Logo

সাংবাদিককে ‘বাস্টার্ড’ বললেন গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী

profile picture
জান্নাতুর রহমান
১৩ জুলাই, ২০২৬, ২২:১২
সাংবাদিককে ‘বাস্টার্ড’ বললেন গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী
গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী। ফাইল ছবি

গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে প্রশ্ন করে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার মুখোমুখি হন দৈনিক জনবাণীর বিশেষ প্রতিবেদক বশির হোসেন খান। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, অভিযোগের জবাব না দিয়ে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

বিজ্ঞাপন

প্রথমে তিনি অভিযোগের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে সাংবাদিকের পরিচয় ও তথ্যের উৎস জানতে চান। পরে বদলি বাণিজ্য, অর্থ লেনদেন এবং প্রভাব খাটিয়ে পদায়নের বিষয়ে ধারাবাহিক প্রশ্ন করা হলে তিনি সংযম হারিয়ে অশালীন ও ভীতিপ্রদ ভাষা ব্যবহার করেন।

ফোনালাপে একপর্যায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, “তুই বাস্টার্ড, সামনে দেখা কর সাইজ করে দিবো।” অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি আরও একাধিক অশ্রাব্য গালিগালাজ করেন এবং প্রতিবেদককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ রাজু আহমেদ মতে, অভিযোগের জবাব তথ্য-প্রমাণ দিয়ে খন্ডন করার পরিবর্তে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ শুধু পেশাগত শিষ্টাচারের পরিপন্থী নয় বরং সংবাদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি এবং সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া অভিযোগের গুরুত্বকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুদকের অভিযোগে বলা হয় সম্প্রতি বদলি হওয়া ৬৫ কর্মকর্তাকে পছন্দের চেয়ারে বসানোর নাম করে প্রত্যেকের থেকে ১০ লাখ থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে খালেকুজ্জামান চৌধুরী ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বমূহর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে শতকোটি টাকার এই বদলি বাণিজ্য করা হয়। মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করলে, এই সিন্ডিকেটের আসল রূপ ও লেনদেনের গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে দাবি একাধিক প্রকৌশলীর। কালো টাকার জোরে বদলি’র সুবিধা পাওয়া যেসব নির্বাহী প্রকৌশলীদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে, তারা হলেন সৈয়দ ইসকান্দার আলী, জুবায়ের বিন হায়দার, নাজমুল আলম রব্বানী, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ তরিকুল আলম, রুবাইয়াত ইসলাম, আজমুল হক, মিজানুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম খান, এ.কে.এম তানভীর আহমেদ এবং মোহাম্মদ ফতেহ আজম খান।

স্বৈরাচারী সরকার আমলে প্রভাবশালী নেতাদের আশির্বাদপুষ্ট হয়ে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে এই বদলি হওয়া অধিকাংশ প্রকৌশলী।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে হাসিনা সরকার আমলে গণপূর্ত সচিব ও মন্ত্রীর খুবই আস্থা ভাজন ছিলেন গণপূর্তের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর চেয়ার রক্ষা করতে নিজেকে বিএনপিপন্থি বলে জাহির করছেন। কিন্তু তিনি হাসিনা সরকারের সময়ে শেখ মুজিবের জন্ম শতবার্ষিকীর বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বঙ্গবন্ধুর গুণগান গাইতেন এবং হাসিনার প্রশংসায় চঞ্চমুখ থাকতেন। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতীয় শোক ঘোষনা করলেও তিনি সেই জানাজায় অংশ নেননি বলে অভিযোগ প্রকৌশলীদের।

জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী চেয়ার রক্ষায় প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সচিবদের দফতরে তদবিরে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। নিয়মিত সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সচিবলয়ে মন্ত্রী কিংবা সচিবের দফতরে তদবির করতে দেখা যায় তাকে। একাধিক প্রকৌশলীর অভিযোগ, চলতি দায়িত্ব পেয়েই তিনি সবার সঙ্গে দুরব্যবহার ও ধমক দিয়ে সব সময় কথা বলেন।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক বাকি বিল্লাহ অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশ্ন করলেই প্রধান প্রকৌশলী সব সময় হুমকি-ধামকি দেন। তিনি এখন গণপূর্তের এক মূর্তমান আতঙ্ক।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD