৬৪ বছরের রেকর্ড ভাঙার মিশন নিয়ে বিশ্বকাপে নামছে আর্জেন্টিনা

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন এক ইতিহাস রচনার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালে কাতারে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর পর এবার তাদের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে বিরল কীর্তির অংশ হওয়া।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে খুব কম দলই শিরোপা ধরে রাখতে পেরেছে। ইতালি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে পরপর দুই আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। পরে ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে একই সাফল্য অর্জন করে। এরপর গত ছয় দশকেরও বেশি সময়ে আর কোনো দেশ বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের দখলে রাখতে পারেনি। ফলে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সামনে সুযোগ রয়েছে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি টানার।
দলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম অবশ্যই অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়ের জন্য আসন্ন বিশ্বকাপ হতে পারে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় মঞ্চ। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করলেও আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো তার জন্য হবে অনন্য এক অর্জন। তাই পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে মেসির দিকে।
বিজ্ঞাপন
কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে। দলটির মূল কাঠামোও প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গোলপোস্টে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের নির্ভরতা, রক্ষণভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর দৃঢ়তা, মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সৃজনশীলতা এবং আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজের কার্যকারিতা দলটিকে অন্যতম পরিপূর্ণ স্কোয়াডে পরিণত করেছে।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও আর্জেন্টিনা ছিল দারুণ ছন্দে। দক্ষিণ আমেরিকার কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে তারা ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের মাধ্যমে দলটি নিজেদের আত্মবিশ্বাস আরও শক্তিশালী করেছে। সাম্প্রতিক সাফল্যগুলো প্রমাণ করে, আর্জেন্টিনা এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ও ভারসাম্যপূর্ণ দলগুলোর একটি।
তবে সবকিছুর মাঝেও কিছু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা তুলনামূলক কম শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বেশি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। ফলে উচ্চচাপের ম্যাচে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষ শক্তিগুলোর বিপক্ষে তাদের প্রস্তুতির প্রকৃত মান কতটা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে ফ্রান্স, স্পেন, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড কিংবা পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নকআউট পর্বে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হতে পারে স্কালোনির শিষ্যদের। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক দৃঢ়তা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির পাশাপাশি আর্জেন্টিনার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ঘিরে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে বিভিন্ন শীর্ষ ক্লাব আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে খবর রয়েছে। যদিও এসব গুঞ্জন জাতীয় দলের প্রস্তুতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার জন্য কেবল আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি হতে পারে ইতিহাস গড়ার এক অনন্য সুযোগ। শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ এবং টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন—সবকিছু মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দল হিসেবে আসরে নামবে আকাশি-সাদা জার্সিধারীরা।
এখন দেখার বিষয়, আর্জেন্টিনা কি সত্যিই ৬৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে, নাকি তাদের স্বপ্ন থামিয়ে দেবে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জার।








