টাইব্রেকারের নাটকীয় জয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিসর

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মিসর। টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে মোহামেদ সালাহর দল। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে একমাত্রবার নকআউট পর্বে খেলেছিল মিসর। তবে সেই আসর ছিল সরাসরি নকআউট পদ্ধতিতে এবং হাঙ্গেরির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। ৯২ বছর পর আবার নকআউটে ফিরে এবার প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল আফ্রিকার দেশটি।
বিজ্ঞাপন
টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোর ছিল ১-১। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দলই ব্যবধান গড়তে পারেনি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে, যেখানে দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়ে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় মিসর।
টাইব্রেকারে শুরু থেকেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম শট নিতে এসে হ্যারি শুটারের প্রচেষ্টা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর চতুর্থ শট নেওয়া লুকাস হেরিংটনও ব্যর্থ হন। অন্যদিকে মিসরের হয়ে মাহমুদ সাবের, রামি রাবিয়া, মোহামেদ সালাহ ও আবদেল মাজিদ—চারজনই সফলভাবে বল জালে পাঠান। ফলে পঞ্চম শট নেওয়ার প্রয়োজনই হয়নি, তার আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় মিসরের ঐতিহাসিক জয়।
বিজ্ঞাপন
পুরো ম্যাচে খেলায় নিয়ন্ত্রণ ছিল মিসরের হাতেই। ৫৮ শতাংশ বল দখলে রাখা দলটি ১৪টি শটের মধ্যে চারটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া ১৬টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পারে মাত্র একটি। ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ইমান আশুরের দারুণ এক হেডে এগিয়ে যায় মিসর। তবে ৫৫তম মিনিটে মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন হলেও এটি মিসরের মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপ। আগের তিন আসরে তারা কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। এবার এক জয় ও দুই ড্র নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করার পর শেষ ৩২-এর ম্যাচেও দারুণ লড়াই উপহার দেয় সালাহর দল। চোট কাটিয়ে ফেরা সালাহ পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেন, আর তার সতীর্থরাও দলকে এগিয়ে নিতে সমানভাবে অবদান রাখেন।
বিজ্ঞাপন
টাইব্রেকারেও ঠান্ডা মাথায় চিপ শটে গোল করেন সালাহ। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মাতেন তিনি। আনন্দঘন মুহূর্তে মাথায় তুলে নেন মিসরীয় ফারাওয়ের প্রতীকী মুকুট। অন্যদিকে নকআউট পর্বে প্রথম জয়ের স্বপ্ন আরেকবার অধরাই থেকে যায় অস্ট্রেলিয়ার। তাদের অপেক্ষা বাড়ল আরও চার বছরের জন্য।
আগামী ৭ জুলাই আটালান্টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামবে মিসর। ওই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা অথবা কেপ ভার্দে।








