Logo

বিশ্বকাপ : ইরানের অনেক কর্মীকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
৭ জুন, ২০২৬, ১৫:১১
বিশ্বকাপ : ইরানের অনেক কর্মীকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, তাদের জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তা ও স্টাফ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন দাবি করেছে, খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা ইতোমধ্যে অনুমোদন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরানের জাতীয় দলের সব খেলোয়াড় এবং অপরিহার্য সহায়ক সদস্যদের ভিসা প্রদান করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলসে ইরানের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভিসা প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যাতে ভিন্ন উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকার কথাও জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে খেলাধুলার মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। দূতাবাসের দাবি, ইরান দলের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তিগত উপদেষ্টাদের একটি বড় অংশের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং মিডিয়া বিভাগের একজন কর্মকর্তাসহ মোট ১৫ জন প্রশাসনিক প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষ করে ইরানের জাতীয় দল শনিবার তুরস্ক থেকে মেক্সিকোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে দলটি মেক্সিকোকে বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করবে। দীর্ঘ প্রায় ২০ ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে তাদের রোববার ভোরে সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ভিসা শর্ত অনুযায়ী ইরানি দলকে শুধুমাত্র ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে এবং খেলা শেষ হওয়ার পর একই দিন দেশ ত্যাগ করতে হবে।

এক বিবৃতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে ‘বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির অভিযোগ, ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া চেতনার পরিপন্থী।

এই পরিস্থিতিতে ইরানি কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

ইরান ২০২৫ সালের মার্চে বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও দুই দেশের বৈরী সম্পর্কের কারণে এবার বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে আয়োজক দেশের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধাবস্থায় থাকা একটি দেশের জাতীয় দল একই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক জটিলতার কারণেই ইরান সম্প্রতি তাদের প্রস্তুতি শিবির যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এখনো স্পষ্ট করেনি যে, টুর্নামেন্ট চলাকালে ইরানি খেলোয়াড়, কর্মকর্তা বা সরকারি প্রতিনিধিদলের ওপর কোনো অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না।

তবে সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে আগত দর্শনার্থী, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। দেশটির ১১টি আয়োজক শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু।

বিজ্ঞাপন

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, ইরানের প্রতিনিধি দলে এমন কোনো ব্যক্তি থাকতে পারবেন না, যাদের সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।

আইআরজিসি ইরানের সামরিক কাঠামোর একটি প্রভাবশালী অংশ হিসেবে পরিচিত। যদিও ইরানের জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার অংশ হিসেবে এই বাহিনীর অধীনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের সামনে রয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। দলটি ক্যালিফোর্নিয়ায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামবে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ভিসা ইস্যু নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক বিশ্বকাপের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD