Logo

শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলের জাদু, দুর্দান্ত কামব্যাকে জাপানের বিদায়

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
৩০ জুন, ২০২৬, ০১:১০
শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলের জাদু, দুর্দান্ত কামব্যাকে জাপানের বিদায়
ছবি: সংগৃহীত

শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত লড়াইয়ে ম্যাচে ফিরে আসে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ের ৯৬তম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে জয় নিশ্চিত করে সেলেসাওরা।

বিজ্ঞাপন

প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পর বিরতির সময় দলে পরিবর্তন আনেন কোচ। লুকাস পাকেতার জায়গায় মাঠে নামেন এন্দ্রিক। এই পরিবর্তনের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ব্রাজিল এবং একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে।

অবশেষে ৫৬তম মিনিটে কাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর জয়সূচক গোলের খোঁজে আক্রমণের চাপ আরও বাড়ায় তারা। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট কর্নারে পরিণত হলেও গোলের দেখা মেলেনি। তবে ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি জালের দেখা পেয়ে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই ধরে রেখে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে ব্রাজিল।

এর আগে ম্যাচের ২৯তম মিনিটে সানোর দুর্দান্ত দূরপাল্লার গোলে এগিয়ে যায় জাপান। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে কাসেমিরোকে পেছনে ফেলে বক্সের বাইরে থেকেই ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গোল হজমের আগ পর্যন্ত পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল ব্রাজিলের। বলের দখল, পাসিং ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোল করতে পারেনি তারা। ম্যাচের শুরুতেই ব্রুনো গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনহা ও লুকাস পাকেতার একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার ব্রাজিলকে চাপে ফেলে জাপান। রিতসু দোয়ান ও জুনিয়া ইতোর সমন্বিত আক্রমণ থেকে বিপজ্জনক মুহূর্ত তৈরি হলেও ব্রাজিলের রক্ষণভাগ সেগুলো সামাল দেয়।

বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫০তম মিনিটে এন্দ্রিকের পাস থেকে সুযোগ তৈরি হলেও সুজুকি দ্রুত এগিয়ে এসে বল নিয়ন্ত্রণে নেন। দুই মিনিট পর দানিলোর ক্রস থেকে ব্রুনো গিমারায়েসের হেড অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন জাপানি গোলরক্ষক।

বিজ্ঞাপন

৫৫তম মিনিটে কাসেমিরোর কাছ থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচান তোমিয়াসু। প্রথমে গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন, পরে একই আক্রমণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক করেন তিনি। তবে এক মিনিট পর আর দলকে রক্ষা করতে পারেননি। কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো।

গোলের পর আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। ৫৯তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একক নৈপুণ্যে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নিলেও বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৭৫তম মিনিটে এন্দ্রিকের চমৎকার ড্রিবলিং থেকে তৈরি হওয়া সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিয়ুস।

এর কিছুক্ষণ পর গ্যাব্রিয়েলের ক্রস থেকে রায়ানের হেড সুজুকির গায়ে লেগে কর্নার হয়ে যায়। শেষ দিকে জাপান রক্ষণে দৃঢ়তা দেখালেও ব্রাজিল আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। অবশেষে যোগ করা সময়ের শেষ দিকে মার্তিনেল্লির গোলেই দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD