চাপের মুখে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দিতে বলল বিসিসিআই

কয়েক মৌসুম ধরে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে খেলছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তবে আসন্ন আইপিএলে তার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভারতের কয়েকটি কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের টানা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এবার বিষয়টি গড়িয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই পর্যন্ত।
বিজ্ঞাপন
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) গত কয়েক মৌসুম ধরে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে খেলছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তবে আসন্ন মৌসুমে বাঁহাতি এই পেসারের আইপিএল ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ভারতের কয়েকটি কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের টানা আন্দোলনের পর এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই।
চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) তাদের স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই।
বিজ্ঞাপন
এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট অস্থিরতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেকেআরকে একজন খেলোয়াড় ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, মুস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চাইলে বিকল্প হিসেবে যেকোনো ক্রিকেটার দলে নিতে পারবে এবং এ বিষয়ে বোর্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ভারতের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াড চূড়ান্ত করতে নির্বাচক ও বোর্ড কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সভার আগেই গণমাধ্যমে মুস্তাফিজ প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ বিষয়ে দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য বিকেলে ভারতীয় দল ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেও এই ইস্যুতে বিসিসিআইয়ের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইনসাইডস্পোর্টকে বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব মাঠের ক্রিকেটে পড়বে না। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ কোনো শত্রু রাষ্ট্র নয় এবং বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধ করার মতো কোনো সরকারি নির্দেশনা তখনো আসেনি। সে সময় মুস্তাফিজের আইপিএলে খেলা নিয়ে বোর্ড আশাবাদী ছিল।
বিজ্ঞাপন
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব ক্রীড়াঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তার আঁচ লেগেছে আইপিএলেও। এ পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজের আইপিএল ভবিষ্যৎ নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
আইপিএলের ইতিহাসে বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ২০ কোটি রুপিতে এবারের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্সে ডাক পান মুস্তাফিজ। এর আগে তিনি আইপিএলের আটটি আসরে পাঁচটি ভিন্ন দলের হয়ে খেলেছেন।
বিজ্ঞাপন
মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার ঘটনায় কেকেআরের মালিক শাহরুখ খানকেও প্রকাশ্যে আক্রমণ করেছেন কট্টরপন্থী বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা ভারতে এলে বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপদে বেরোতে পারবেন না। একই সঙ্গে শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
এ ছাড়া শিবসেনা নেতা সঞ্জয় নিরুপমও মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান। এএনআইকে তিনি বলেন, বর্তমানে ভারতের জনগণ বাংলাদেশের প্রতি ক্ষুব্ধ। এমন পরিস্থিতিতে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে এলে তিনি জনরোষের শিকার হতে পারেন। তাই শাহরুখ খানের প্রতি অনুরোধ—বড় কোনো ঝুঁকির আগেই মুস্তাফিজকে দলে না রাখা হোক।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক চাপ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত—এই তিনের টানাপোড়েনে পড়ে আসন্ন আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হলো।








