দ বাহির হইল না। পত্মি আয়েশা, দুহিতা ফাতেমা, প্রিয় উম্মত হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ), হযরত উমর (রাঃ), হযরত উসমান (রঃ), হযরত আলী (রাঃ) সহ সহস্র মুসলমান কাঁদিয়া উঠিলেন- আকাশ, বাতাস কাঁদিয়া উঠিল। কেহই বিশ্বাস করিতে পারিলেন না যে নবী করীম (সাঃ) এর ওফাত হইয়াছে।

হযরত উমর ঘোষণা করিলেন, যে কেহ বলিবে যে, নবী করীম (সাঃ) এর ওফাত হইয়াছে, তাহাকে তিনি হত্যা করিবেন। হযরত আবুবকর সিদ্দিকী (রাঃ) তখন হযরত উমরকে বলিলেন, আল্লাহ্পাক কি কুরআন মজীদে বলেন নাই, নিশ্চয়ই মুহাম্মদ একজন প্রেরিত নবী ভিন্ন আর কিছুই নহেন? নিশ্চয়ই তাহার পূর্ববর্তীগণ ইন্তেকাল করিয়াছেন। এক্ষেত্রে তোমরা কি করিবে? তিনি যদি মারাই যান, তোমরা ফিরিয়া যাইবে? হযরত আবুবকর (রাঃ) বলিলেন, তোমরা যদি মুহাম্মদের পূজা করিয়া থাক তবে, জান তিনি ইন্তেকাল করিয়াছেন। আর যদি আল্লাহতে বিশ্বাসী হও তবে জান তিনি অমর। হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ)-এর জবানে কুরআন মজীদের উক্ত আয়াত শ্রবণে উমর সম্বিৎ ফিরিয়া পাইলেন। ইহার পর উমরের প্রস্তাবনায় হযরত আবুবকর (রাঃ) কে নেতা নির্বাচিত করা হইল। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) পূর্বেই বলিয়াছিলেন, আমার কালবে যে জ্ঞান আল্লাহ আমাকে দান করিয়াছিলেন তাহা আমি আবুবকরের কালবে রক্ষিত করিয়াছি। এক্ষেত্রেও জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের কারণেই হযরত আবুবকর সিদ্দিক নবী করীম (সাঃ) এর স্থলাভিষিক্ত হইলেন। অবশেষে প্রশ্ন উঠিল, নবী করীম (সাঃ) এর দাফন কোথায় হইবে? হযরত আবু বকর (রাঃ) এ প্রশ্নে মতভেদের সমস্যার সমাধান দিলেন। তিনি বলিলেন, নবী করীম (সাঃ) এর জীবিতকালে বলিতে শুনিয়াছি, পয়গম্বরগণ যেখানে ইন্তেকাল করেন, তাহাদিগকে সেখানেই সমাহিত করা হয়। তাই মা আয়েশার গৃহে, যেখানে তিনি রোগশয্যায় শায়িত ছিলেন ও যেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, সেখানেই তাঁহাকে দাফন করা হয়।

হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) মানবজাতির জন্য লইয়া আসিয়াছিলেন অবারিত করুণাধারা- তাহার মধ্যে মানবতার শ্রেষ্ঠত্ব, জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব ও আল্লাহতায়ালার নেয়ামতের পূর্ণতা ছিল- তাহা উপরে তুলিয়া ধরিবার চেষ্টা করা হইয়াছে। তিনি নবুয়ত প্রাপ্তির পর যেমন ইসলামের সত্য ও আল্লাহ্তায়ালার নৈকট্যের আলোতে জগদ্বাসীকে আলোকিত করিতে চাহিয়াছিলেন, তেমনি দাসপ্রথার উচ্ছেদ করিয়া মানুষে মানুষে সমান অধিকারের বাণী প্রচার করিয়াছিলেন।

হিলফুল ফজল ও জাকের পার্টিঃ

নবুয়ত প্রাপ্তির আগে হইতেই রাসূলে পাক (সাঃ) মানুষকে কল্যাণের পথে আহবান করিয়াছেন। আরববাসীগণ তখন গোত্রে গোত্রে বিভক্ত ছিল। গোত্রে গোত্রে যুদ্ধে ভয়ানক পরিণতি নামিয়া আসিত। গোত্রীয় যুদ্ধ কয়েক বৎসর ধরিয়া চলিত। এমনকি শক্তিশালী গোত্র দুর্বল গোত্রকে অত্যাচার করিয়া নিশ্চিহ্ন করিয়া দিত। এই অবস্থা হইতে তৎকালীন আরবের মানুষদেরকে বাঁচাইবার জন্য, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি 'হিলফুল ফজল' নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়িয়া তোলেন। মক্কানগরীর সৎ ও সত্যচারী যুবকদের লইয়া তিনি এই সংগঠন গড়িয়া তোলেন। এই সংগঠনের সদস্যগণ আল্লাহতায়ালার নামে শপথ গ্রহণ করেন-

  • আমরা নিঃস্ব, অসহায় ও দুর্বলের সেবা করিব।

  • অত্যাচারীকে প্রাণপণে বাঁধা দিব।

  • অত্যাচারিতকে সাহায্য করিব।

  • দেশের শান্তি ও শৃংখলাকে রক্ষা করিব।

  • বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপনের চেষ্টা করিব।

  • সবলের অত্যাচার হইতে দুর্বলকে রক্ষা করা মানবতার ধর্ম। মানবতা ও জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বই ইসলামের আদর্শ ও বৈশিষ্ট্য। আল্লাহতায়ালার নৈকট্যের জ্ঞান হইতে দূরে সরিয়া মানবতা যে অন্ধকারে নিপতিত হইয়াছে ও শক্তির দ্বারা পৃথিবীকে শাসন করিতে উদ্যত হইয়া আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে মানবতাকে ফিরাইয়া লইবার প্রয়াস পাইয়াছে, আমার দয়াল পীর কেবলাজান হুজুর হযরত মাওলানা শাহসূফী খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ) ইহা বুঝিতে পারিয়াছিলেন। এই অবস্থা হইতে তাই মানবতাকে মুক্তিদান করিবার জন্য আল্লাহতায়ালার নৈকট্য জ্ঞানে মানুষকে জ্ঞানী করিয়া হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) যেমন জাগতিক জ্ঞানের সহিত আল্লাহতায়ালার জ্ঞান ও গুণকে সমন্বিত করিতে চাহিয়াছিলেন, তেমনী সত্যজ্ঞান ও মানবতার আদর্শে অনুপ্রাণিত করিবার জন্য আমার দয়ালপীর কেবলাজান হুজুর হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেব জাকের পার্টি গঠনের ইংগিত দিয়া যান। এই দলের সদস্যদের উদ্দেশ্য হইল আল্লাহতায়ালার নৈকট্য হাসিল করিয়া তাহার গুণে গুণান্বিত হওয়া, আল্লাহতায়ালার জ্ঞানে জ্ঞানী হওয়া ও মানবতার শ্রেষ্ঠতম গুণ যাহা নবী করীম (সাঃ) কে মানবশ্রেষ্ঠ করিয়াছিল সেই আদর্শ চরিত্র গঠনে ও আল্লাহতায়ালার সন্দর্শনে ও নৈকট্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করা।

    বর্তমান কালের মানুষ যখন আল্লাহতায়ালা নৈকট্য হইতে দূরে সরিয়া বিজ্ঞান চর্চাকে শক্তি ও প্রভাব বিস্তারের অস্ত্রতে পরিণত করিয়া মানবতাকে নিগৃহীত করিতেছে, সত্য ও সুন্দর হইতে, মানবতার আদর্শ হইতে মানুষ দূরে সরিয়া যাইতেছে, এই অবস্থায় আমার দয়াল পীর কেবলাজানের ইশারা অনুযায়ী হযরত রাসূলে করীম (সাঃ)-এর মহাপবিত্র জন্মদিনে, ১৪১০ হিজরীর ১২-ই রবিউল আউয়াল মোতাবেক ১৪-ই অক্টোবর ১৯৮৯ সালে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর আদর্শ অনুযায়ী আল্লাহতায়ালার নৈকট্য হাসিলের মাধ্যমে সত্যজ্ঞান ও মানবতার গুণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করিবার জন্য আমার মুরীদানবর্গকে লইয়া জাকের পার্টি গঠন করি। এই জাকের পার্টি যেদিন গঠিত হয় সেদিন ছিল শনিবার অর্থাৎ যেদিনে আমার দয়াল পীর কেবলাজান হুজুর এই ধরাধামে আবির্ভূত হন। আর যে সময়ে এই দল গঠিত হয় সেই সময় ছিল রহমতের সময় বা রাত্রির শেষ অংশে যখন মহানবী হযরত আবির্ভূত হন। আমার দয়াল পীর কেবলাজান হুজুর ছিলেন নবী (সাঃ) মুহাম্মদ (সাঃ) ও আমার দয়াল পীর কেবলাজান-উভয়েই ধরাধামে এর গুণে পরিপূর্ণ গুণী। তদীয় ইচ্ছা অনুযায়ী নবী করীম (সাঃ) এর আদর্শে গঠিত এই দলের জন্মলগ্ন, জন্মতারিখ তাই নবী করীম (সাঃ) ও দয়ালপীর হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেবের জন্মতারিখ ও জন্মলগ্নে গঠিত হইয়াছে। জাকের পার্টি হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর সত্যাদর্শ ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠা করিতে ও সুসংহত করিতে বদ্ধপরিকর।

    ইসলাম শান্তি ও মানব কল্যাণের ধর্ম। আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্য অর্জনের মাধ্যমে, মহান স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মানুষ এই শান্তির সুশীতল ধারার সন্ধান পায়। স্রষ্টার নৈকট্য হাসিলের জন্য মানুষকে হতে হয় সকল মানবিক গুণের অধিকারী ও পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী। নিজ জীবনে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য তথা সকল পাপ ও রিপুর পথ থেকে নিজেকে দূরে রাখিতে হয়, আবার মানব ও সকল সৃষ্ট জীবনের সেবা করিতে হয়-যে পথ হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) সারা জীবন অনুসরণ করিয়াছেন। মক্কা বিজয়ের দিন ক্রীতদাসের সহিত একই উটের পিঠে আরোহণ করিয়া হযরত নবী করীম (সাঃ) দাসপ্রথা উচ্ছেদ করিয়াছেন, মানুষে মানুষে সাম্য ঘোষণা করিয়াছেন। মক্কা বিজয়ের দিনে ক্ষমতা ও বিজয় হযরত নবী (সাঃ) এর মধ্যে দম্ভও প্রতিশোধ পরায়ণতা সৃষ্টি করে নাই, সৃষ্টি করিয়াছে বিনয় ও ক্ষমাপরায়ণতা। আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্য, গুণ ও জ্ঞানের জন্যই হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর মধ্যে এই বিনয় ও সত্যপরায়ণতা সৃষ্ট হইয়াছিল। আল্লাহতায়ালার নৈকট্য ব্যতিরেকে বিজয় ও ক্ষমতা মানুষকে যে কতখানি নিপীড়নকারী ও প্রতিশোধপরায়ন, করিতে পারে তাহার উদাহরণ ইতিহাসে এত অধিক যে তাহার জন্য নির্দিষ্ট উদাহরণের প্রয়োজন নাই।

    বর্তমান জামানার মানুষের শক্তি বাড়িয়াছে কিন্তু আল্লাহতায়ালার নৈকট্য আকাংক্ষা বাড়ে নাই। তাই মানুষে মানুষে সম্প্রীতি নাই। উৎপীড়ন নিপীড়ন বাড়িয়াছে- যাহা বলিতে গেলে এক নব্য অন্ধকার যুগ। বর্তমানের নব্য অন্ধকার যুগ হইতে যদি বাঁচিতে চাও, তবে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর আদর্শে ও আমার দয়ালপীর কেবলাজান হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেবের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত জাকের পার্টির পতাকাতলে সমবেত করীম (সাঃ) এর সম্পূর্ণ শিক্ষা অনুযায়ী নিজেদের গড়িয়া হইয়া রাসূলে তুলিতে আগাইয়া আস।

    হযরত দয়ালপীর কেবলাজান হুজুর বলিয়া গিয়াছেন, বর্তমান জামানায় হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর সম্পূর্ণ ও সত্য আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য ইমাম মেহেদী (আঃ) আল্লাহতায়ালার ইঙ্গিতে আবির্ভূত হইবেন। আল্লাহতায়ালার তরফ হইতে যে ইঙ্গিত জামানার ওলী-আল্লাহগণ লাভকরিতেছেন, তাহাতে বুঝা যায়, হযরত ইমাম মেহেদী (আঃ)-এর আবির্ভাবের সময় আসন্ন। আর হযরত ইমাম মেহেদী (আঃ)-এর আবির্ভাব হইবে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের সত্য তরিকায়। তাই তোমরা যদি আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করিয়া আদর্শ মানুষ হইতে চাও, হযরত ইমাম মেহেদী (আঃ)-এর আশ্রয় পাইয়া বর্তমান জামানার অত্যাসন্ন কঠিন মুসিবত হইতে বাঁচিতে চাও, তবে দয়াল পীর কেবলাজানের আদর্শ আঁকড়াইয়া ধর। হযরত পীর কেবলাজানের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত জাকের পার্টির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হও।

    জেবি/এসডি

    জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

    Developed by: AB Infotech LTD