Logo

বিএলআরআই’র গবেষণার ১৮ উটপাখি প্রকল্প পরিচালকের পেটে

profile picture
মো. রুবেল হোসেন
১৩ জুন, ২০২৬, ১৪:১৬
বিএলআরআই’র গবেষণার ১৮ উটপাখি প্রকল্প পরিচালকের পেটে
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএলআরআই) তার উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি একেবারেই বিপরীত মুখি। গরু ও খাসির বিকল্প মাংসের জোগান দিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিএলআরআই পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্প হাতে নেই।

বিজ্ঞাপন

এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল উটপাখি সম্প্রসারণ করে মাংস উৎপাদন। সে লক্ষ্যে ২০২০ সালে আফ্রিকা থেকে প্রথমে ধাপে ৭টি উটপাখি এবং পরে অধিকতর গবেষণার জন্য আরও ১৫টি অপ্রাপ্তবয়স্ক উটপাখি আফ্রিকা থেকে আমদানি করা হয়। প্রতিটির আমদানি ব্যয় ধরা হয় ৫০ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী প্রকল্পের সুফল ২০২২-২৩ অর্থবছরে পাওয়ার কথা ছিল।

আফ্রিকা থেকে আনা ২২ উটপাখির গবেষণা নিয়েও বিতর্ক

গবেষণার উদ্দেশ্যে আফ্রিকা থেকে দুই দফায় ২২টি উটপাখি আনা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল দেশীয় আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নতুন সম্ভাবনাময় জাত উন্নয়ন করা। কিন্তু বর্তমানে গবেষণা শেডে মাত্র ৪টি উটপাখি রয়েছে। উটপাখিগুলোর কোনো কার্যকর গবেষণা ফল পাওয়া যায়নি এবং প্রকল্প থেকে দেশীয় পরিবেশে পালন উপযোগী কোনো জাত বা প্রযুক্তিও উদ্ভাবিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় গবেষণার জন্য আমদানি করা উটপাখির মধ্যে বর্তমানে দুই জোড়া তথা ৪টি বেঁচে রয়েছে, বাকি গুলো আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গবেষণার জন্য আনা এই উটপাখি গুলোকে মাংসের স্বাদ পরীক্ষা করতে একে একে জবাই করে খেয়েছে কর্মকর্তারা। এর মধ্য দিয়ে গবেষণার জন্য আমদানি করা ৯ লাখ টাকার ১৮টি উটপাখি প্রকল্প পরিচালকসহ কর্মকর্তাদের পেটে চলে গেছে।

ছাড়াও পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় টার্কি, তিতির, কোয়েল ও আঁচিল মুরগি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম শুরু করা হলেও এসব প্রজাতির পোল্ট্রির কোনো তথ্য-উপাত্ত সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ টার্কি ও আঁচিল মুরগি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও ফাইল নোট ছাড়াই গবেষণার নামে জবাই করা হয়েছে এবং তাদের মাংস বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

জানা যায়, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. সাজেদুল করিম সৈয়দপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রে বিএলআরআই-এর প্রধান কার্যালয় থেকে ১ হাজার ২০০টি কোয়েল পাখি স্থানান্তর করেছিলেন। পরবর্তীতে এসব কোয়েল মারা গেলেও তাদের মৃত্যুর তথ্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং ১ হাজার ২০০টি কোয়েলের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে পুনরায় প্রধান কার্যালয় থেকে আরও ১ হাজার টি কোয়েল সৈয়দপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কোটি কোটি টাকা খরচ করে নানা জাতের প্রাণী উদ্ভাবন করা হলেও, মাঠ পর্যায়ের খামারগুলোতে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মধ্যে কয়েকটি ছাড়া বাকি সবই খামারিদের জন্য অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেছে। ফলে গবেষণা কার্যক্রম মাঠে মারা গেছে। গত বছর থেকে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখির মাংস বাজারজাত করারও প্রতিশ্রুতিও ছিল। যদিও পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২২টি উটপাখি আমদানি করতে প্রতিটিতে ৫০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। যার মধ্যে চার-পাঁচটি মারা গেছে এবং বাকিগুলোর মাংসের গুণাগুণ পরীক্ষা করতে জবাই করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন পোল্ট্রি জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী, স্বল্প ব্যয়সম্পন্ন এবং অধিক উৎপাদনশীল পোল্ট্রির নতুন স্ট্রেইন বা জাত উদ্ভাবন করা। এ লক্ষ্যে সরকার প্রকল্পটির জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ প্রদান করে এবং সেই অর্থ ব্যয়ও সম্পন্ন হয়েছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে যে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষে বাস্তবে কোনো পোল্ট্রি প্রজাতির গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম জনসংখ্যা (Population) পর্যন্ত সংরক্ষিত নেই। একই সঙ্গে গবেষণা কার্যক্রমের তথ্য-উপাত্তও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এসব অভিযোগের সত্যতা ও প্রকৃত অবস্থা কেবলমাত্র একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমেই উদঘাটন করা সম্ভব। এ বিষয়ে পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. সাজেদুল করিমের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD