Logo

মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা, ভিডিও বার্তায় যা বললেন সেই শিক্ষক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ মে, ২০২৬, ১৪:৪৩
মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা, ভিডিও বার্তায় যা বললেন সেই শিক্ষক
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুসারে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনা গোপন রাখতে প্রাণনাশের হুমকি দেন। শিশুটির বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। শিশুটি নানির কাছে থেকে মাদরাসায় পড়াশোনা করছিল।

সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবার সন্দেহ করলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয় সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন এবং কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, মেয়েটি অনিয়মিতভাবে মাদরাসায় আসত, তার চলাফেরা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং পাঁচ-ছয় মাস আগে মাদরাসা ছেড়ে চলে গেছে। প্রকৃত অপরাধী শনাক্তে ডিএনএ টেস্টসহ সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তার শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, শিশুটি প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় ভুগছে। জীবনের প্রথম ঋতুস্রাবের আগেই গর্ভবতী হওয়ায় তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে এবং আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন। স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD