ইনজুরি টাইমে মার্তিনেল্লির গোলে জাপানকে টপকে এগিয়ে ব্রাজিল

নাটকীয় এক শেষ মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিজ্ঞাপন
প্রথমার্ধে এক গোলে পিছিয়ে থাকা ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যাওয়া রূপে মাঠে নামে। বিরতির সময় লুকাস পাকেতার পরিবর্তে এন্দ্রিককে নামিয়ে আক্রমণে গতি বাড়ান কোচ। সেই পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাবও পড়ে ম্যাচে।
৫৬তম মিনিটে কাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও জয়ের গোলের অপেক্ষায় ছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের ৯৬তম মিনিটে সেই অপেক্ষার অবসান হয়। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
এর আগে ২৯তম মিনিটে সানোর দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে এগিয়ে গিয়েছিল জাপান। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পেয়ে কাসেমিরোকে পেছনে ফেলে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি।
বিজ্ঞাপন
যদিও গোল হজমের আগ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের কাছেই। বলের দখলে স্পষ্ট আধিপত্য বজায় রেখে একের পর এক আক্রমণ করলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। ব্রুনো গিমারায়েস, মাতেউস কুনহা ও লুকাস পাকেতার একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি।
প্রথমার্ধের শেষদিকে জাপানও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার ব্রাজিলের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে। রিতসু দোয়ান ও জুনিয়া ইতোর সমন্বিত আক্রমণ থেকে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হলেও কোনোভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় ব্রাজিল।
বিরতির পর সমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৫০তম মিনিটে এন্দ্রিকের পাস থেকে সুযোগ তৈরি হলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছে বল পৌঁছানোর আগেই সুজুকি সেটি ধরে ফেলেন।
বিজ্ঞাপন
দুই মিনিট পর দানিলোর ক্রস থেকে ব্রুনো গিমারায়েসের শক্তিশালী হেড অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন জাপানের গোলরক্ষক। ৫৫তম মিনিটে কাসেমিরোর হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন তোমিয়াসু। একই আক্রমণে দ্বিতীয়বারও গুরুত্বপূর্ণ ব্লক করে দলকে রক্ষা করেন তিনি।
তবে এক মিনিট পরই আর রক্ষা হয়নি। কাসেমিরো কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে ব্রাজিলকে ১-১ সমতায় ফেরান।
সমতা ফেরানোর পর জয়ের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ৫৯তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একক নৈপুণ্যে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককেও পরাস্ত করেছিলেন। কিন্তু তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
বিজ্ঞাপন
৭৫তম মিনিটে এন্দ্রিকের দারুণ ড্রিবলিং থেকে তৈরি হয় আরেকটি সুযোগ। তিনি ভিনিসিয়ুসকে বল দিলেও শেষ পাসটি কাজে লাগাতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। পরে গ্যাব্রিয়েলের ক্রস থেকে রায়ানের হেডও সুজুকির গায়ে লেগে কর্নার হয়ে যায়।
শেষ দিকে জাপানের রক্ষণভাগ দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখলেও ব্রাজিল আক্রমণের চাপ অব্যাহত রাখে। ৮৯তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হয়। এরপর ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলেই নাটকীয় জয়সূচক লিড পায় ব্রাজিল।








