নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সৎ প্রার্থীকে সমর্থন দিন : আজহারী

নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতিগত ঐক্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।
বিজ্ঞাপন
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ পুনরায় তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ঐক্য অত্যন্ত জরুরি।
আজহারী বলেন, দীর্ঘ সময় পর সাধারণ মানুষ তুলনামূলক ভালো নেতৃত্ব বাছাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে। তবে নির্বাচনকে ঘিরে গুজব, উসকানি ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। এ কারণে আবেগ নয়, বরং সচেতনতা ও বিবেচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর তিনি জোর দেন।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক হলেও তা যেন সহিংসতা, ঘৃণা কিংবা সামাজিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে না পারে। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তিপূর্ণ আলোচনা ও সমালোচনা হতে পারে, তবে তা কখনোই অসম্মান বা বিদ্বেষে রূপ নেওয়া উচিত নয়।
পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আজহারী বলেন, সাধারণ মানুষ ট্যাগিং ও বাশিংমুক্ত রাজনীতি দেখতে চায়। দোষারোপ কিংবা বিভাজনের রাজনীতির বদলে জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানের প্রতিযোগিতা হওয়া প্রয়োজন। তিনি রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিপক্ষকে আক্রমণ না করে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষ একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন প্রত্যাশা করছে এবং দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণই জাতিকে নতুন দিগন্তের পথে এগিয়ে নিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোট একটি আমানত। এটি সততা, ন্যায়বোধ ও বিবেকের সঙ্গে প্রয়োগ করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে আজহারী বলেন, জনগণের রায়ে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন, তাদের সহযোগিতা করা সবার কর্তব্য। ঐক্যবদ্ধ জনগণ ছাড়া কোনো নেতৃত্বের পক্ষেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।








