Logo

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ধসের মাশুল গুনল টাইগাররা

profile picture
ক্রীড়া প্রতিবেদক
১৭ জুন, ২০২৬, ১৭:৩৪
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ধসের মাশুল গুনল টাইগাররা
ছবি: সংগৃহীত

আজহার মাহমুদের অধীনে নতুন যুগের শুরুটা সুখকর হলো না বাংলাদেশের। চট্টগ্রামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫ উইকেটের হার মেনেছে স্বাগতিকরা। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে না পারায় শেষ পর্যন্ত বোলারদের লড়াইও কাজে আসেনি।

বিজ্ঞাপন

টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নতুন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। তবে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত শেখ মেহেদী হাসানের অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংসে ভর করে ১৯ ওভারে ১৩১ রানেই অলআউট হয় টাইগাররা। জবাবে ১০ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।

১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা। দলীয় ১৩ রানের মাথায় জশ ইংলিসকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। তবে উইকেট হারালেও রান তোলার গতি কমায়নি অস্ট্রেলিয়া। পরে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে মিচেল মার্শ বিদায় নিলেও পাওয়ার প্লেতে ৪৭ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা।

বিজ্ঞাপন

ওয়ানডে সিরিজের দুর্দান্ত ফর্ম টি-টোয়েন্টিতেও ধরে রাখেন কুপার কনোলি। সর্বশেষ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২৭ বলে ৪৭ রান করেন। অর্ধশতক না পেলেও দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। তাকে ফিরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেটের দেখা পান অভিষিক্ত আবদুল গাফফার সাকলাইন।

মাঝে এক ওভারের ব্যবধানে আরও কয়েকটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। শেখ মেহেদীর বলে লং অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টিম ডেভিড। এরপর রিশাদ হোসেন আউট করেন অভিষিক্ত নিখিল চৌধুরীকে। মন্থর ব্যাটিং করা ম্যাথু রেনশোকেও সাজঘরে ফেরান সাকলাইন। তবে এসব উইকেট শুধু হারের ব্যবধানই কিছুটা কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট শিকার করেন সাকলাইন। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। কিন্তু সেই সম্ভাবনা দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়। দলীয় ২৬ রানের সময় তানজিদ বিদায় নেন। এরপর ৩৯ রান করে ফেরেন সাইফ। তার বিদায়ের পর অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।

এক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকায় রান তোলার গতি কমে যায়, পাশাপাশি বড় জুটির অভাবও ভোগায় বাংলাদেশকে। অস্ট্রেলিয়ার স্পিনাররা মাঝের ওভারগুলোতে চাপে ফেলে কার্যত ছন্নছাড়া করে দেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ৭৮ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।

এরপর অভিষিক্ত সাকলাইন একটি ছক্কা হাঁকিয়ে কিছুটা আশা জাগালেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রিশাদ হোসেন দ্রুত ফিরে গেলে ১০০ রান পূর্ণ হওয়ার আগেই ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। একপর্যায়ে পুরো ২০ ওভার ব্যাট করতে পারবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দেয়।

বিজ্ঞাপন

শেষ দিকে শেখ মেহেদী কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। নিচের সারির ব্যাটারদের নিয়ে ইনিংস টেনে নেওয়ার পাশাপাশি দলের সংগ্রহও বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। তার অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংস এবং মোস্তাফিজ ও শরিফুলের ছোট ছোট অবদান বাংলাদেশকে তিন অঙ্কের ঘর পার করতে সাহায্য করে। তবে তা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর গড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। তিন উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। সমান তিনটি উইকেট নেন জুয়েল

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD