Logo

এআই প্রযুক্তির আওতায় আসছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জুন, ২০২৬, ১৫:৩১
এআই প্রযুক্তির আওতায় আসছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’
ছবি : জনবাণী গ্রাফিক্স

দেশের দরিদ্র, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর প্রণীত ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬’-এর খসড়ায় এ সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। নীতিমালার লক্ষ্য হলো সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং পরিবারকেন্দ্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে পরিবারকে উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তথ্য যাচাইয়ে একাধিক সরকারি ডেটাবেজ

বিজ্ঞাপন

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ভূমি মন্ত্রণালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) সংযোগের মাধ্যমে এসব তথ্য যাচাই করা হবে। পাশাপাশি ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রিতে সংরক্ষিত তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি, জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের চেষ্টা শনাক্ত করতে প্রয়োজনে এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

বিজ্ঞাপন

নারীর নামে ইস্যু হবে ফ্যামিলি কার্ড

নীতিমালা অনুযায়ী, পরিবারে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্ডটি পরিবারের মা অথবা জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে।

কার্ডধারী নারীর মৃত্যু হলে উপজেলা কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে পরিবারের অন্য কোনো উপযুক্ত নারী সদস্যের নামে কার্ড স্থানান্তর করা যাবে। যদি পরিবারে প্রাপ্তবয়স্ক নারী সদস্য না থাকেন, তাহলে জেলা কমিটির অনুমোদনক্রমে পরিবারের পুরুষ প্রধানের নামে কার্ড দেওয়া সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া গারো, খাসিয়া ও অন্যান্য মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সামাজিক কাঠামো বিবেচনায় বিশেষ মানদণ্ড প্রণয়নের সুযোগও রাখা হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপকারভোগী নির্বাচন

প্রকৃত দরিদ্র পরিবার শনাক্ত করতে ‘প্রক্সি মিন্স টেস্ট’ (পিএমটি) পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এ ব্যবস্থায় পরিবারের সম্পদ, আয়ের উৎস, জীবনযাত্রার মান এবং আর্থসামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে একটি স্কোর নির্ধারণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এই স্কোরের ভিত্তিতে পরিবারগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে— অতি দরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত এবং সচ্ছল বা উচ্চবিত্ত।

অতি দরিদ্র পরিবারগুলোকে শতভাগ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দরিদ্র পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পাবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির পরিবারগুলো এই কর্মসূচির আওতায় আসবে না।

যারা কার্ডের সুবিধা পাবেন না

বিজ্ঞাপন

খসড়া নীতিমালায় কিছু নির্দিষ্ট বর্জন মানদণ্ডও নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব পরিবার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বে থাকবে তারা সুবিধা পাবে না।

এছাড়া নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতেও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না— সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী পরিবার, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী পরিবার, সরকারি পেনশনভোগী নারী প্রধান, জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারী পরিবার, চার চাকার ব্যক্তিগত মোটরযানের মালিক পরিবার, বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিক পরিবার, নিয়মিত করদাতা ও করযোগ্য আয়ের অধিকারী ব্যক্তি থাকা পরিবার, ০.৫০ একর বা তার বেশি জমির মালিক পরিবার এবং ৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের বাণিজ্যিক বা অকৃষি জমির মালিক পরিবার।

বিজ্ঞাপন

অন্যান্য ভাতা গ্রহণের বিষয়ে শর্ত

পরিবারের অন্যান্য সদস্য বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা নিতে পারবেন। তবে ফ্যামিলি কার্ডধারী নারী যদি টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিডব্লিউবি বা অন্য কোনো নিয়মিত সরকারি নগদ সহায়তা পেয়ে থাকেন, তাহলে তাকে পূর্বের সুবিধা ত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার যাচাইয়ের মাধ্যমে আগের সুবিধা স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।

নিয়মিত পুনর্মূল্যায়ন করা হবে

বিজ্ঞাপন

নীতিমালায় সুবিধাভোগীদের নিয়মিত যাচাই ও পুনর্মূল্যায়নের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে এবং তারা নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে গেলে তাদের কর্মসূচি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বের করে দেওয়া হবে। সেই স্থানে নতুন যোগ্য দরিদ্র পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও জিও-লোকেশনভিত্তিক বিশেষ পরিবার জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে এই নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা শেষে শিগগিরই এটি চূড়ান্ত করা হতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD