Logo

সিনেমাকেও হার মানাবে হ্যারি কেনের প্রেমকাহিনী

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
২ জুলাই, ২০২৬, ২০:১১
সিনেমাকেও হার মানাবে হ্যারি কেনের প্রেমকাহিনী
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন। মাঠে গোল করে যেমন আলোচনায়, তেমনি ব্যক্তিজীবনের প্রেমের গল্পও নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে সমর্থকদের মধ্যে। শৈশবের বন্ধুত্ব থেকে শুরু হওয়া তার ভালোবাসার গল্প অনেকের কাছেই যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।

বিজ্ঞাপন

নকআউট পর্বে কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও হ্যারি কেনের জোড়া গোলে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। মাঠে তার নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্স যখন প্রশংসিত হচ্ছে, ঠিক তখনই আলোচনায় এসেছে স্ত্রী কেটি গুডল্যান্ডের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমকাহিনী।

পূর্ব লন্ডনে স্কুলে পড়াকালীন বন্ধুত্ব থেকে যা শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে রূপ নিয়েছে আজীবনের বন্ধনে ও একটি সুখী পরিবারে।

বিজ্ঞাপন

হ্যারি কেন এবং কেটি গুডল্যান্ডের প্রথমবার দেখা হয়েছিল পূর্ব লন্ডনের লার্কসউড প্রাইমারি স্কুলে। তখন কেনের বয়স ছিল মাত্র ১২ এবং কেটির ১১। ২০০৫ সালে ফুটবল কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যাম যখন তাদের চিংফোর্ড ফাউন্ডেশন স্কুলে এসেছিলেন, তখন এই খুদে জুটির সঙ্গে তিনি একটি ছবিও তোলেন। স্কুলের দিনগুলিতেই তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয় এবং ২০১২ সালে হাই স্কুলে ওঠার পর তারা ডেটিং শুরু করেন।

সম্পর্কের ওপর খ্যাতির নেতিবাচক প্রভাব ও চাপ কতটা পড়ে, তা নিয়ে কেন সবসময়ই খোলামেলা কথা বলেছেন। তার মতে, তারকা হওয়ার পর কে টাকার জন্য মিশছে আর কে ভালোবাসার জন্য, তা বোঝা কঠিন। তাই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন।

হ্যারি কেন বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান যে আমি আমার ছোটবেলার ভালোবাসাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি, যে আমার পুরো ক্যারিয়ার খুব কাছ থেকে দেখেছে।’

বিজ্ঞাপন

কেটি গুডল্যান্ড ১৯৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। স্কুল শেষ করার পর তিনি লন্ডনের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১৪ সালে স্পোর্টস সায়েন্সে ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক পাস করেন। বর্তমানে তিনি একজন পেশাদার ফিটনেস কোচ ও ট্রেনার। ২০১৭ সালে বাহামাসে ছুটি কাটানোর সময় এই জুটির বাগদান সম্পন্ন হয় এবং ২০১৯ সালের গ্রীষ্মে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় কেন কেটিকে তার ‘সেরা বন্ধু’ ও ‘সোলমেট’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তারা এখন চার সন্তানের গর্বিত পিতামাতা। তাদের ঘরে রয়েছে আইভি জেন, ভিভিয়েন জেন, লুই হ্যারি এবং হেনরি এডওয়ার্ড। কেটির নিজস্ব লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে কেন সবসময় শ্রদ্ধা করেন। কেনের মতে, তার পরিবার এবং কেটির কঠোর পরিশ্রমই তাকে আজ বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ স্তরে সফল হতে এবং সবসময় মাটির কাছাকাছি থাকতে সাহায্য করেছে।

বিজ্ঞাপন

লার্কসউড প্রাইমারি স্কুলের ছোট্ট দুই বন্ধুর সেই পথচলা আজ সুখী দাম্পত্য জীবনে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে খ্যাতি, চাপ ও ব্যস্ততার মাঝেও তাদের সম্পর্ক প্রমাণ করে, সত্যিকারের ভালোবাসা সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড যখন শিরোপার লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন মাঠের বাইরের এই সম্পর্কই হয়তো হ্যারি কেনের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD