Logo

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান, তবু থামেনি বিশ্বকাপ স্বপ্ন

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
১৫ জুন, ২০২৬, ২০:৪২
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান, তবু থামেনি বিশ্বকাপ স্বপ্ন
ছবি : জনবাণী গ্রাফিক্স

যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে ইরান ফুটবল দল। অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা, ভিসা জটিলতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বমঞ্চে দলটির উপস্থিতি ঘিরে শুরু থেকেই ছিল নানা প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত সব বাধা কাটিয়ে ইরান মাঠে নামছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে, তবে অস্বস্তি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন এখনও ভিসা পাননি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দলটির মূল ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বদলে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় স্থাপন করা হয়েছে। এই জটিলতা নিয়ে ফিফার প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন ইরান দলের একাধিক সদস্য। তবুও আগামী ম্যাচে ইরানকে ফেভারিট হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

দেশের ভেতরে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই ম্যাচকে অনেকেই দেখছেন স্বস্তির এক উপলক্ষ হিসেবে। ফুটবলকে ঘিরে জাতিকে একত্রিত করার প্রত্যাশা থেকেই ইরান সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মাঠে নামতে চাইছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে কয়েক মাসের উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির অগ্রগতির খবরও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খেলাধুলার ইতিহাসে দেখা গেছে, জাতীয় সংকটের সময় অনেক দলই মাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। সেই অনুপ্রেরণাই এবার কাজ করতে পারে ইরানের ক্ষেত্রেও।

বিজ্ঞাপন

ইতিহাসে এমন উদাহরণও আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিধ্বস্ত পশ্চিম জার্মানি ১৯৫৪ সালে ‘মিরাকল অব বার্ন’ নামে পরিচিত অবিশ্বাস্য সাফল্যে বিশ্বকাপ জেতে। শক্তিশালী হাঙ্গেরিকে হারিয়ে তাদের শিরোপা জয় ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্জাগরণের প্রতীক।

আবার ১৯৮৬ সালে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরাক প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে জাতিকে ঐক্যের বার্তা দেয়। ১৯৯৮ সালে স্বাধীনতার পর অভিষেক বিশ্বকাপেই ক্রোয়েশিয়া পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে এবং শেষ করে তৃতীয় হয়ে। আর চলতি আসরে দীর্ঘ ৫২ বছর পর ফিরে এসেছে হাইতি, দেশটিতে গ্যাং সহিংসতা ও অস্থিরতার মধ্যেও বিশ্বমঞ্চে ফিরেই তারা আলোচনায় এসেছে।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে ইতিহাস বলছে, কঠিন সময়েই অনেক দল নিজেদের সেরা রূপে ফিরেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ইরানের কাছ থেকেও প্রত্যাশা বড় কিছু। এখন দেখার বিষয়, যুদ্ধ ও অস্থিরতার ছায়া পেরিয়ে তারা কতটা দূর যেতে পারে বিশ্বকাপে—বিশেষ করে নকআউট পর্বে পৌঁছানোর লক্ষ্য পূরণ করতে পারে কি না।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD