কাতার ভিসায় চরম অনিয়ম, বিএমইটি ছাড়পত্র ঘিরে দালাল চক্রের তৎপরতা

বাংলাদেশ থেকে কাতারে শ্রমিক পাঠানোর পুরো ভিসা ও ছাড়পত্র প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চরম অনিয়ম, প্রতারণা ও সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘অসত্যায়িত ভিসা’ বা অসম্পূর্ণ ভিসা ব্যবহার করেই জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে হাজারো কর্মী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী দালাল চক্র প্রকৃত নিয়োগকারী কোম্পানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য, বৈধ চাকরির চুক্তি, বেতন কাঠামো এবং কাজের ধরন যাচাই ছাড়াই ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। এই প্রক্রিয়ায় ‘অসত্যায়িত’ বা আংশিক যাচাইকৃত ভিসা ব্যবহার করে বিএমইটি ছাড়পত্র নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি কর্মীর কাছ থেকে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যারা অভিবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করছে।
দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক কর্মী কাতারে পৌঁছে নির্ধারিত কোম্পানির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের জন্য প্রতিশ্রুত চাকরি, বেতন কিংবা কাজের পরিবেশ বাস্তবে অনুপস্থিত থাকে। ফলে তারা কর্মহীন অবস্থায় পড়ছেন, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন এবং অনেকে বাধ্য হয়ে অবৈধ অবস্থানে চলে যাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে এসব কর্মীর একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে আটক, জরিমানা বা ডিপোর্টেশনের শিকার হচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, বরং দেশের শ্রমবাজারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ভিসায় নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম, ঠিকানা, কাজের প্রকৃতি কিংবা বেতনের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না। এ ধরনের ভিসা ব্যবহার করেই ছাড়পত্র নেওয়া হচ্ছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনি ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএমইটি ছাড়পত্র দেওয়ার আগে ভিসা ও নিয়োগ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ যাচাই না হলে পুরো শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে ভিসা যাচাই প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স, বিদেশি নিয়োগদাতার অস্তিত্ব, কাতার দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসা সত্যায়িত (attestation) হয়েছে কি না এবং নিয়োগ চুক্তিপত্র কঠোরভাবে যাচাই না করলে এই অনিয়ম থামানো সম্ভব নয়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের শ্রম রপ্তানির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও কঠোর নজরদারির দাবি জোরালো হচ্ছে।








