জর্ডানকে উড়িয়ে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ল আর্জেন্টিনা ও মেসি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে শুধু পূর্ণ তিন পয়েন্টই পায়নি আর্জেন্টিনা, বরং ম্যাচটি পরিণত হয়েছে একের পর এক রেকর্ড গড়ার মঞ্চে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই জয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ব্যক্তিগত ও দলীয়—দুই ক্ষেত্রেই ইতিহাসের নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার নজির স্থাপন করেছেন মেসি। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কোনো ফুটবলার এমন ধারাবাহিক গোল করার কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯-এ, যা তাকে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।
চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই ছয় গোল করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের এক আসরের গ্রুপ পর্বে ছয় গোল করা মাত্র পঞ্চম ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান। ১৯৯৪ সালের আসরে রাশিয়ার ওলেগ সেলেঙ্কোর পর এই কীর্তি গড়া প্রথম খেলোয়াড়ও তিনি।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচে একটি সরাসরি ফ্রি-কিক থেকেও গোল করেন মেসি। ফলে গত ছয় দশকের মধ্যে বিশ্বকাপে একাধিক সরাসরি ফ্রি-কিক গোল করা ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম যুক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে তার গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ছয়ে। এই অর্জনে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি রিভেলিনোকে ছাড়িয়ে গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে সর্বাধিক গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
দল হিসেবেও আর্জেন্টিনা ইতিহাসে বিশেষ একটি জায়গা করে নিয়েছে। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে একাধিক সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল করে গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে এমন কীর্তি গড়া মাত্র চতুর্থ দল হয়েছে তারা। এর আগে ১৯৬৬ সালে ব্রাজিল, ১৯৭৪ সালে যুগোস্লাভিয়া এবং ২০১০ সালে জাপান এই রেকর্ড গড়েছিল।
এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ পর্বে টানা তিনটি ম্যাচেই জয় নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি তাদের পঞ্চমবারের মতো প্রথম তিন ম্যাচ জয়ের ঘটনা। এর আগে ১৯৩০, ১৯৯৮, ২০১০ ও ২০১৪ সালের আসরে এমন সূচনা করলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতা সম্ভব হয়নি। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে দলটি।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অপরাজিত যাত্রাও আরও দীর্ঘ হয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত টানা নয়টি ম্যাচে হারেনি তারা। ২০০২ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে গড়া টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডের পর এটিই বিশ্বকাপে তাদের দ্বিতীয় দীর্ঘতম অপরাজিত ধারা।
ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজও এই ম্যাচে ব্যক্তিগত একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। বিশ্বকাপে নিজের নবম ম্যাচে এবং ১৭তম শট নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো গোলের দেখা পান তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে এটি তার ৩৮তম আন্তর্জাতিক গোল, যা তাকে দেশের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উন্নীত করেছে।
বিজ্ঞাপন
মাঝমাঠে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। জর্ডানের বিপক্ষে তিনি ১৫৪টি সফল পাস সম্পন্ন করেন, যা গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে কোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলারের সর্বোচ্চ সফল পাসের রেকর্ড। শুধু তাই নয়, একই সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপের যেকোনো খেলোয়াড়ের হিসাবেও এটি ষষ্ঠ সর্বোচ্চ সফল পাসের নজির।
সব মিলিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য শুধু একটি বড় জয় নয়, বরং ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেওয়া এক স্মরণীয় রাত। মেসির নেতৃত্বে দলটি যেভাবে একের পর এক রেকর্ড গড়ছে, তাতে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।








