ভাইরাল ছবি ঘিরে বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন মুসাদ্দিক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি স্থিরচিত্রকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ। ভাইরাল হওয়া ছবিতে তাকে এক ব্যক্তির দিকে আঙুল তুলে কথা বলতে দেখা যাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে নানা সমালোচনা শুরু হয়। তবে মুসাদ্দিক দাবি করেছেন, ছবিটি প্রকৃত ঘটনার আংশিক অংশ তুলে ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। সেখানে তিনি বলেন, ছড়িয়ে পড়া স্থিরচিত্র দেখে যারা বিব্রত বা কষ্ট পেয়েছেন, তাদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি ভিডিওর নির্দিষ্ট অংশ থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে তা কাটছাঁট করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে।
মুসাদ্দিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কনফারেন্স রুমে ঘটে, যেখানে উপস্থিত সবাইকে বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, এমন পরিস্থিতি ছিল না যে কোনো শিক্ষক দাঁড়িয়ে ছিলেন আর শিক্ষার্থীরা অসম্মানজনকভাবে বসে ছিলেন। বরং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিজেও বসেছিলেন এবং শিক্ষার্থীদেরও বসতে বলা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ভাইরাল হওয়া ছবিটি এমন একটি মুহূর্তে নেওয়া, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বারবার উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার জন্য যাওয়া-আসা করছিলেন। শিক্ষার্থীদের বার্তা উপাচার্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং উপাচার্যের পক্ষ থেকে বার্তা নিয়ে ফেরত আসার এই প্রক্রিয়ার মাঝেই কথোপকথনের একাংশ থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া হয়। পরে সেটি ক্রপ করে শুধু তার অংশটুকু আলাদা করে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুসাদ্দিক আরও বলেন, কনফারেন্স রুমে তখন একাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন এবং সবাই বসা অবস্থায় আলোচনায় অংশ নিচ্ছিলেন। কিন্তু ভাইরাল ছবিতে সেই প্রেক্ষাপট না দেখিয়ে শুধু তাকে আলাদা করে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ঘটনাকে ভিন্নভাবে তুলে ধরেছে।
বিজ্ঞাপন
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আলোচনার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়েও উভয়পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কক্ষে সাংবাদিক না রাখার অবস্থান জানানো হলেও শিক্ষার্থীরা চাইছিলেন, সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত থাকুক যাতে আলোচনায় কী হচ্ছে, তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পারে। এই বিষয় নিয়েই মূলত প্রক্টরের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলছিল বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপাচার্যের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আগে প্রক্টর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিলেন। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য উপাচার্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সেখান থেকে বার্তা নিয়ে ফিরে আসার এই প্রক্রিয়া কিছু সময় ধরে চলতে থাকে। আর সেই সময়ের কোনো এক মুহূর্তে ভিডিও থেকে একটি স্ক্রিনশট নিয়ে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
মুসাদ্দিক বলেন, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় আহত হওয়ার কারণে এখনও তার পুরো শরীরে ব্যথা রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা তার জন্য কষ্টকর ছিল। তারপরও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি আলোচনায় অংশ নেন এবং দাঁড়িয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রতি তার সম্মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে চাইলে তার বিভাগের শিক্ষকদের কাছে জানতে পারেন। তিনি নিজেকে নিজের কাছে সৎ দাবি করে বলেন, কারও অপপ্রচার বা সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন। তবে যারা তাকে শুভাকাঙ্ক্ষী মনে করেন, তাদের উদ্দেশ্যেই তিনি এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন।








