Logo

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের তিন নায়ক

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:১৮
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের তিন নায়ক
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তিন ক্রিকেটারের—হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানজিদ হাসান তামিম। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে একের পর এক ধাক্কা আসে। নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম চোটে পড়ায় দলের বোলিং শক্তি অনেকটাই কমে যায়। তাসকিন আহমেদও ইনজুরির আশঙ্কায় শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে যাননি। হাসান মাহমুদ কাউন্টি থেকে ফিরে লিগে যোগ দিলেও সতীর্থদের চোটের কারণে সেখান থেকে দেশে ফিরে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেন।

মেহেদী হাসান মিরাজের দল শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হলেও দলের প্রয়োজনেই দেশে ফিরে আসেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্টে দলের হয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন মিরাজ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানজিদ হাসান তামিম। তিনজনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই ৯ উইকেটের বড় জয় পায় বাংলাদেশ।

প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট একাদশের কাছে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। ফলে মূল টেস্ট নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শঙ্কা ছিল। তার ওপর টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং নেওয়ায় বাংলাদেশের বোলারদের সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছিল।

কিন্তু শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে তাণ্ডব চালান হাসান মাহমুদ। তার সঙ্গে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। তানজিদ হাসান তামিম শুরুতেই স্টিভেন স্মিথের ক্যাচটি না ছাড়লে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর আরও কম হতে পারত। শেষ পর্যন্ত স্মিথের ৭১ রানের ইনিংসের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রান করতে সক্ষম হয়।

বিজ্ঞাপন

হাসান মাহমুদ তুলে নেন ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের প্রথমবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়েন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় ফাইফার, যার তিনটিই এসেছে দেশের বাইরে। তার বিধ্বংসী বোলিংয়েই মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় ইনিংসেও হাসানের দাপট অব্যাহত থাকে। শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে বোল্ড করেন তিনি। জ্যাক ওয়েদারল্যান্ডকে শূন্য রানে এবং পরে ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে দেন। এরপর শতরান করা ক্যামেরন গ্রিনকেও বোল্ড করেন হাসান। গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি।

ব্যাট হাতে তানজিদের ইতিহাস

বিজ্ঞাপন

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে আটকে দেওয়ার পর ব্যাট করতে নেমে অসাধারণ ইনিংস খেলেন তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র ২ রানে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাননি তিনি।

ধৈর্য ধরে ব্যাট করে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরি করার ইতিহাস গড়েন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তানজিদের ১০১ রানের ইনিংসের পাশাপাশি মুমিনুল হকের ৪৯, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ গড়তে সহায়তা করে। তবে তানজিদের শতরান ছাড়া ৪২৬ রানের সংগ্রহে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যেত।

এখানে হাসান মাহমুদের ব্যাটিং অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। আট নম্বরে নেমে তিনি করেন ১৪ রান, তবে খেলেন ৯২ বল। তার দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকার ফলে বাংলাদেশের ইনিংসকে বড় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়।

বল হাতে মিরাজের ঘূর্ণি

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের সাফল্যে মেহেদী হাসান মিরাজের অবদানও ছিল অসাধারণ। প্রথম ইনিংসে ১৫৪ বল মোকাবিলা করে ৬৫ রান করেন তিনি। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডদের মতো বোলারদের বিপক্ষে তার দৃঢ় ব্যাটিং বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ গড়তে সহায়তা করে।

দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন মিরাজ। স্টিভেন স্মিথকে রিটার্ন ক্যাচে ফিরিয়ে দেওয়ার দৃশ্য ছিল ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি।

মিরাজের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৮৪ রানে অলআউট হয়। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। সেই লক্ষ্য ৯ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী পেস, তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি এবং মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই এই ঐতিহাসিক জয়ের তিন কাণ্ডারি হিসেবে এই তিন ক্রিকেটারের নামই সবার আগে আসছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD