Logo

পাখির চোখে পাহারা দেবে বিজিবি, সীমান্তে থাকবে কড়া নজরদারি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জুন, ২০২৬, ২০:৩১
পাখির চোখে পাহারা দেবে বিজিবি, সীমান্তে থাকবে কড়া নজরদারি
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জনবল সম্প্রসারণ এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে একটি কার্যকর ও আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-তে ১ হাজার ৫৮৮ জন নতুন সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত পর্যবেক্ষণে উন্নতমানের ড্রোন, নাইট ভিশন ডিভাইস এবং অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় আকাশপথে নজরদারি বাড়াতে প্রায় ১২টি মধ্যম পাল্লার ড্রোন এবং ৫৮টি স্বল্প পাল্লার থার্মাল ইমেজিং সুবিধাসম্পন্ন ড্রোন সংগ্রহের উদ্যোগ চলছে। একই সঙ্গে অননুমোদিত ড্রোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ৩০টির বেশি হ্যান্ডহেল্ড অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় সীমান্ত সুরক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সীমান্তে অপরাধ দমন, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদনের পর এসব সরঞ্জাম দ্রুত সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে সীমান্তপথে মাদক পাচার ১৫ শতাংশ কমানো, অবৈধ অনুপ্রবেশ ২৫ শতাংশ হ্রাস এবং চোরাচালানবিরোধী অভিযানে জব্দের হার ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা, পুশইন, মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

মিয়ানমার সীমান্তকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সেখানে অতিরিক্ত নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সীমান্তজুড়ে ১৫০টি নাইট ভিশন ক্যামেরা ও থার্মাল ডিভাইস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, এই রুট ব্যবহার করে মাদক প্রবেশের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।

ভারত সীমান্তে ৪০০টি আধুনিক নাইট ভিশন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া বিজিবির সীমান্ত চৌকি ও চেকপোস্টগুলোতে অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরক শনাক্তে ৩০২ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য এবং ১২৫টি ডগ স্কোয়াড যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুধু নিরাপত্তা নয়, সীমান্ত এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ১ হাজার পরিবারকে পোলট্রি ও মৎস্য খামার গড়ে তুলতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বন্ধ থাকা বর্ডার হাটগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক হাজার পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ১৫০ জনকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তাদের ভাষ্য, ড্রোন, থার্মাল সেন্সর ও অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি সীমান্ত পর্যবেক্ষণকে আরও কার্যকর করবে এবং দুর্গম এলাকাতেও নজরদারি নিশ্চিত করবে।

বিজ্ঞাপন

তারা আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। পাশাপাশি সীমান্তবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD