Logo

ডিপিডিসির এমডি নিয়োগে নড়েচড়ে বসেছে বিদ্যুৎ বিভাগ

profile picture
বিশেষ প্রতিবেদক
১৯ মে, ২০২৬, ১৩:১৩
ডিপিডিসির এমডি নিয়োগে নড়েচড়ে বসেছে বিদ্যুৎ বিভাগ
ছবি: পত্রিকা থেকে নেওয়া।

রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম কৌশলগত প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বিস্ফোরক বিতর্ক। লিখিত পরীক্ষার পর ভাইভা ও প্রেজেন্টেশনের জন্য নির্বাচিত তিন প্রার্থীর নাম প্রকাশের পর থেকেই বিদ্যুৎ খাতে শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও নেপথ্য লবিংয়ের অভিযোগ।

বিজ্ঞাপন

খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও বিশ্লেষকদের অভিযোগ যোগ্যতা, দক্ষতা কিংবা প্রশাসনিক সততার পরিবর্তে আবারও রাজনৈতিক বলয়, পুরোনো সিন্ডিকেট এবং স্বৈরাচারী আমলের প্রভাবশালী চক্র নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ডিপিডিসির মতো রাজধানীকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব কি আবারও বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তিদের হাতেই যাচ্ছে?

সূত্র জানায়, দৈনিক জনবাণীতে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, লিখিত পরীক্ষার মূল্যায়ন এবং বাদ পড়া যোগ্য প্রার্থীদের বিষয় তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বিতর্কিত প্রার্থী কিউ এম শফিকুল ইসলামের অতীত কর্মকা-ও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুরো নিয়োগ প্যানেল বাতিলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

গত শনিবার অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন বিদ্যুৎ খাতের ৯ জন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা। তবে ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ভাইভা ও উপস্থাপনার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে মাত্র তিনজনকে ডিপিডিসির সাবেক নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলাম, পাওয়ার সেলের সাবেক পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন এবং আশুগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্টের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আকরাম উল্লাহকে।

বিজ্ঞাপন

এই তিনজনের নাম ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অভিযোগ ওঠে, তারা প্রত্যেকেই অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী প্রকৌশলী বলয়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং বিদ্যুৎ খাতের প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-কেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী বলয়ের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। বিদ্যুৎ খাতের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অন্তত চারজন প্রার্থী ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং প্রশাসনিকভাবে সফল কর্মকর্তা। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় ও সিন্ডিকেটবিরোধী অবস্থানের কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ খাত এখনও একটি গোষ্ঠীর দখলে। এখানে দক্ষতা নয়, বরং কে কোন বলয়ের লোক সেটাই নিয়োগের মূল মানদ- হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

এ ব্যাপারে জ্বালানি বিশ্লেষক রাজু আহমেদ শাহ বলেন,“ডিপিডিসির মতো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি রাজধানীর বিদ্যুৎ নিরাপত্তা, গ্রিড ব্যবস্থাপনা এবং হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এখানে স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে পুরো খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন,“শুধু ভাইভা বোর্ড বা প্রশাসনিক সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দিলে জনআস্থা ধ্বংস হবে। লিখিত পরীক্ষা, কারিগরি মূল্যায়ন এবং স্বাধীন উপস্থাপনাভিত্তিক পদ্ধতিতে যোগ্যদের বাছাই করতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা আয়োজন করা উচিত।”

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD