রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো পর্তুগাল

বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি স্মরণীয় রাত কাটালেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইতিহাস গড়ে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি অর্জন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। তার জোড়া গোলে উজ্জীবিত হয়ে উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছে পর্তুগাল।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। দ্বিতীয় মিনিটেই ব্রুনো ফার্নান্দেসকে লক্ষ্য করে বাড়ানো বল উজবেকিস্তানের ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করে দিলে সম্ভাবনাময় একটি সুযোগ নষ্ট হয়। এরপর ব্রুনোর আরেকটি শট প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে অল্পের জন্য বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
পঞ্চম মিনিটে নুনো মেন্দেসের ক্রস থেকে সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে দূরের পোস্টে অবস্থান নেওয়া পর্তুগিজ অধিনায়ক বলের সঙ্গে ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি।
বিজ্ঞাপন
এক মিনিট পরই আসে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। জোয়াও কানসেলোর নিচু ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোনালদো। এই গোলের মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ছয়টি আসরে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পর্তুগাল। ফ্রি-কিক থেকে নুনো মেন্দেসের নিচু শট জালে জড়ালে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-০। এরপর ৩৯তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের দারুণ পাস ধরে ডান পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রোনালদো। এতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে গিয়ে ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে দেশের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা হন তিনি।
প্রথমার্ধে উজবেকিস্তান একবার বল জালে পাঠালেও সেই গোল টেকেনি। আক্রমণ গড়ার সময় কানসেলোর ওপর ফাউলের ঘটনা ভিএআরে ধরা পড়ায় গোল বাতিল করেন ম্যাচ কর্মকর্তা।
বিজ্ঞাপন
বিরতির আগে হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন রোনালদো। কানসেলোর ক্রস থেকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন খুশানোভ।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে পর্তুগাল। ৪৮ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের শক্তিশালী শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর রোনালদোর আরেকটি প্রচেষ্টা উজবেক গোলরক্ষক রুখে দেন, যদিও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হতো।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, উজবেকিস্তানও কয়েকটি আক্রমণে পর্তুগালকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে। ফায়জুল্লায়েভের বাঁকানো শট সহজেই সামাল দেন ডিওগো কোস্তা। এরপর শুকুশভের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৬০তম মিনিটে পর্তুগাল চতুর্থ গোলের দেখা পায়। ব্রুনো ফার্নান্দেসের কর্নার থেকে আসা বলে ফেলিক্সের ব্যাক-হিলের পর বল প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলরক্ষক আব্দুভোখিদ নেমাতভের আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালে ঢুকে যায়।
এরপর আরও দুবার হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। একবার তার শট ডিফ্লেক্ট হয়ে বাইরে চলে যায়, অন্যবার দুর্দান্ত হাফ-ভলি প্রতিহত করেন নেমাতভ।
বিজ্ঞাপন
৭৭ মিনিটে শোমুরোদভ উজবেকিস্তানের হয়ে ভালো একটি সুযোগ পেলেও তার হাফ-ভলি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের শেষ দিকে মাঠে নেমেই রাফা লেয়াও আক্রমণে প্রাণ ফেরান। প্রথম সুযোগটি কাজে লাগাতে না পারলেও পরে আর ভুল করেননি। ৮৭তম মিনিটে নেলসন সেমেদোর আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। তার গোলেই ৫-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পর্তুগাল।
আরও পড়ুন: রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড গোলে এগিয়ে পর্তুগাল
বিজ্ঞাপন
রোনালদোর রেকর্ডগড়া পারফরম্যান্স এবং দলের দাপুটে জয়ে নকআউট পর্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল পর্তুগাল।








