একই ব্যবধানে জিতল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল, তবে কার জয় দাপুটে?

আন্তর্জাতিক ফুটবলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মাঠের লড়াই মানেই ভক্তদের মাঝে টানটান উত্তেজনা। সরাসরি মুখোমুখি না হলেও দূর থেকে দুই পরাশক্তির মাঠের পারফরম্যান্সের তুলনা ফুটবল বিশ্বকে সবসময়ই বুদ করে রাখে। এবার মাঠের লড়াইয়ে এক অদ্ভুত সমীকরণ মেলালো দুই দলই।
বিজ্ঞাপন
নিজেদের ম্যাচে একই ব্যবধানে (৩-০) জয় পেয়েছে লাতিন আমেরিকার এই দুই ফুটবল জায়ান্ট। তবে প্রতিপক্ষের শক্তির গভীরতা এবং একক নৈপুণ্যের বিচারে আর্জেন্টিনা কিছুটা এগিয়েই থাকবে।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৩১তম দল আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। র্যাঙ্কিং ও শক্তির বিচারে আলজেরিয়া যথেষ্ট শক্ত প্রতিপক্ষ হলেও আলবিসেলেস্তেদের আক্রমণভাগের সামনে তারা পাত্তাই পায়নি। ম্যাচটিতে এককভাবে আলো কেড়ে নেন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি।
বিজ্ঞাপন
পুরো ম্যাচ জুড়ে জাদুকরী ফুটবল উপহার দিয়ে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে একাই ভেঙে চুরমার করেন তিনি। দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে দলকে এনে দেন ৩-০ গোলের বড় জয়। মেসির এই অনবদ্য পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, বয়সকে স্রেফ সংখ্যা বানিয়ে এখনও যেকোনো বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের স্বস্তিদায়ক জয় তুলে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ম্যাথিউস কুনহার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এক গোলে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে সেলেসাওরা।
তবে এই জয়ের পরও আলোচনায় উঠে এসেছে প্রতিপক্ষের র্যাঙ্কিং। কারণ ব্রাজিল যাদের হারিয়েছে, সেই হাইতির অবস্থান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৮৭তম স্থানে। তুলনামূলকভাবে আলজেরিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলে থাকে।
বিজ্ঞাপন
সংখ্যার বিচারে দুই দলের জয় সমান হলেও প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় আর্জেন্টিনার সাফল্যকে অনেকেই এগিয়ে রাখছেন। বিশেষ করে আলজেরিয়ার মতো তুলনামূলক শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিক আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের কার্যকারিতা আরও বেশি করে তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে ব্রাজিলের সমর্থকরা বলছেন, হাইতির বিপক্ষে জয়টি শুধু তিন পয়েন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং মরক্কোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্যও ছিল অপরিহার্য। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ব্রাজিল, যা দলের আক্রমণভাগের ছন্দ ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
বিজ্ঞাপন
দুই দলই ৩-০ ব্যবধানে জিতলেও ম্যাচের ভেতরের রসায়নে রয়েছে বড় তফাত। আর্জেন্টিনা আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল করতে সময় নিয়েছিল ম্যাচের ৭৬ মিনিট পর্যন্ত। বিপরীতে ব্রাজিল হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তিন গোলের কাজ শেষ করে ফেলে। ফলে একদল তুলনামূলক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়েছে, অন্যদল দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে।
আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। আর্জেন্টিনা যেখানে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা ৩১তম দল আলজেরিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে ৩ গোল দিয়েছে, সেখানে ব্রাজিল খেলেছে তলানির দিকে থাকা ৮৭তম দল হাইতির বিরুদ্ধে।
সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক। ব্রাজিলের জয়টি যেখানে দলগত প্রচেষ্টার ফসল, সেখানে আর্জেন্টিনার জয়টি ছিল পুরোপুরি 'মেসি ম্যাজিক'। প্রথম ম্যাচের এই পারফরম্যান্সের পর ফুটবল বিশ্বে আবারও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে—আসন্ন টুর্নামেন্টে কারা বেশি আধিপত্য দেখাবে, ব্রাজিলের দলীয় রসায়ন নাকি মেসির একক জাদুকরী ফর্ম?
বিজ্ঞাপন
আপাতত দুই দলই পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে, যা তাদের ভক্তদের বড় স্বস্তি দিচ্ছে। সামনের ম্যাচগুলোতে এই দুই পরাশক্তি তাদের জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








