ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য সুখবর, ৯০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত নেইমার

চোট থেকে ফিরে চলমান বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার মাঠে নামেন নেইমার। তবে জাপানের বিপক্ষে, যে ম্যাচে ব্রাজিল শেষ ষোলো নিশ্চিত করে, সেখানে পুরো সময় বেঞ্চেই কাটাতে হয় এই তারকা ফরোয়ার্ডকে।
বিজ্ঞাপন
ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমার এখন পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো শারীরিকভাবে প্রস্তুত। পাশাপাশি দলে নিজের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে তার ইতিবাচক মনোভাবেরও প্রশংসা করেছেন অভিজ্ঞ এই ইতালিয়ান কোচ।
এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, “হ্যাঁ, এখন সে ৯০ মিনিট খেলতে পারবে।”
বিজ্ঞাপন
নেইমারকে নিয়ে তিনি আরও বলেন, “বেঞ্চে বসে কেউই খুশি থাকে না, নেইমারও নয়। কিন্তু তার আচরণ সব সময়ই ইতিবাচক। সে দারুণ অনুশীলন করছে, সতীর্থদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দলের সবাই তাকে পছন্দ করে। তার অসাধারণ সামর্থ্য রয়েছে, পাশাপাশি সে খুবই বিনয়ী। তাকে নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। স্বাভাবিকভাবেই সে খেলতে চায়, যেমন একজন ফুটবলারের চাওয়া উচিত।”
নেইমার কি একাদশে জায়গা পাওয়ার জন্য বিশেষ কোনো অনুরোধ করেছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি জানান, তেমন কিছু ঘটেনি। তবে তিনি বলেন, প্রতিদিনের অনুশীলনেই নেইমারের মাঠে নামার আগ্রহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কোচের মতে, একজন ফুটবলারের বেঞ্চে বসে সন্তুষ্ট থাকা উচিত নয়, তাই এই মানসিকতা ইতিবাচক।
জাপানের বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পর কেন তিনি দৌড়ে উদযাপনে অংশ নেননি, সেটিও ব্যাখ্যা করেন আনচেলত্তি। হাস্যরসের সুরে তিনি বলেন, “আমি দৌড়াতে গেলে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে। আমার বয়স এখন ৬৭ বছর।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও যোগ করেন, “শেষ বাঁশি বাজার আগে আমি কোনো ম্যাচ শেষ বলে মনে করি না। মার্তিনেল্লির গোলের পরও কয়েক মিনিট খেলা বাকি ছিল। অতীতে অনেকবার শেষ ভেবে পরে হতাশ হতে হয়েছে। তাই চূড়ান্ত বাঁশির আগে উদযাপন করি না।”
হালকা মেজাজে আনচেলত্তি আরও বলেন, তিনি ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী হলেও ম্যাচের আগে আলাদা করে প্রার্থনা করেন না। তার ভাষায়, “আমার বিশ্বাস, ঈশ্বরের ভাবার জন্য আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।”
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আগামী রোববার নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ দলে রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড। এই ম্যাচের বিজয়ী দল জায়গা করে নেবে কোয়ার্টার ফাইনালে।
বিজ্ঞাপন
নরওয়েকে নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, “বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। এখানে শুধু কৌশল বা কারিগরি দক্ষতা নয়, মানসিক দৃঢ়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তিনি আরও বলেন, “নরওয়ে শক্তিশালী একটি দল। তাদের দলে অনেক মানসম্পন্ন ফুটবলার রয়েছে এবং হালান্ড বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তাই ম্যাচটি সহজ হবে না। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী এবং ভালো একটি ম্যাচ খেলার প্রত্যাশা করছি।”








