অনলাইনেই মিলছে কোরবানির পশুসহ কসাই সেবা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অনলাইনে কোরবানির কসাই সেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সময়ের ব্যস্ততা, দক্ষ কসাই সংকট এবং ঝামেলা এড়াতে অনেকেই এখন আগেভাগেই অনলাইনে কসাই বুকিং দিচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়াম, প্রফেশনাল ও মৌসুমি—এমন নানা ধরনের কসাই সেবা দিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা জানান, ঈদের দিন কখন পশু জবাই করা হবে তার ওপর নির্ভর করে কসাইয়ের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হচ্ছে। সাধারণত সকালে সেবা নিতে খরচ কিছুটা বেশি হলেও দুপুর কিংবা বিকেলে তুলনামূলক কম খরচে কসাই পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেবা নিশ্চিত করতে গ্রাহকদের অগ্রিম বুকিং দিতে হচ্ছে। প্রতিটি বুকিংয়ের জন্য প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়া হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, প্রতি বছর অনলাইনভিত্তিক এই সেবার চাহিদা বাড়ছে। ফলে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানও এই খাতে যুক্ত হচ্ছে। শুধু বাসাবাড়িতে গিয়ে পশু জবাই নয়, অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত স্থানে কোরবানি সম্পন্ন করে মাংস প্রসেসিং, প্যাকেটিং ও হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও করছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে অ্যাপার্টমেন্ট বা ভাড়া বাসায় বসবাসকারীদের জন্য এই সেবা বেশ সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। জায়গার সংকট কিংবা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কারণে অনেকেই এখন বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কোরবানি শেষে মাংস কেটে নির্দিষ্ট ওজন অনুযায়ী প্যাকেট করে বাসায় পৌঁছে দিচ্ছেন।
২০১৬ সাল থেকে রাজধানীতে অনলাইনে কসাই সেবা দিয়ে আসছে ‘বুচার শপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি কেবল কসাই সরবরাহই নয়, নিজেদের খামারের গরুও বিক্রি করছে অনলাইনে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. সুলাইমান হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা দক্ষ কসাইয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে আসছেন। বর্তমানে তাদের অধীনে প্রায় দেড় শতাধিক প্রশিক্ষিত কসাই কাজ করছেন। ঈদের দিন এবং পরের দিনের জন্যও তারা বুকিং নিচ্ছেন। পাশাপাশি ফরিদপুরে থাকা তাদের ‘ইশান ক্যাটেল ফার্ম’ থেকে অনলাইনে গরু বিক্রির পাশাপাশি কোরবানি ও মাংস প্রসেসিং সেবাও দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, খামার থেকে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ পশু সরকারি বিধি মেনে জবাই করে মাংস প্রসেসিং শেষে গ্রাহকের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া গ্রাহকদের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন কসাই সেবা নিতে পশুর মূল্যের প্রতি হাজার টাকায় ১৭০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। সকালে কসাই নিলে খরচ বেশি হলেও দুপুর বা বিকেলে তুলনামূলক কমে পাওয়া যাচ্ছে। আর ঈদের পরের দিন এই খরচ আরও কমে প্রতি হাজারে ১০০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে নেমে আসে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ‘ইশান ক্যাটেল ফার্ম’ কোরবানির বিশেষ ব্যবস্থাও চালু করেছে। দেশি গরু, মহিষ ও ব্ল্যাক বেঙ্গল খাসি দিয়ে বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য কোরবানির সুযোগ রাখা হয়েছে। মাংস নির্দিষ্ট পরিমাণে ভাগ করে প্যাকেটজাত করে বিনামূল্যে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সুবিধাও থাকছে।
প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে, কোরবানির সব কার্যক্রম শরিয়াহ অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে এবং আগ্রহীরা চাইলে জবাইয়ের সময় উপস্থিত থাকতে পারবেন। ঈদের দিন ও পরদিনের অর্ডার একই দিনের মধ্যেই গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
০১৬১৫১০০৫৪৪ নম্বরে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে সেবা নেয়া যাবে।
বিজ্ঞাপন
অনলাইনে কসাই বুকিং দেওয়া একাধিক গ্রাহক জানান, কয়েক বছর ধরে তিনি এই পদ্ধতিতে সেবা নিচ্ছেন। এতে সময় বাঁচে, ঝামেলা কম হয় এবং পরিচ্ছন্নভাবে কাজ সম্পন্ন হয় বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।








