Logo

বাবার মৃত্যুশোকে পেনাল্টিতে শট নিলেন না ফুটবলার

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪১
বাবার মৃত্যুশোকে পেনাল্টিতে শট নিলেন না ফুটবলার
ছবি: সংগৃহীত

সেনেগালের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম। তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন দলটির তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। অতিরিক্ত সময়ে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি নিজে না নিয়ে সতীর্থ ইউরি টিলেমান্সকে দায়িত্ব দেন তিনি। পরে নিজের এমন সিদ্ধান্তের পেছনের আবেগঘন কারণও তুলে ধরেন এই ফরোয়ার্ড।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো টানা গোল করে দলের প্রত্যাবর্তনের সূচনা করেন লুকাকু। অতিরিক্ত সময়ে বেলজিয়াম যখন পেনাল্টি পায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা হচ্ছিল শটটি নেবেন তিনিই। কিন্তু বল হাতে নিয়েও শেষ পর্যন্ত সেটি ইউরি টিলেমান্সের হাতে তুলে দেন। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন টিলেমান্স।

ম্যাচ শেষে লুকাকু বলেন, চাইলে তিনি নিজেই পেনাল্টি নিতে পারতেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর মানসিকভাবে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেননি। তাই তিনি মনে করেছেন, সেই মুহূর্তে দলের স্বার্থে টিলেমান্সের শট নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষায়, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয়ই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজের পরিবর্তে সতীর্থকে দায়িত্ব দিয়ে তিনি দলের সাফল্যকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৫৮ বছর বয়সে মারা যান লুকাকুর বাবা রজার লুকাকু। তিনি জায়ারের (বর্তমান কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র) সাবেক জাতীয় দলের ফুটবলার ছিলেন। বাবার মৃত্যু লুকাকুর জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। একই সময়ে ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলির হয়ে তার মৌসুমও প্রত্যাশামতো কাটেনি। সাতটি ম্যাচ খেলে মাত্র একটি গোল করতে পেরেছিলেন তিনি।

চলমান বিশ্বকাপেও শুরুটা ভালো হয়নি লুকাকুর। প্রথম দুই ম্যাচে গোলের দেখা পাননি। তবে শেষ দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে নিউজিল্যান্ড ও সেনেগালের বিপক্ষে গোল করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুটি গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধের ৪১তম মিনিটে।

বিজ্ঞাপন

নিজের ছন্দে ফেরার বিষয়ে আবেগাপ্লুত লুকাকু বলেন, তার বিশ্বাস, ওপর থেকে বাবা তাকে শক্তি জুগিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে বাবার আশীর্বাদই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন তিনি।

শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর বেলজিয়ামের সামনে এখন স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ। লুকাকুর মতে, সেনেগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয় পাওয়ায় দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সেনেগাল প্রযুক্তিগত, কৌশলগত ও শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় সহজ ছিল না। তবে বেলজিয়াম ম্যাচজুড়ে প্রেসিংয়ের তীব্রতা বাড়িয়েছে, বল দখলে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছে এবং সেই কারণেই কাঙ্ক্ষিত জয় এসেছে।

লুকাকুর বিশ্বাস, এমন কঠিন ম্যাচে অর্জিত জয় শুধু পরবর্তী পর্বের জন্য আত্মবিশ্বাসই বাড়াবে না, বরং দলের খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্যও আরও সুদৃঢ় করবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD