আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান তামিম ইকবাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান অ্যাড-হক কমিটির নেতৃত্বে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর ১১ সদস্যের এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ক্রিকেটভিত্তিক একটি মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তামিম জানান, জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব আর বোর্ড পরিচালনা সম্পূর্ণ ভিন্ন দায়িত্ব। তার মতে, অধিনায়ক হিসেবে শুধু মাঠ ও দল নিয়ে ভাবতে হয়, কিন্তু বোর্ড সভাপতির ক্ষেত্রে পুরো ক্রিকেট কাঠামো—খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও প্রশাসন—সবকিছু বিবেচনায় রাখতে হয়। এখানে আবেগের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।
নিজের খেলোয়াড়ি অভিজ্ঞতা বর্তমান দায়িত্বে সহায়ক বলে মনে করেন তামিম। তিনি বলেন, ড্রেসিংরুমে থাকা অবস্থায় খেলোয়াড়দের বোর্ড নিয়ে চিন্তা ও প্রত্যাশা কাছ থেকে দেখেছেন, যা এখন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। খেলোয়াড় ও বোর্ডের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল, তা তিনি স্বীকার করলেও কোনো পক্ষকেই দোষারোপ করতে চান না।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, বোর্ডের বাইরে থাকাকালে যেসব ছোট ছোট সমস্যার সমাধান দরকার ছিল বলে মনে হয়েছে, সেগুলো এখন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় দীর্ঘমেয়াদি সময় না থাকলেও ছোট উদ্যোগের মাধ্যমেই পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মত তার।
তামিম ইকবাল বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) এবং অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের লক্ষ্য ও প্রয়োজন তুলে ধরতে চান তিনি। তার ভাষায়, ক্রিকেট একটি বৈশ্বিক পরিবার, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন: আইসিসির ওয়েবসাইটে ওঠেনি তামিমের নাম!
বিজ্ঞাপন
দর্শকসেবার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্টেডিয়ামে টিকিটমূল্য, খাবারের দাম, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং টয়লেটসহ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেন তামিম। বিশেষ করে মিরপুর স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নারী ক্রিকেট নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। উন্নয়নের আগে নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে নির্বাচক ও কোচদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন তামিম। তবে সার্বিক পর্যবেক্ষণ রাখার কথাও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সামনে আনা এবং তাদের নিয়ে ইতিবাচক প্রচারণা জরুরি।
আরও পড়ুন: রোমাঞ্চকর সিরিজের ইঙ্গিত ল্যাথামের
আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তামিম ইকবাল। তার লক্ষ্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।








