Logo

যুব সমাজের নীরব ঘাতক অনলাইনে ভিডিও চ্যাট

profile picture
বিশেষ প্রতিবেদক
৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২০:১০
যুব সমাজের নীরব ঘাতক অনলাইনে ভিডিও চ্যাট
প্রতীকী ছবি।

দেশের ভবিষ্যতের স্বপ্নবাহক যুব সমাজ আজ একটি অদৃশ্য শত্রুর কবলে প্রতিত হয়েছে। এই শত্রু হলো অনলাইনে ভিডিও চাটিং অ্যাপগুলো, যা লাইভ স্ট্রিমিং এবং ভিডিও চ্যাটের নামে যুবকদের জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অ্যাপগুলোর নাম শুনলে মনে হয় সাধারণ যোগাযোগের মাধ্যম যেমন ট্যাঙ্গো, টানার, মিগো লাইভ, বিগো লাইভ, ইয়ালা, ডিকো, মিকো, বলোজি, জয়মিট, চলোজি, লাইভ মিট, হাইক্লাব, ছামেট, মিলোজি, ব্লিং, ই-লাইভ, উইগো লাইভ, টিনা লাইভসহ আরো অসংখ্য রয়েছে। কিন্তু এগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো নগ্নতা এবং যৌনতাপূর্ণ কনটেন্টের মাধ্যমে যুবকদের আকৃষ্ট করা। গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে এগুলো অনায়াসে পাওয়া যায়, এবং পেমেন্টের জন্য ব্যবহার হয় বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো স্থানীয় মাধ্যম।

ফলে যুবকেরা নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা খরচ করে এই অন্ধকার জগতে ডুবে যায়, যা শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে নষ্ট করে না বরং দেশের অর্থনীতিকেও বিদেশে পাচার করে।

বিজ্ঞাপন

এই অ্যাপগুলো যুব সমাজকে একটি অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা দিনের পর দিন স্ক্রিনের সামনে বসে থাকে, লাইভ স্ট্রিমিং দেখে, গিফট পাঠায় এবং নগ্নতার লোভে পড়ে। ফলে পড়াশোনা, চাকরি, পরিবার সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে, যেখানে যুবকেরা দেশের মূল শক্তি, এই ধরনের অ্যাপগুলো একটি মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, না হলে যুব সমাজের ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী।

একজন ভুক্তভোগী, রাকিব (ছদ্মনাম), যিনি ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, বলেন, “আমি বিগো লাইভ অ্যাপে আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। প্রথমে কৌতূহলবশত দেখতাম, তারপর নগ্নতার লোভে গিফট পাঠাতাম। বিকাশ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছি। ফলে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছি, পরিবারের সাথে ঝগড়া হয়েছে। এখন আমি অন্ধকারে ডুবে আছি।” তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “এই অ্যাপগুলো আমার জীবন নষ্ট করেছে। সরকারকে বলব, দয়া করে বন্ধ করুন।”

আরেকজন ভুক্তভোগী, সামির (ছদ্মনাম), যিনি চট্টগ্রামের চাকরিজীবী, তিনি বলেন, “ট্যাঙ্গো অ্যাপে লাইভ স্ট্রিমিং দেখে আমি আসক্ত হয়েছি। নগ্নতা দেখার জন্য ক্রেডিট কার্ড দিয়ে টাকা দিতাম। মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা চলে যেত। রাত যেগে এসব করতাম, যা আমার অফিস টাইমিংয়ে ব্যঘাত ঘটায়। ফলে আমার চাকরি চলে গেছে, ঋণ হয়েছে। এখন আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এই অ্যাপগুলো যুবকদের ধ্বংস করে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের অর্থ বিদেশেও যায় এবং আমাদেরও ধংস করে, আমরা নিজেরাই নষ্ট হয়ে যাই।”

বিজ্ঞাপন

একটি মেয়ের গল্পও আছে, যিনি হোস্ট হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বলেন, “আমি মিগো লাইভে লাইভ করতাম, নগ্নতা দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করতাম। কিন্তু এতে আমার মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট হয়েছে। যুবকেরা আমাকে গিফট পাঠাত, কিন্তু আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। এখন আমি ছাড়তে চাই, কিন্তু আসক্তি থেকে বেরোতে পারছি না।” এই গল্পগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়, কীভাবে এই অ্যাপগুলো যুব সমাজকে গ্রাস করছে।

যেভাবে যুবকদের ফাঁদে ফেলে: অনলাইন কালিং অ্যাপগুলো মূলত লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যবহারকারীরা রিয়েল টাইমে ভিডিও চ্যাট করতে পারে, গান গাইতে পারে বা নাচ দেখাতে পারে। কিন্তু এগুলোর গভীরে লুকিয়ে আছে একটি অন্ধকার জগত। উদাহরণস্বরূপ, বিগো লাইভ অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের লাইভ স্ট্রিম করতে দেয়, যেখানে হোস্টরা দর্শকদের কাছ থেকে ভার্চুয়াল গিফট পায়।

বিজ্ঞাপন

এই গিফটগুলো রিয়েল মানিতে রূপান্তরিত হয়, এবং পেমেন্ট হয় ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে। একইভাবে, ট্যাঙ্গো অ্যাপে প্রাইভেট চ্যাট রুম আছে, যেখানে নগ্নতাপূর্ণ কনটেন্টের জন্য অর্থ দিতে হয়। মিগো লাইভ, ইয়ালা, ডিকো এবং মিকো এগুলোও একই প্যাটার্ন অনুসরণ করে।

এই অ্যাপগুলোর মূল আকর্ষণ হলো নগ্নতা এবং যৌনতাপূর্ণ কনটেন্ট। যুবকেরা প্রথমে কৌতূহলবশত ডাউনলোড করে, তারপর লাইভ স্ট্রিমিং দেখতে শুরু করে। হোস্টরা, যাদের অধিকাংশই বিদেশি বা স্থানীয় মেয়েরা, নগ্নতা দেখিয়ে দর্শকদের আকৃষ্ট করে। ফলে যুবকেরা গিফট পাঠায়, যা অর্থের বিনিময়ে।

একটি গিফটের দাম ১০০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে এবং সিংহভাগ অ্যাপেই কল করার জন্য কিনতে হয় সেসব অ্যাপের নির্দিষ্ট কয়েন বা টোকন। বিকাশ এবং নগদের মতো সিস্টেমের কারণে পেমেন্ট সহজ হয়ে গেছে, ফলে যুবকেরা সহজেই টাকা খরচ করে।

বিজ্ঞাপন

এই অ্যাপগুলোর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ এগুলোর কোম্পানিগুলো বিদেশি যেমন বিগো লাইভ সিঙ্গাপুরের, ট্যাঙ্গো আমেরিকার। ফলে পেমেন্টের টাকা বিদেশে চলে যায়, যা বাংলাদেশের অর্থ পাচারের একটি রূপ। একটি অনুমান অনুসারে, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে বিদেশে যায়। এছাড়া, এগুলো যুবকদের আসক্ত করে তোলে, যা তাদের পড়াশোনা এবং উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়।

যুব সমাজের উপর এই অ্যাপগুলোর প্রভাব ভয়াবহ। প্রথমত, আসক্তি। যুবকেরা দিনের পর দিন এই অ্যাপগুলোতে সময় কাটায়, লাইভ স্ট্রিমিং দেখে। একটি জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের যুবকদের মধ্যে স্মার্টফোন আসক্তির হার ৬১.৪ শতাংশ। এর মধ্যে লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপগুলো একটি বড় ভূমিকা পালন করে। যুবকেরা নগ্নতার লোভে পড়ে, নিজেদের টাকা খরচ করে এবং শেষ পর্যন্ত অর্থশূন্য হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

উদাহরণস্বরূপ, একজন যুবক যদি প্রতিদিন ৫শ’ থেকে ১ হাজর টাকা গিফটে খরচ করে, তাহলে মাসে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা চলে যায় যা একটি গড় যুবকের পকেট মানির অনেকটা।

দ্বিতীয়ত, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি। এই অ্যাপগুলো যুবকদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশের যুবকদের মধ্যে ডিপ্রেশনের হার বেড়েছে। লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপগুলোতে নগ্নতা দেখে যুবকেরা যৌন আসক্ত হয়ে পড়ে, যা তাদের বাস্তব জীবনের সম্পর্ক নষ্ট করে। ফলে তারা পরিবার থেকে দূরে সরে যায়, পড়াশোনায় মনোযোগ হারায় এবং চাকরির সুযোগ হাতছাড়া করে।

তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক ক্ষতি। যুবকেরা কষ্টার্জিত টাকা এই অ্যাপগুলোতে খরচ করে, যা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে। বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে যুবকেরা অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, এই ক্ষতি জাতীয় উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। সম্প্রতি একটি গবেষনা রিপোর্টে বলা হয়েছে, লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপগুলোর নেগেটিভ প্রভাবে যুবকদের সামাজিক দক্ষতা কমে যায়, যা তাদের কর্মক্ষমতা হ্রাস করে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া, এই অ্যাপগুলো যুবকদের মধ্যে হিংসা এবং হতাশা বাড়ায়। যখন তারা নগ্নতা দেখে সন্তুষ্টি না পায়, তখন তারা আরও টাকা খরচ করে, যা একটি চক্র তৈরি করে। ফলে অনেক যুবক ঋণ করে বা চুরি করে টাকা জোগাড় করে, যা সমাজে অপরাধ বাড়ায়। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে অনলাইন গেমিং অ্যাপগুলোর মতো এই লাইভ অ্যাপগুলোও যুব সমাজকে ধ্বংস করছে।

এই সমস্যা নিয়ে মনোবিজ্ঞানী ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, “অনলাইন কালিং অ্যাপগুলো যুবকদের মস্তিষ্কে ডোপামিনের মাত্রা বাড়ায়, যা আসক্তির কারণ হয়। ফলে তারা বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের যুবকদের মধ্যে এই আসক্তির হার ৩৫-৪০%।” তিনি আরও বলেন, “এগুলো নগ্নতার মাধ্যমে যুবকদের আকৃষ্ট করে, যা তাদের যৌন স্বাস্থ্য নষ্ট করে। সরকারকে অবিলম্বে এগুলো বন্ধ করতে হবে।”

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ফারজানা ইসলাম বলেন, “এই অ্যাপগুলো যুব সমাজকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। তারা নগ্নতার লোভে পড়ে নিজেদের অর্থ এবং সময় নষ্ট করে। এতে দেশের অর্থ বিদেশে যায়, যা অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করে। সরকারের উচিত এগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যুবকেরা এই অ্যাপগুলোতে আসক্ত হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়, যা দেশের ভবিষ্যতকে ঝুঁকিতে ফেলে।”

বিজ্ঞাপন

সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ রাহাত চৌধুরী বলেন, “এই অ্যাপগুলোতে প্রাইভেসি লঙ্ঘন হয়, যা যুবকদের ব্ল্যাকমেইলের শিকার করে। অনেক ক্ষেত্রে হোস্টরা যুবকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে অপব্যবহার করে। বাংলাদেশে এই ধরনের ঘটনা বেড়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি সরকার না চায় যুব সমাজ ধ্বংস হয়, তাহলে এগুলো ব্যান করতে হবে।”

এছাড়া, শিক্ষাবিদরা বলেন, “যুবকেরা এই অ্যাপগুলোতে সময় নষ্ট করে, যা তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স কমায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আসক্ত যুবকদের গ্রেড ২০% কমে যায়।” এই বক্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট, বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যাকে গুরুতর বলে মনে করেন।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ইওএউ) এর যৌথ এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশের যুব সমাজের মধ্যে স্মার্টফোন আসক্তির হার ৬১.৪ শতাংশ। এই জরিপে উল্লেখ করা হয় যে, লাইভ স্ট্রিমিং ও অনলাইন কলিং অ্যাপগুলো এই আসক্তির অন্যতম প্রধান কারণ। লজিস্টিক রিগ্রেশন অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, ২৫ বছরের নিচের যুবকেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরেকটি গবেষণা পরিচালনা করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তির হার ৮৮.২৫ শতাংশ, যার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে লাইভ স্ট্রিমিং ও ভিডিও কলিং অ্যাপ। এই গবেষণায় আরও উঠে আসে যে, এই আসক্তির ফলে ৭২.৫১ শতাংশ যুবকের মধ্যে একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ পরিচালিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশের যুব সমাজের ৩৫-৪০ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তিতে ভুগছে, যার মধ্যে লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপগুলোর প্রভাব অত্যন্ত নেতিবাচক। এই আসক্তি থেকে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও অ্যান্টিসোশ্যাল আচরণ।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ডিজিটাল ও মোবাইল অ্যাপ আসক্তির কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ যুবক মাইল্ড থেকে মডারেট অ্যাডিকশনে আক্রান্ত, যা লাইভ স্ট্রিমিং ও অনলাইন কলিং অ্যাপগুলোর ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম আচরণগত লক্ষণ তৈরি করছে।

এই সব জরিপ ও গবেষণা স্পষ্টভাবে দেখায় যে, যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে অনলাইন কলিং ও লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপগুলো বাংলাদেশের যুব সমাজকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্রুত এই অ্যাপগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। ইতিমধ্যে টিকটক, পাবজি এবং ফ্রি ফায়ারের মতো অ্যাপগুলো ব্যান করা হয়েছে, যা যুব সমাজকে রক্ষা করেছে। একইভাবে, এই কালিং অ্যাপগুলো ব্যান করতে হবে। সাইবার আইন শক্তিশালী করে, পিতামাতাদের সচেতন করতে হবে এবং যুবকদের জন্য বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে যুব সমাজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।

অনলাইন ভিডিও চ্যাটের এই অ্যাপগুলো বাংলাদেশের যুব সমাজকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। নগ্নতার লোভ, আসক্তি এবং অর্থ পাচার এগুলো দেশের ভবিষ্যতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভুক্তভোগীরা কেঁদেছেন, জরিপগুলো ডেটা দিয়েছে। এখন সময় সরকারের ব্যবস্থা নেওয়ার। যুব সমাজকে রক্ষা করলে দেশ রক্ষা পাবে। না হলে অন্ধকার ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে।

জেবি/এসডি
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD