Logo

খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (রঃ)-এর ১৪১তম আবির্ভাব দিবস আজ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯
খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (রঃ)-এর ১৪১তম আবির্ভাব দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক ও সুফি সাধক হযরত শাহ সুফি খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরীর (রহ.) ১৪১তম আবির্ভাব দিবস আজ। শুক্রবার (২১ কার্তিক) সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর দরবার শরীফে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ উপলক্ষে দরবার শরীফে বিশেষ ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ভক্ত, অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এসব আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন।

শুক্রবার সকালে বাদ ফজর মাজার জিয়ারত, দরুদ পাঠ ও জিকির-আজগরের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এ ছাড়া বাদ জুমা খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দরবার শরীফে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

এনায়েতপুর পাক দরবার শরীফের পেশ ইমাম আলহাজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল জানান, দিবসটি উপলক্ষে খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরীর (রহ.) খেলাফতপ্রাপ্ত ময়মনসিংহের খাজা মোহাম্মদ ছাইফুদ্দীন শম্ভুগঞ্জী পীর, ফরিদপুরের সদরপুরের হযরত মাওলানা হাসমত উল্লাহ আটরশি পীর, মাওলানা সুলতান আহম্মেদ চন্দ্রপাড়া পীর, টাঙ্গাইলের মাওলানা মকিম উদ্দিন প্যারাডাইজ পাড়া, কুমিল্লার ইসলামাবাদ ও মাতুয়াইল, জামালপুরের সাধুরপাড়া মোসলেম নগর, যশোরের ঘুনী দরবার শরীফ এবং ভারতের আসামের গণি খলিফার দরবার শরীফসহ বাংলা ও আসামের প্রায় ১ হাজার ২০০ পীর-আউলিয়ার মাজার ও দরবারে দিবসটি পালন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অনুসারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (রহ.) তাঁর জীবদ্দশায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর দরবার শরীফ থেকে ভারতের আসামসহ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামের শান্তির বাণী প্রচার করেছেন। তাঁর আধ্যাত্মিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও সুফিবাদের আদর্শ অনুসরণ করে এখনো দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খানকাহ ও দরবারে তাঁর অনুসারীরা ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরীর (রহ.) পূর্বপুরুষেরা ইয়েমেনের ফাতেমি বংশধর ছিলেন। তাঁর পঞ্চম পূর্বপুরুষ হযরত শাহ দায়েম (রহ.) ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ইয়েমেন থেকে ভারতবর্ষে আসেন। তাঁর বাবা শাহ আব্দুল করিম (রহ.) এবং মা তাহমিনা বেগম (রহ.)। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

১৮৮৬ সালে বাংলা ১২৯৩ বঙ্গাব্দের ২১ কার্তিক সুবেহ সাদেকের সময় তাঁর জন্ম হয়। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর পরিবারের আর্থিক সংকট দেখা দেয়। মা তাহমিনা বেগম মাদ্রাসায় নারীদের পড়ানোর পাশাপাশি সংসার চালাতে ছেলেকে দিয়ে টুপি তৈরি করাতেন। পরে খাজা ইউনুস আলী নিজেই বিভিন্ন হাটে গিয়ে সেসব টুপি বিক্রি করতেন। এভাবেই জীবিকার পাশাপাশি তাঁর লেখাপড়া চলতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রখ্যাত পীর খাজা ওয়াজেদ আলী (রহ.)-এর সান্নিধ্যে আসেন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর কাছে যাওয়ার পর আধ্যাত্মিক শিক্ষার পথে যাত্রা শুরু হয়। পরে কলকাতার হুগলীর দারুল উলুম মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করেন।

এরপর নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে খানকা প্রতিষ্ঠা করে ইসলাম ও সুফিবাদের প্রচার শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তাঁর ভক্তদের দাবি, ভারত ও বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর ২৪ লাখ মুরিদ এবং খেলাফতপ্রাপ্ত ৫৬ জন খলিফা ছিলেন। তাঁদের মাধ্যমে তাঁর আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও আদর্শ ছড়িয়ে পড়ে।

ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও অসহায় মানুষের সেবায়ও অবদান রাখেন তিনি। এ কারণে অনুসারীদের কাছে তিনি ‘সুলতানুল আউলিয়া’ ও ‘আখেরী মুজাদ্দেদ’ হিসেবে পরিচিতি পান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

১৯১৬ সালে আত্মীয়স্বজন ও অনুসারীদের সহযোগিতায় এনায়েতপুর দরবার শরীফে বার্ষিক ওরশের আয়োজন শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আয়োজন বড় সমাবেশে রূপ নেয়। তাঁর অনুসারীদের দাবি, তাঁর সান্নিধ্যে এসে বাংলা ও আসামের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ২০০ পীর-আউলিয়া খেলাফত লাভ করেন। তাঁদের মধ্যে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ, ফরিদপুরের আটরশি, চন্দ্রপাড়া, টাঙ্গাইলের প্যারাডাইজ পাড়া, জামালপুরের মোসলেম নগর ও ভারতের আসামের বিভিন্ন দরবারের প্রতিনিধিরা উল্লেখযোগ্য।

১৯৫২ সালের ২ মার্চ, বাংলা ১৩৫৮ বঙ্গাব্দের ১৮ ফাল্গুন তিনি ইন্তেকাল করেন। বর্তমানে এনায়েতপুর দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর দৌহিত্র হযরত খাজা গোলাম মেহেদী।

দীর্ঘদিন ধরে খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরীর (রহ.) স্মরণে তাঁর আবির্ভাব দিবস ও বার্ষিক ওরশে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত ও অনুসারী সমবেত হয়ে থাকেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD