Logo

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ভিড়ে জার্সির বাজারে উত্তাপ

profile picture
ক্রীড়া প্রতিবেদক
১৬ মে, ২০২৬, ১৭:৩৩
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ভিড়ে জার্সির বাজারে উত্তাপ
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো বাকি কয়েক সপ্তাহ। তবে মাঠের খেলা শুরুর আগেই বাংলাদেশে শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা। বিশেষ করে রাজধানীর জার্সির বাজারগুলোতে এখন থেকেই জমে উঠেছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রতিযোগিতা। প্রিয় দলের পতাকা টানানো থেকে শুরু করে জার্সি কেনা—সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়ছে উৎসবের আমেজ।

বিজ্ঞাপন

আগামী ১১ জুন ২০২৬ থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ। এবারই প্রথম ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক এই আয়োজন ঘিরে বাংলাদেশেও ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা।

রাজধানীর গুলিস্তান, যা দেশের অন্যতম বড় পাইকারি জার্সির বাজার হিসেবে পরিচিত, সেখানে এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে জমজমাট বেচাকেনা। মার্কেটের ভেতর থেকে শুরু করে আশপাশের অলিগলি ও ফুটপাত—সবখানেই চোখে পড়ছে বিভিন্ন দেশের জার্সি সাজিয়ে রাখা দোকান।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারও বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের জার্সির। এর পাশাপাশি পর্তুগাল, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানির জার্সিও বিক্রি হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। সমর্থকেরা নিজেদের পছন্দের দলের জার্সি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দিচ্ছেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় অংশ নিচ্ছেন এবং বিশ্বকাপ ঘিরে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী মো. শফিকুর রহমান জানান, বিশ্বকাপ এলেই জার্সির ব্যবসা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বছরের অন্য সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ও স্থানীয় ক্লাব ফুটবলের জার্সি বিক্রি হলেও বিশ্বকাপ মৌসুমে বিদেশি দলের জার্সির চাহিদাই বেশি থাকে।

তিনি বলেন, বর্তমানে তার দোকানে ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মানের জার্সি পাওয়া যাচ্ছে। চীনা আমদানিকৃত জার্সির দাম গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে বলেও জানান তিনি। আগে যেসব জার্সি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেগুলোর দাম ৯০০ টাকায় পৌঁছেছে। বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসবে, দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

জার্সির পাশাপাশি ফুটবল, বুট ও অন্যান্য খেলার সামগ্রীর বিক্রিও বেড়েছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

আরেক বিক্রেতা শাওন বলেন, গত মাস থেকেই ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তিনি জানান, পাইকারি আকারে দেশের বিভিন্ন জেলায় জার্সি পাঠানো হচ্ছে। দেশীয় জার্সির দাম ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে হলেও আমদানিকৃত প্লেয়ার ভার্সনের জার্সি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে বারোশ টাকায়।

গুলিস্তানের মূল মার্কেটের বাইরে ফুটপাতেও দেখা গেছে অস্থায়ী জার্সির দোকানের সারি। অনেক বিক্রেতাই সারা বছর অন্য ব্যবসা করলেও বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মৌসুমি জার্সি বিক্রিতে নেমেছেন।

বিজ্ঞাপন

ফুটপাতে জার্সি বিক্রি করা নাইমুল ইসলাম জানান, বিশ্বকাপ সামনে রেখে এবার নতুন করে জার্সির ব্যবসা শুরু করেছেন তিনি। তার দোকানে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন দেশের জার্সি পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, নিজের পছন্দ আর্জেন্টিনা হলেও ক্রেতাদের মধ্যে ব্রাজিলের জার্সির চাহিদাও অনেক বেশি। এছাড়া পর্তুগাল ও ফ্রান্সের জার্সিও ভালো বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব ব্যবসায়ীর অভিজ্ঞতা ইতিবাচক নয়। প্রায় তিন দশক ধরে খেলার সামগ্রীর ব্যবসা করা কোয়ালিটি স্পোর্টসের মালিক আব্দুল লতিফ জানান, আগের তুলনায় বিক্রি কমে গেছে। তিনি বলেন, খেলার মাঠের সংকট ও তরুণদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় ব্যবসায় আগের সেই প্রাণ নেই। গত বছর থেকেই লোকসানের মধ্যে আছেন বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

তার দোকানে দেশীয় জার্সি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে এবং আমদানিকৃত জার্সি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবছেন বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

এদিকে জার্সি কিনতে গুলিস্তানে আসা শাহরিয়ার পারভেজ ইমন বলেন, তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও তার ছেলে ব্রাজিল দলের ভক্ত। তাই দুজনের জন্য আলাদা দুই দলের জার্সি কিনতেই তিনি গুলিস্তানে এসেছেন। তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের জার্সি পাওয়ায় এখানেই কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানান তিনি।

বিশ্বকাপের খেলা মাঠে গড়ানোর আগেই রাজধানীর জার্সির বাজারে শুরু হয়েছে ফুটবল উৎসব। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল—ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD